টেলিভিশন সাংবাদিকতায় ২৪ ঘণ্টা সংবাদ প্রচারের বিপ্লব ঘটানো কিংবদন্তি উদ্যোক্তা ও সিএনএনের প্রতিষ্ঠাতা টেড টার্নার মারা গেছেন। বুধবার (৬ মে ২০২৬) ৮৭ বছর বয়সে আটলান্টায় নিজ বাড়িতে শেষনিশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। তিনি পাঁচ সন্তান, ১৪ নাতি-নাতনি এবং দুই প্রপৌত্র রেখে গেছেন।
তাঁর প্রতিষ্ঠিত প্রতিষ্ঠান ‘টার্নার এন্টারপ্রাইজ’ এক বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ওহাইওতে জন্ম নেওয়া এই আটলান্টাভিত্তিক ব্যবসায়ী তাঁর স্পষ্টভাষী স্বভাবের জন্য ‘মাউথ অব দ্য সাউথ’ নামে পরিচিত ছিলেন। ১৯৮০ সালের ১ জুন তিনি বিশ্বের প্রথম ২৪ ঘণ্টার নিউজ চ্যানেল হিসেবে সিএনএন চালু করেন। সেই সময় অনেকে তাঁর এই পরিকল্পনাকে ‘পাগলামি’ বলে উড়িয়ে দিয়েছিলেন, কিন্তু টার্নারের অদম্য সাহসিকতা সংবাদ প্রচারের সংজ্ঞা বদলে দেয়।
১৯৯১ সালে উপসাগরীয় যুদ্ধের সরাসরি সম্প্রচারের মাধ্যমে সিএনএন বিশ্বজুড়ে অপ্রতিদ্বন্দ্বী হয়ে ওঠে এবং ওই বছরই তিনি টাইম ম্যাগাজিনের ‘ম্যান অব দ্য ইয়ার’ নির্বাচিত হন।
টেড টার্নারের কর্মজীবন শুরু হয়েছিল মাত্র ২৪ বছর বয়সে বাবার বিলবোর্ড ব্যবসার দায়িত্ব নেওয়ার মাধ্যমে। এরপর তিনি রেডিও স্টেশন এবং পরে টেলিভিশন স্টেশনে বিনিয়োগ করেন। মিডিয়া সাম্রাজ্য গড়ার পাশাপাশি তিনি ছিলেন একজন সফল ক্রীড়াপ্রেমী (আটলান্টা ব্রেভস ও আটলান্টা হকস দলের মালিক), বিশ্বখ্যাত নাবিক এবং পরিবেশবাদী। শিশুদের পরিবেশ সম্পর্কে সচেতন করতে তিনি তৈরি করেছিলেন ‘ক্যাপ্টেন প্ল্যানেট’ কার্টুন।
টার্নার কেবল ব্যবসাই করেননি, ১৯৯৭ সালে জাতিসংঘকে ১ বিলিয়ন (১০০ কোটি) ডলার অনুদানের ঘোষণা দিয়ে বিশ্বকে চমকে দিয়েছিলেন। তিনি জাতিসংঘ ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা এবং পারমাণবিক অস্ত্র নির্মূল আন্দোলনের একজন সক্রিয় কর্মী ছিলেন। এ ছাড়া বিলুপ্তপ্রায় বাইসন রক্ষায় তাঁর ভূমিকা ছিল অগ্রগণ্য। তিনি জীবনের অধিকাংশ সময় ও সম্পদ ব্যয় করেছেন প্রকৃতি ও মানবতার সেবায়।
ব্যক্তিগত জীবনে টার্নার তিনবার বিবাহবিচ্ছেদ করেছেন। প্রখ্যাত অভিনেত্রী জেন ফন্ডার সঙ্গে তাঁর ১০ বছরের দাম্পত্য জীবন ছিল বিশ্বজুড়ে আলোচিত। ২০১৮ সালে প্রকাশ করেন, তিনি ‘লুই বডি ডিমেনশিয়া’ (একধরনের মস্তিষ্কের ব্যাধি) নামক জটিলতায় ভুগছেন। এর আগে ২০২৫ সালের শুরুর দিকে তিনি নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন।
টার্নারের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করে সিএনএনের বর্তমান চেয়ারম্যান ও সিইও মার্ক থম্পসন বলেন, ‘টেড ছিলেন নির্ভীক এবং নিজের বিচারবুদ্ধির ওপর আস্থাশীল একজন মানুষ। তিনি সব সময় সিএনএনের প্রেরণা হয়ে থাকবেন। তাঁর দেখানো পথেই আজ আমরা দাঁড়িয়ে আছি।’