ইরানের বিরুদ্ধে চলমান যুদ্ধে মার্কিন বাহিনীর পারফরম্যান্স বা সাফল্যে দশে ১৫ নম্বর দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বুধবার (৪ মার্চ) হোয়াইট হাউসে প্রযুক্তি খাতের শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে এক বৈঠকে তিনি এই রেটিং দেন। ট্রাম্পের দাবি, ইরানের নেতৃত্ব দ্রুত বিলুপ্ত হচ্ছে এবং তেহরানের ক্ষেপণাস্ত্র ভান্ডারও ধ্বংসের পথে।
গত শনিবার শুরু হওয়া এই যুদ্ধ বুধবার পঞ্চম দিনে প্রবেশ করেছে। ভারত মহাসাগরে মার্কিন সাবমেরিনের টর্পেডো হামলায় একটি ইরানি যুদ্ধজাহাজ ডুবে যাওয়া এবং মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে নতুন করে বিস্ফোরণের খবরের মাঝেই ট্রাম্পের এই মন্তব্য এল।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেন, ‘যুদ্ধের ফ্রন্টে আমরা বেশ ভালো করছি। অনেকেই আমাকে জিজ্ঞেস করেছিল ১০-এর স্কেলে আমি কত দেব, আমি বলেছি ১৫।’
ইরানের বর্তমান অবস্থা নিয়ে ট্রাম্প বলেন, ‘আমরা এখন অত্যন্ত শক্তিশালী অবস্থানে আছি এবং তাদের নেতৃত্ব দ্রুত শেষ হয়ে যাচ্ছে। যে-ই নেতা হতে চাচ্ছে, তাকেই মরতে হচ্ছে।’ তিনি আরও বলেন, তেহরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের ভান্ডারও ‘মাটির সঙ্গে মিশিয়ে দেওয়া’ হচ্ছে।
ইরানে হামলার পক্ষে নিজের যুক্তি পুনর্ব্যক্ত করে ট্রাম্প বলেন, ‘তেহরান পারমাণবিক অস্ত্র পাওয়ার পথে ছিল। যখন পাগল মানুষের হাতে পারমাণবিক অস্ত্র থাকে, তখন খারাপ কিছু ঘটে। আমরা তাদের আটকে দিয়েছি।’
প্রসঙ্গত, নির্বাচনী প্রচারণায় ‘নতুন কোনো যুদ্ধ না করার’ প্রতিশ্রুতি দেওয়া সত্ত্বেও ট্রাম্পের এই যুদ্ধ শুরু করায় নানা মহলে সমালোচনা হচ্ছে। তবে যুদ্ধের পর ইরানের ভবিষ্যৎ নিয়ে ট্রাম্পের পরিকল্পনা এখনো অস্পষ্ট। হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট জানিয়েছেন, যুদ্ধ-পরবর্তী পরিস্থিতি নিয়ে ট্রাম্প তাঁর জাতীয় নিরাপত্তা দলের সঙ্গে আলোচনা করছেন। তবে তেহরানে ‘রেজিম চেঞ্জ’ বা সরকার পরিবর্তন চান কি না, তা নিশ্চিত করেনি হোয়াইট হাউস।
এদিকে কুর্দি বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠীকে অস্ত্র দেওয়ার খবরটি ‘মিথ্যা’ বলে উড়িয়ে দিলেও কুর্দি নেতাদের সঙ্গে ট্রাম্পের কথা হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে হোয়াইট হাউস। লেভিট আরও জানান, পেন্টাগনের ভাষ্য অনুযায়ী আগামী কয়েক ঘণ্টার মধ্যে ইরান ও এর আশপাশের আকাশসীমায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ‘পূর্ণ আধিপত্য’ প্রতিষ্ঠিত হবে।