হোম > বিশ্ব > মধ্যপ্রাচ্য

নেতানিয়াহুর প্রতিদ্বন্দ্বী আইজেনকটের জয় যেভাবে ইরান যুদ্ধের গতিপথ বদলাতে পারে

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­

নেতানিয়াহুর প্রতিদ্বন্দী আইজেনকট জিতলে ইরান যুদ্ধের বিষয়ে ইসরায়েলের নীতিতে মৌলিক পরিবর্তন আসতে পারে। ছবি: সংগৃহীত

নির্বাচনের পর ইসরায়েলের নেতৃত্ব দেওয়ার দাবি নিয়ে মুখোমুখি অবস্থানে রয়েছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ও তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী গাদি আইজেনকট। নির্বাচনের বুথফেরত জরিপে দেখা যাচ্ছে, দুই নেতার নেতৃত্বাধীন জোটের মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই চলছে। ইরান যুদ্ধ কীভাবে বন্ধ করা হবে, তা নিয়েও দুই প্রতিদ্বন্দ্বীর প্রস্তাবে স্পষ্ট পার্থক্য রয়েছে। নির্বাচনী প্রচারের অন্যতম প্রধান ইস্যু হয়ে উঠেছে এই যুদ্ধ।

ইসরায়েলের সামরিক বাহিনীর সাবেক প্রধান গাদি আইজেনকট দেশটিতে একজন সম্মানিত জেনারেল। সামরিক বাহিনীর প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করা এই নেতা ২০২৩ সালের ডিসেম্বরে গাজায় যুদ্ধে নিজের এক ছেলেকে হারান। যুদ্ধ শুরুর দুই মাস পর তাঁর ছেলে নিহত হন। আইজেনকট এমন একটি আধুনিক ইসরায়েলের ধারণাকে সমর্থন করেন, যেখানে ইহুদি ও আরবরা সহাবস্থান করতে পারবেন।

আইজেনকট বলেছেন, ইরানকে পরাজিত করার ক্ষেত্রে বর্তমানে অর্থনৈতিক চাপ প্রয়োগই সবচেয়ে কার্যকর উপায় বলে তিনি মনে করেন। তবে তেহরানের পারমাণবিক কর্মসূচিকে লক্ষ্য করে সামরিক হামলার পক্ষে থাকলেও তিনি সর্বাত্মক যুদ্ধে ফিরে যাওয়ার বিরোধিতা করেন।

অন্যদিকে, নেতানিয়াহু এখনো অনড় যে ইরানে শাসনব্যবস্থার পরিবর্তনই ইহুদি রাষ্ট্র ইসরায়েলে দীর্ঘস্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার একমাত্র সমাধান। নিজের অবস্থান বোঝাতে ভোট গ্রহণের এক দিন আগে তিনি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই দিয়ে তৈরি একটি ছবি প্রকাশ করেন। ছবিটিতে দেখা যায়, একটি পারমাণবিক বোমা তেল আবিবকে ধ্বংস করছে।

সম্প্রতি সিএনএনের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নির্বাচনের আগেই ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার পক্ষে চাপ দিয়েছিলেন নেতানিয়াহু। তবে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বিভিন্ন বিকল্প বিবেচনা করায় ওয়াশিংটন তাঁর প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে। ইসরায়েলের একটি সূত্র সংবাদমাধ্যমটিকে বলেছে, ‘নেতানিয়াহু সত্যিই নির্বাচনের আগে ইরানে যৌথ হামলার জন্য ট্রাম্পকে রাজি করাতে চেয়েছিলেন এবং চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু ট্রাম্প সবুজ সংকেত দেননি।’

ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় এই প্রতিবেদনকে ‘ভুয়া খবর’ বলে অভিহিত করেছে। তবে নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে যুদ্ধ পুনরায় শুরু করার চেষ্টা চালানোর অভিযোগ এটাই প্রথম নয়। আইজেনকটর নেতৃত্বাধীন বিরোধী জোটের সঙ্গে কঠিন নির্বাচনী লড়াইয়ের মুখে নির্বাচন পিছিয়ে দেওয়ার আশায় তিনি এমন চেষ্টা করছেন বলে আগেও অভিযোগ উঠেছে।

