মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে দীর্ঘ কয়েক দশকের স্বেচ্ছামূলক সামরিক নিবন্ধনের প্রথা শেষ হতে চলেছে। আগামী ডিসেম্বর থেকেই ১৮ থেকে ২৫ বছর বয়সী মার্কিন তরুণদের নাম সামরিক নিবন্ধন বা ‘ড্রাফট’-এর জন্য স্বয়ংক্রিয়ভাবে নিবন্ধিত করার পরিকল্পনা করছে ট্রাম্প প্রশাসন। ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ পরিস্থিতির অবনতি এবং সম্ভাব্য সংকটের মুখে এমন পদক্ষেপ দেশটিতে নতুন করে বাধ্যতামূলক সামরিক চাকরির আতঙ্ক ছড়িয়ে দিয়েছে।
বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি সংস্থা সিলেক্টিভ সার্ভিস সিস্টেম (এসএসএস) এই নতুন নিয়মের প্রস্তাব করেছে। এর ফলে ১৮ বছর পূর্ণ হওয়া তরুণদের আর নিজে থেকে নিবন্ধন করতে হবে না; বরং ফেডারেল ডাটাবেজ ব্যবহার করে তাদের নাম স্বয়ংক্রিয়ভাবে তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হবে।
সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, প্রতি বছর তরুণদের নিবন্ধন করার কথা মনে করিয়ে দিতে যে লাখ লাখ ডলার খরচ হয়, এই ব্যবস্থার ফলে তা সাশ্রয় হবে।
ডেমোক্রেটিক প্রতিনিধি ক্রিসি হাউলাহানের মতে, এই অর্থ প্রচারের পরিবর্তে সামরিক প্রস্তুতি এবং গতিশীলতা বৃদ্ধিতে ব্যয় করা সম্ভব হবে।
বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে ১৮ থেকে ২৫ বছর বয়সী পুরুষদের জন্য এই নিবন্ধন বাধ্যতামূলক। নিবন্ধন না করা একটি ফেডারেল অপরাধ, যার সাজা ৫ বছরের জেল। যদিও জেল হওয়ার ঘটনা বিরল, তবে নিবন্ধন না করলে সরকারি শিক্ষাঋণ, ফেডারেল চাকরি এবং অ-নাগরিকদের ক্ষেত্রে মার্কিন নাগরিকত্ব পাওয়ার পথ বন্ধ হয়ে যেতে পারে। সরকারি তথ্যমতে, ২০২৪ সালে নিবন্ধনের হার কমে ৮১ শতাংশে দাঁড়িয়েছে।
ভিয়েতনাম যুদ্ধের পর ১৯৭৩ সালে যুক্তরাষ্ট্রে বাধ্যতামূলক সামরিক ড্রাফট বন্ধ করা হয়েছিল। তবে বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের সঙ্গে যুদ্ধের উত্তেজনা বৃদ্ধি পাওয়ায় অনেক মার্কিন নাগরিক আশঙ্কা করছেন যে, সরকার আবারও বাধ্যতামূলক সামরিক বাহিনীতে যোগ দেওয়ার আইন ফিরিয়ে আনছে।
হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লিভিট এক সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন, আপাতত ড্রাফটের কোনো পরিকল্পনা নেই, তবে প্রেসিডেন্ট নিরাপত্তার স্বার্থে সব পথ খোলা রাখছেন।
যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে এখন পর্যন্ত ৬ বার যুদ্ধকালীন ড্রাফট কার্যকর করা হয়েছে। ভিয়েতনাম যুদ্ধের সময় প্রায় ১৮ লাখ মার্কিনকে বাধ্যতামূলকভাবে সেনাবাহিনীতে নেওয়া হয়েছিল, যা দেশজুড়ে ব্যাপক গণবিক্ষোভের জন্ম দেয়। ১৯৮০ সালে জিমি কার্টার এই নিবন্ধন পুনরায় চালু করলেও তা এত দিন ছিল ব্যক্তিগত ইচ্ছার ওপর নির্ভরশীল।
নতুন এই নিয়মটি বর্তমানে চূড়ান্ত অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। যদি এটি অনুমোদিত হয়, তবে আগামী ডিসেম্বর থেকেই মার্কিন তরুণদের প্রতিরক্ষা তালিকায় নাম ওঠা নিশ্চিত হয়ে যাবে।