গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের মধ্যে শুরু হওয়া যুদ্ধ এখন পুরো মধ্যপ্রাচ্যে ছড়িয়ে পড়েছে। ১০ দিন পার হতে না হতেই এই রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে প্রাণ হারিয়েছেন শত শত মানুষ। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলি বাহিনীর হামলার লক্ষ্যবস্তু ইরান হলেও মার্কিন সামরিক ঘাঁটি ও জনবল থাকায় এই সংঘাতের কবলে পড়েছে উপসাগরীয় দেশগুলো এবং লেবানন। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের তথ্যের ভিত্তিতে আজ সোমবার (৯ মার্চ) পর্যন্ত দেশভিত্তিক নিহতের খতিয়ান নিচে তুলে ধরা হলো—
মৃত্যুপুরীতে পরিণত হয়েছে ইরানের দক্ষিণ সীমান্ত
অলাভজনক মানবিক সংস্থা ইরানি রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির মতে, ইরানে এখন পর্যন্ত অন্তত ১ হাজার ২৩০ জন নিহত হয়েছেন। যুদ্ধের প্রথম দিনে দেশটির দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর মিনাবের একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ১৭৫ জন স্কুলছাত্রী ও এক কর্মী নিহত হয়। তবে রেড ক্রিসেন্টের দেওয়া এই নিহতের তালিকায় ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) সামরিক সদস্যদের সংখ্যা অন্তর্ভুক্ত কি না, তা স্পষ্ট নয়।
অন্যদিকে, ইরানি সেনাবাহিনী জানিয়েছে, গত সপ্তাহে শ্রীলঙ্কা উপকূলে একটি মার্কিন সাবমেরিনের আঘাতে ইরানের একটি যুদ্ধজাহাজ ডুবে অন্তত ১০৪ জন নিহত হয়েছেন। রেড ক্রিসেন্টের দেওয়া হিসাবের বাইরে এই সংখ্যা যুক্ত করলে ইরানে নিহতের সংখ্যা ১ হাজার ৩০০ ছাড়িয়ে যায়।
সংঘাতের নতুন কেন্দ্র লেবানন ও ইসরায়েল
লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ইসরায়েলি হামলায় সে দেশে অন্তত ৩৯৪ জন নিহত হয়েছে, যাদের মধ্যে ৮৩টি শিশু। হিজবুল্লাহ ইরানের সমর্থনে ইসরায়েলে পাল্টা হামলা শুরু করার পর এই হতাহতের ঘটনা ঘটে।
ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর তথ্যমতে, দক্ষিণ লেবাননে হিজবুল্লাহর সঙ্গে সংঘর্ষে দুজন ইসরায়েলি সেনা নিহত হয়েছেন। এ ছাড়া ১ মার্চ জেরুজালেমের কাছে বেত শেমেশ এলাকায় ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ৯ জনসহ মোট ১১ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে দেশটির জরুরি পরিষেবা সংস্থা মাগেন ডেভিড অ্যাডোম।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরাক-সিরিয়া
মার্কিন সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, ইরানের বিরুদ্ধে অভিযানে এখন পর্যন্ত তাদের সাতজন সেনাসদস্য নিহত হয়েছেন। সিরিয়ার রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা সানা জানিয়েছে, ২৮ ফেব্রুয়ারি সিরিয়ার দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর সুয়েদাতে ইরানি ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে চারজন নিহত হন।
ইরাকের পুলিশ ও স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের মতে অন্তত ১৫ জন নিহত হয়েছেন, যার মধ্যে ৫ মার্চ বিমান হামলায় নিহত ‘ইসলামিক রেজিস্ট্যান্স ইন ইরাক’-এর একজন কমান্ডারও রয়েছেন।
উপসাগরীয় দেশগুলোতে প্রাণহানি
যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র হিসেবে পরিচিত উপসাগরীয় দেশগুলোও ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র ও প্রজেক্টাইলের লক্ষ্যবস্তু হয়েছে। এর মধ্যে কুয়েতে ইরানি হামলায় একটি শিশু এবং ডিউটিরত অবস্থায় দুজন পুলিশ কর্মকর্তা ও দুজন সেনাসদস্যসহ মোট পাঁচজন নিহত হয়েছে। সংযুক্ত আরব আমিরাতে দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় চারজন নিহতের খবর নিশ্চিত করেছে। সৌদি আরবের রিয়াদের দক্ষিণ-পূর্বে আল-খারজ শহরের একটি আবাসিক এলাকায় ক্ষেপণাস্ত্রের অংশবিশেষ (প্রজেক্টাইল) পড়ে দুজন নিহত হন। বাহরাইনের সালমান ইন্ডাস্ট্রিয়াল সিটিতে ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহতের পর সৃষ্ট অগ্নিকাণ্ডে একজন নিহত হন। ওমানের মাসকাট উপকূলে একটি বাণিজ্যিক ট্যাংকারে প্রজেক্টাইলের আঘাতে একজন প্রাণ হারান।
উল্লেখ্য, রয়টার্স এই নিহতের সংখ্যাগুলো স্বতন্ত্রভাবে যাচাই করতে পারেনি।