পাকিস্তানের জনপ্রিয় টিকটক তারকা সানা ইউসুফ হত্যা মামলায় অভিযুক্ত ২৩ বছর বয়সী উমর হায়াতকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন দেশটির একটি আদালত। মঙ্গলবার (১৯ মে) ইসলামাবাদের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ মুহাম্মদ আফজাল মাজোকা এই রায় ঘোষণা করেন। একই সঙ্গে আদালত সানার পরিবারকে ২৫ লাখ রুপি ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। তবে এই মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়ার আগে ইসলামাবাদ হাইকোর্টের অনুমোদন প্রয়োজন হবে।
আদালত সূত্র জানায়, হত্যার পাশাপাশি ডাকাতি, মানহানি এবং চুরি করা সম্পত্তি সংক্রান্ত অভিযোগেও উমর হায়াতকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড ও জরিমানা করা হয়েছে।
মাত্র ১৭ বছর বয়সী সানা ইউসুফকে ২০২৫ সালের ২ জুন ইসলামাবাদে নিজ বাসায় গুলি করে হত্যা করা হয়। পুলিশ জানায়, উমর হায়াত জোর করে সানাদের বাসায় ঢুকে তাঁর মা ও খালার সামনেই তাঁকে গুলি করে হত্যা করে। পরে সে সানার মোবাইল ফোন নিয়ে পালিয়ে যায়।
খাইবার পাখতুনখোয়ার চিত্রাল অঞ্চলের বাসিন্দা সানা ইউসুফ টিকটক ও ইনস্টাগ্রামে বেশ জনপ্রিয় ছিলেন। ফ্যাশন, স্কিনকেয়ার ও লাইফস্টাইলভিত্তিক ভিডিও তৈরি করে তিনি প্রায় ১৩ লাখ ফলোয়ার পেয়েছিলেন।
রায়ের পর আদালতের বাইরে সানার বাবা বলেন, ‘গত ১১ মাস ধরে আমরা এই দিনের অপেক্ষায় ছিলাম। এই রায় শুধু আমার পরিবারের জন্য নয়, পুরো সমাজের জন্য একটি বার্তা। যারা এ ধরনের অপরাধ করবে, তাদের পরিণতিও এমন হতে পারে।’ সানার মা-ও রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করে বিচারক, পুলিশ, গণমাধ্যম ও আইনজীবীদের ধন্যবাদ জানান।
প্রসিকিউশনের তথ্য অনুযায়ী, হত্যাকাণ্ডের ২০ ঘণ্টার মধ্যেই ফয়সালাবাদ থেকে উমর হায়াতকে গ্রেপ্তার করা হয়। তদন্তে জানা যায়, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পরিচয়ের পর সানার প্রতি একতরফা আসক্তি তৈরি হয়েছিল উমরের। সানা বারবার প্রত্যাখ্যান করায় ক্ষুব্ধ হয়ে তিনি ইসলামাবাদে গিয়ে এই হত্যাকাণ্ড ঘটান।
তবে আদালতে উমর হায়াত দাবি করেন, পুলিশ তাঁকে মিথ্যা মামলায় ফাঁসিয়েছে। তিনি বলেন, তিনি কখনো সানার সঙ্গে দেখা করেননি এবং পুলিশি নির্যাতনের মাধ্যমে জোর করে স্বীকারোক্তি আদায় করা হয়েছে।
এই হত্যাকাণ্ড পাকিস্তানে ব্যাপক ক্ষোভের জন্ম দিয়েছিল এবং নারী কনটেন্ট নির্মাতাদের নিরাপত্তা ও অনলাইন হয়রানি নিয়ে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়। মানবাধিকারকর্মীরা বলছেন, নারীদের স্বাধীন মত প্রকাশ ও প্রত্যাখ্যান মেনে নিতে না পারার মানসিকতা থেকেই এই ধরনের সহিংসতা বাড়ছে।