ইরান ও ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার যুদ্ধ শুরুর পর থেকে আরোপিত সব ধরনের উড্ডয়ন বিধিনিষেধ তুলে নিয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই)। দেশটির বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ এই ঘোষণা দিয়েছে।
গতকাল শনিবার জেনারেল সিভিল এভিয়েশন অথরিটি (জিসিএএ) এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, সংযুক্ত আরব আমিরাতের আকাশসীমায় সব ধরনের বিমান চলাচল এখন থেকে ‘স্বাভাবিক অবস্থায়’ ফিরবে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক পোস্টে বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ বলেছে, ‘সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে অপারেশনাল এবং নিরাপত্তা পরিস্থিতির একটি সামগ্রিক মূল্যায়ন শেষে আমরা এই সিদ্ধান্ত নিয়েছি।’
সংস্থাটি আরও জানিয়েছে যে তারা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ অব্যাহত রাখবে। এই ঘোষণাটি দুবাই ও আবুধাবির মতো বিমান চলাচলের প্রধান কেন্দ্রগুলোর জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক।
দুবাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরটি আন্তর্জাতিক যাত্রীদের জন্য বিশ্বের ব্যস্ততম বিমানবন্দর। গত ফেব্রুয়ারির শেষ দিক থেকে এই দুই কেন্দ্রের কার্যক্রম বিধিনিষেধের কবলে ছিল।
ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের এই যুদ্ধ মধ্যপ্রাচ্যের এভিয়েশন খাতে বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটিয়েছে। বিশেষ করে পারস্য উপসাগরীয় দেশগুলোতে তেহরানের পাল্টা হামলার কারণে এই অঞ্চলের আকাশসীমার একটি বিশাল অংশ বন্ধ করে দিতে বাধ্য হয়েছিল কর্তৃপক্ষ।
জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর অর্থনৈতিক নির্ভরতা কমানোর চেষ্টায় থাকা এই অঞ্চলের জন্য এটি যেমন একটি বড় ধাক্কা ছিল, তেমনি এটি ইউরোপ ও এশিয়ার মধ্যে চলাচলকারী দীর্ঘপাল্লার ফ্লাইটগুলোর রুটকেও সীমিত করে দিয়েছিল।
ইউএই, ইরাক, জর্ডান, কাতার, বাহরাইন ও কুয়েতসহ অন্তত আটটি রাষ্ট্র তাদের আকাশসীমা পূর্ণ বা আংশিক বন্ধের ঘোষণা দিয়েছিল। সে সময় আমিরাতের বিমান সংস্থা এমিরেটস ও ফ্লাইদুবাই তাদের সব কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেয় এবং ইতিহাদ এয়ারওয়েজ আবুধাবি থেকে সব ফ্লাইট স্থগিত করে।
এভিয়েশন ডেটা সংস্থা ‘সিরিয়াম’-এর তথ্যমতে, সংঘাতের শুরুর দিনগুলোতে এই অঞ্চলে আসা-যাওয়ার পথে ১১ হাজারেরও বেশি ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছিল।
ফেব্রুয়ারির শেষের দিকে যুদ্ধ শুরুর সময় ইউএই তাদের আকাশসীমা ‘সাময়িক ও আংশিক’ বন্ধের ঘোষণা দেয়। এরপর গত মার্চ মাসে পর্যায়ক্রমে আকাশসীমা পুনরায় খুলে দেওয়া শুরু হয়।
১ থেকে ১২ মার্চের মধ্যে যখন সীমিত পরিসরে বিমান চলাচল শুরু হয়, তখন আমিরাতের বিমানবন্দরগুলো ১৪ লাখ যাত্রী সামাল দেয় এবং ৭ হাজার ৮৩৯টি ফ্লাইট পরিচালিত হয়। ওই সময়ে দেশটির জাতীয় বিমান সংস্থাগুলোর কার্যক্রম স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় ৪৪ দশমিক ৬ শতাংশে উন্নীত হয়েছিল।