ইরানের মিনাব শহরে অবস্থিত শাজারেহ তাইয়্যেবেহ প্রাথমিক বালিকা বিদ্যালয়ে ভয়াবহ হামলায় ১৬৫ জনেরও বেশি নিহত হয়েছেন, যাদের অধিকাংশই শিশু। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই হামলার জন্য সরাসরি ইরানকেই দায়ী করেছেন। তবে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের একাধিক প্রতিবেদনে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে, এই বিস্ফোরণ সম্ভবত মার্কিন বিমান হামলার ফল।
গত শনিবার কুয়েতে নিহত ছয় মার্কিন সেনার মরদেহ গ্রহণ অনুষ্ঠান শেষে এয়ারফোর্স ওয়ানে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেন, ‘আমি যা দেখেছি তার ওপর ভিত্তি করে বলছি, এই কাজ ইরানই করেছে।’ তাঁর পাশেই দাঁড়িয়ে থাকা প্রতিরক্ষা মন্ত্রী পিট হেগসেথ বলেন, ‘আমরা বিষয়টি তদন্ত করছি। তবে বেসামরিক নাগরিকদের লক্ষ্যবস্তু বানানোর ইতিহাস কেবল ইরানেরই আছে।’
ট্রাম্প আরও যোগ করেন, ইরানের অস্ত্রশস্ত্র অত্যন্ত নিম্নমানের এবং নির্ভুলভাবে লক্ষ্যভেদ করতে অক্ষম। তাঁর দাবি, ইরান সম্ভবত ভুল করে নিজের দেশের স্কুলেই বোমা হামলা চালিয়েছে।
হোয়াইট হাউস এবং পেন্টাগন দায় অস্বীকার করলেও বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, মার্কিন সামরিক তদন্তকারীরা ব্যক্তিগতভাবে স্বীকার করেছেন যে একটি মার্কিন হামলা সম্ভবত স্কুলটি ধ্বংস করেছে। যদিও সরকারিভাবে তদন্ত এখনো চলমান।
পেন্টাগনের সাবেক বেসামরিক ক্ষয়ক্ষতি বিষয়ক উপদেষ্টা ওয়েস জে. ব্রায়ান্ট দ্য নিউইয়র্ক টাইমসকে জানিয়েছেন, স্যাটেলাইট চিত্র অনুযায়ী স্কুল এবং সংলগ্ন ভবনগুলোতে অত্যন্ত সুনির্দিষ্টভাবে আঘাত করা হয়েছে। তিনি ধারণা করছেন, ‘টার্গেট মিসআইডেন্টিফিকেশন’ বা লক্ষ্যবস্তু শনাক্তকরণে ভুলের কারণে মার্কিন বাহিনী বুঝতে পারেনি যে স্কুলটিতে বিপুলসংখ্যক বেসামরিক নাগরিক ছিল।
ইরানি রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের বরাত দিয়ে অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (এপি) জানিয়েছে, এটি বর্তমান মার্কিন-ইসরায়েল যৌথ অভিযানের শুরু থেকে এ পর্যন্ত হওয়া সবচেয়ে বড় বেসামরিক প্রাণহানির ঘটনা। স্কুলটি ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)-এর একটি কম্পাউন্ডের পাশেই ছিল।
ব্রিটেনভিত্তিক সংবাদমাধ্যম মিডল ইস্ট আই জানিয়েছে, উদ্ধারকর্মী ও প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে স্কুলটিতে পরপর দুইবার হামলা চালানো হয়। দ্বিতীয় দফার হামলাটি চালানো হয়েছিল তখন, যখন প্রথম হামলার পর বেঁচে যাওয়া ব্যক্তিরা সেখানে আশ্রয় নিয়েছিলেন।
এদিকে গত বুধবার এক সংবাদ সম্মেলনে হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট বিদ্যালয়ের মার্কিন হামলার অভিযোগ উড়িয়ে দেন। তিনি সাংবাদিকদের ইরানি ‘প্রোপাগান্ডা’ বা অপপ্রচারের ফাঁদে না পড়ার জন্য সতর্ক করে বলেন, ‘মার্কিন সশস্ত্র বাহিনী কখনোই বেসামরিক নাগরিকদের লক্ষ্যবস্তু বানায় না। সুতরাং আমেরিকার দিকে আঙুল তোলার আগে আপনাদের সতর্ক হওয়া উচিত।’
ইরানের একটি লবণাক্ত পানি শোধনাগারে হামলার বিষয়েও ট্রাম্পকে সাংবাদিকেরা জিজ্ঞেস করেছিলেন। এই হামলার অভিযোগও অস্বীকার করে ট্রাম্প বলেন, এটিও ইরানিরাই করেছে।