তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিস্যেপ তাইয়েপ এরদোয়ান তেহরানকে সতর্ক করে বলেছেন, ইরানের একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র তুরস্কের আকাশসীমায় প্রবেশ করার পর দেশটি যেন আর কোনো উসকানিমূলক পদক্ষেপ না নেয়। বাংলাদেশ সময় সোমবার (৯ মার্চ) রাতে তুরস্কের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা আনাদুলু এজেন্সির বরাতে এই খবর জানিয়েছে সিএনএন।
এরদোয়ান বলেছেন, ‘তুরস্কের সঙ্গে ইরানের হাজার বছরের প্রতিবেশী ও ভ্রাতৃত্বপূর্ণ সম্পর্কের ওপর যেন কোনো ছায়া না পড়ে।’ তিনি অভিযোগ করেন, তুরস্কের পক্ষ থেকে ‘আন্তরিক সতর্কবার্তা’ দেওয়া সত্ত্বেও ইরান ‘অত্যন্ত ভুল এবং উসকানিমূলক পদক্ষেপ’ অব্যাহত রেখেছে।
ইরান থেকে ছোড়া একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র তুরস্কের আকাশসীমায় ঢুকে পড়ার প্রতিক্রিয়ায় এমন মন্তব্য করেন তুর্কি প্রেসিডেন্ট। খবরে জানানো হয়, পূর্ব ভূমধ্যসাগরে অবস্থানরত ন্যাটো-এর আকাশ ও ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে ওই ক্ষেপণাস্ত্রটি নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে।
তুরস্কের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানায়, ক্ষেপণাস্ত্রটি ধ্বংস হওয়ার পর এর ধ্বংসাবশেষ দেশটির দক্ষিণ-মধ্যাঞ্চলের শহর গাজিনটেপ-এর একটি খালি জমিতে পড়ে। এতে কোনো হতাহত বা আহতের ঘটনা ঘটেনি।
এরদোয়ান বলেন, আঞ্চলিক সংঘাত শুরুর পর থেকেই তুরস্কের সামরিক বাহিনী সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় রয়েছে। দেশের আকাশসীমা সার্বক্ষণিক নজরদারিতে রাখা হচ্ছে।
তিনি জানান, তুরস্কের আকাশ প্রতিরক্ষায় নিয়মিত টহল দিচ্ছে এফ-১৬ ফাইটিং ফ্যালকন যুদ্ধবিমান। পাশাপাশি আকাশে অবস্থানরত আগাম সতর্কতা প্রদানকারী বিমান এবং ট্যাংকার বিমানও ব্যবহৃত হচ্ছে, যাতে যে কোনো সম্ভাব্য হুমকি দ্রুত শনাক্ত ও মোকাবিলা করা যায়।
এই ঘটনার পর তুরস্ক-ইরান সম্পর্ক এবং অঞ্চলের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, সীমান্তবর্তী আকাশসীমায় এমন ঘটনা ঘটলে তা দুই দেশের কূটনৈতিক উত্তেজনা বাড়াতে পারে এবং বৃহত্তর আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতিতেও প্রভাব ফেলতে পারে।