হোম > বিশ্ব > মধ্যপ্রাচ্য

হিজবুল্লাহ ফাঁদ কীভাবে উতরাবে ইসরায়েল

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­

ইসরায়েলের হামলায় নিহত হিজবুল্লাহ যোদ্ধার শেষকৃত্যানুষ্ঠান। ছবি: এএফপি

লেবাননে ইসরায়েল-হিজবুল্লাহ সংঘাত গত এক সপ্তাহে নাটকীয় মোড় নিয়েছে। একদিকে যুদ্ধবিরতি ও কূটনৈতিক আলোচনার উদ্যোগ, অন্যদিকে নতুন করে সামরিক উত্তেজনা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। বিশ্লেষকদের মতে, ইসরায়েলের সামনে এখন একটি মৌলিক প্রশ্ন—দক্ষিণ লেবাননে দীর্ঘমেয়াদি সামরিক উপস্থিতি বজায় রাখা হবে, নাকি রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক পথে হিজবুল্লাহকে নিরস্ত্রীকরণের চেষ্টা করা হবে।

গত ৩০ মে যুক্তরাষ্ট্রের পেন্টাগনে ইসরায়েলি ও লেবানিজ সামরিক প্রতিনিধিরা বৈঠকে বসেন। এটি ছিল দুই পক্ষের মধ্যে চতুর্থ দফা আলোচনার প্রস্তুতি, যার লক্ষ্য ছিল সীমান্ত সংঘাতের অবসান। কিন্তু বৈঠকের এক দিন পরই ইসরায়েলি সেনারা দক্ষিণ লেবাননের ঐতিহাসিক বিউফোর্ট দুর্গে ইসরায়েলের পতাকা উত্তোলন করে। দুর্গটি ২০০০ সালে শেষ হওয়া প্রায় দুই দশকের ইসরায়েলি দখলদারির স্মৃতিবাহী একটি প্রতীক। ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু দুর্গটি পুনর্দখলকে বড় সাফল্য হিসেবে তুলে ধরে বলেন, ‘আমরা আগের চেয়ে আরও শক্তিশালী হয়ে বিউফোর্টে ফিরে এসেছি।’

পরদিনই আবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা দেন, তিনি ইসরায়েল ও হিজবুল্লাহর মধ্যে যুদ্ধবিরতির একটি সমঝোতা প্রতিষ্ঠা করেছেন। তবে দুই পক্ষই এই ঘোষণাকে ভিন্নভাবে ব্যাখ্যা করেছে এবং বাস্তবে সংঘর্ষ বন্ধ হয়নি।

এপ্রিলের মাঝামাঝি তৃতীয় দফা আলোচনার পরও পরিস্থিতির উন্নতি হয়নি, বরং হামলার সংখ্যা বেড়েছে। ইসরায়েলি গবেষণা প্রতিষ্ঠান আলমার তথ্য অনুযায়ী, ২৫ মে থেকে শুরু হওয়া সপ্তাহে হিজবুল্লাহ ২২৭টি হামলা চালায়, যা আগের সপ্তাহের ১৬১টির তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি। রকেট, ড্রোন ও অ্যান্টি-ট্যাংক অস্ত্র ব্যবহার করে এসব হামলা চালানো হয়। ফলে উত্তর ইসরায়েলের বহু এলাকা এখনো ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে এবং হাজার হাজার মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে।

এর জবাবে ইসরায়েলি বাহিনী লেবাননের আরও গভীরে হামলা চালিয়েছে। তাদের দাবি, এপ্রিলের পর থেকে প্রায় ৮০০ হিজবুল্লাহ যোদ্ধা নিহত হয়েছেন। পাশাপাশি দক্ষিণ লেবাননে একটি বিস্তৃত নিরাপত্তা বাফার জোন তৈরির উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, ৭ অক্টোবরের হামলার পর ইসরায়েলের নিরাপত্তা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে। আগের মতো প্রতিরোধমূলক কৌশলের বদলে এখন তারা ‘ফরোয়ার্ড ডিফেন্স’ বা অগ্রবর্তী প্রতিরক্ষা নীতিতে বিশ্বাস করছে। এর ফলে তারা সীমান্তের বাইরে গিয়েও হুমকি মোকাবিলা করছে।

তবে দীর্ঘ মেয়াদে এই কৌশল কার্যকর হবে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। কারণ, হিজবুল্লাহকে স্থায়ীভাবে নিরস্ত্রীকরণ করতে হলে শুধু সামরিক শক্তি নয়, রাজনৈতিক সমাধানও প্রয়োজন। বিশেষজ্ঞদের মতে, লেবাননের রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর মাধ্যমেই টেকসইভাবে হিজবুল্লাহকে নিরস্ত্র করা সম্ভব। অন্যথায় সংঘাতের এই চক্র আরও দীর্ঘ ও জটিল হয়ে উঠতে পারে।

আইএস-সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে ইরানে দুজনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর

মোসাদের সঙ্গে সংযোগ উড়িয়ে দিলেন আহমাদিনেজাদ

ইরানের বাহিনীতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম সরাসরি হামলা, ৭ সেনা নিহত

ইরানি বন্দরগুলোতে মার্কিন নৌ অবরোধ, আগামী সপ্তাহে বিদ্যুৎকেন্দ্র–সেতুতে হামলার হুমকি ট্রাম্পের

নেতানিয়াহুকে সিরিয়া-লেবানন থেকে সেনা সরিয়ে নিতে বলেছেন ট্রাম্প

হরমুজে টোল দিতে রাজি উপসাগরীয় দেশগুলো, তবে ইরানকে নয়

হরমুজের পর এবার ‘বাব আল-মান্দেব প্রণালি’ বন্ধের ইঙ্গিত ইরানের

হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ নিয়েই ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের নতুন সংঘর্ষ

ট্রাম্পের নজরে এবার ইরানের গোপন ‘কুহ-ই-কলাং’

হুতিদের বিরুদ্ধে সৌদির হামলায় ট্রাম্পের সমর্থন, ৪ বছর পর ফের যুদ্ধের শঙ্কা