যুদ্ধ বন্ধ ও পক্ষগুলোর মধ্যে সংকটপূর্ণ ইস্যুগুলো সমাধানে যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাবের জবাব দিয়েছে ইরান। মধ্যস্থতাকারী দেশ পাকিস্তানের মাধ্যমে গতকাল রোববার এই প্রস্তাব দেয় দেশটি। তবে, ইরানের দেওয়া জবাব পছন্দ হয়নি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের। তিনি প্রস্তাবকে ‘সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য’ বলে আখ্যা দিয়েছেন। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা গেছে।
ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা আইআরএনএর তথ্য অনুযায়ী, যুদ্ধ বন্ধে যুক্তরাষ্ট্রের দেওয়া প্রস্তাবের বিপরীতে ইরান তাদের প্রতিক্রিয়া মধ্যস্থতাকারী দেশ পাকিস্তানের মাধ্যমে পাঠিয়েছে। গতকাল রোববার প্রকাশিত ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রস্তাবিত পরিকল্পনা অনুযায়ী আলোচনার প্রথম পর্যায়ে যুদ্ধাবসান এবং পারস্য উপসাগর ও হরমুজ প্রণালিতে ‘সামুদ্রিক নিরাপত্তা’ নিশ্চিত করার ওপর জোর দেওয়া হবে।
ইরানের এক সরকারি সূত্র আল জাজিরাকে জানিয়েছেন, ‘আমাদের প্রতিক্রিয়া মূলত লেবাননসহ পুরো অঞ্চলের যুদ্ধ বন্ধ এবং ওয়াশিংটনের সঙ্গে মতপার্থক্য নিরসনের ওপর আলোকপাত করে।’ তিনি আরও জানান, তাঁদের দেওয়া উত্তরের মধ্যে ‘হরমুজ প্রণালি, পারমাণবিক কর্মসূচি এবং নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার-সংক্রান্ত আলোচনাও’অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। সূত্রটি আরও যোগ করেছে যে তেহরানের প্রতিক্রিয়া ‘বাস্তবসম্মত এবং ইতিবাচক’। তিনি বলেন, ‘আমাদের প্রতিক্রিয়ায় ওয়াশিংটন যদি ইতিবাচক সাড়া দেয়, তবে আলোচনা দ্রুত এগিয়ে যাবে। পছন্দ এখন ওয়াশিংটনের হাতে।’
তবে এই ঘটনার পর নিজের প্রথম মন্তব্যে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প রোববার সন্ধ্যায় ইরানকে ‘গেম খেলা’ বা চালাকি করার অভিযোগে অভিযুক্ত করেছেন। নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম প্ল্যাটফর্ম ট্রুথ সোশ্যালে ট্রাম্প লিখেন, ‘ইরান ৪৭ বছর ধরে যুক্তরাষ্ট্র এবং বাকি বিশ্বের সঙ্গে গেম খেলে আসছে। তারা আর হাসতে পারবে না!’ এর দুই ঘণ্টা পর একই প্ল্যাটফর্মে তিনি বলেন, ‘আমি এইমাত্র ইরানের তথাকথিত “প্রতিনিধি”দের উত্তরটি পড়লাম। এটি আমার পছন্দ হয়নি—এটি সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য!’
চলতি সপ্তাহের শুরুর দিকে ওয়াশিংটন তেহরানের কাছে ১৪ দফার একটি প্রস্তাব পাঠিয়েছিল। সেই প্রস্তাবের শর্ত অনুযায়ী, ইরানকে অন্তত ১২ বছরের জন্য পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি না করতে এবং ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ বন্ধ রাখতে রাজি হতে হবে। এ ছাড়া, ৬০ শতাংশ পর্যন্ত সমৃদ্ধ করা তাদের আনুমানিক ৪৪০ কেজি (৯৭০ পাউন্ড) ইউরেনিয়ামের মজুত হস্তান্তর করতে হবে। বিনিময়ে যুক্তরাষ্ট্র ধাপে ধাপে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেবে, ইরানের কয়েক বিলিয়ন ডলারের জব্দ করা সম্পদ অবমুক্ত করবে এবং ইরানের বন্দরগুলোতে তাদের নৌ অবরোধ বন্ধ করবে।