বক্তব্য ও কৌশলে দুই নেতার পার্থক্য

ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনীর (আইডিএফ) সাবেক প্রধান আইজেনকট বলেছেন, ইরানে শাসনব্যবস্থার পরিবর্তন ‘বাস্তবায়নযোগ্য লক্ষ্য নয়’ বলে তিনি মনে করেন। যুদ্ধ পরিচালনায় নেতানিয়াহুর পদ্ধতিকে তিনি দীর্ঘদিন ধরেই অপরিকল্পিত বলে সমালোচনা করে আসছেন। যুদ্ধের অবসানে কূটনৈতিক উদ্যোগ নেওয়ারও আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

অতীতে যুদ্ধের পক্ষে অবস্থান নেওয়া আইজেনকট এখন ট্রাম্পের ‘শক্তির মাধ্যমে শান্তি’ নীতিকে সমর্থন করছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম নিউইয়র্ক টাইমসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তাঁর মতে—নতুন করে সামরিক অভিযান চালানোর চেয়ে অর্থনৈতিক চাপ প্রয়োগের নীতিই ইরানের ইসলামী প্রজাতন্ত্রকে ‘পরাজয়ের অনুভূতি’ দিতে বেশি কার্যকর হতে পারে।

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্কের প্রশ্নেও আইজেনকটের অবস্থান নেতানিয়াহুর থেকে আলাদা। নেতানিয়াহু মনে করেন, ট্রাম্প ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে তাঁর সুসম্পর্কই ইসরায়েলের নিরাপত্তার সবচেয়ে বড় নিশ্চয়তা। অন্যদিকে, আইজেনকট বারবার বলেছেন, ওয়াশিংটনের ওপর নির্ভরতা ছাড়াই ভবিষ্যতের জন্য ইসরায়েলকে প্রস্তুত হতে হবে এবং স্বাধীনভাবে পদক্ষেপ নিতে হবে।

ইসরায়েলের নির্বাচনে বুথফেরত জরিপের চিত্র

ইসরায়েলের ভোটাররা প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর কট্টর ডানপন্থী ও ধর্মীয় দলগুলোর সমন্বয়ে গঠিত ক্ষমতাসীন জোটের প্রতি অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। তবে বুথফেরত জরিপে নির্বাচনে কোনো স্পষ্ট বিজয়ীর আভাস পাওয়া যায়নি। একই সঙ্গে জরিপের ফল ইঙ্গিত দিয়েছে, নেতানিয়াহু এখনো পরাজিত হননি। তাঁর নেতৃত্বাধীন সরকারের সময় শুরু হওয়া তিন বছরের যুদ্ধের পরও দীর্ঘদিনের এই ইসরায়েলি নেতা ক্ষমতার লড়াইয়ে টিকে রয়েছেন।

বুথফেরত জরিপ অনুযায়ী, পরবর্তী সংসদে বর্তমান সরকারের বিরোধীরা উল্লেখযোগ্য সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে পারে। তবে বিরোধী দলগুলোর মধ্যে মতপার্থক্য থাকায় তারা আদৌ একটি জোট সরকার গঠন করতে পারবে কি না, তা এখনো স্পষ্ট নয়। এসব দলের মধ্যে আরব নেতৃত্বাধীন কয়েকটি রাজনৈতিক গোষ্ঠীও রয়েছে, যারা এবারের নির্বাচনে ঐতিহাসিক সাফল্য পেয়েছে বলে মনে হচ্ছে।

বিরোধী দলগুলো যদি জোট সরকার গঠনে সম্মত হয়, তাহলে এ নিয়ে দর-কষাকষি করতে কয়েক সপ্তাহ লেগে যেতে পারে।

ভোট গ্রহণের পর এক অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে নেতানিয়াহুকে বেশ আত্মবিশ্বাসী দেখা যায়। তিনি ইতিমধ্যেই প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্বে থাকার পক্ষে নিজের অবস্থান তুলে ধরতে শুরু করেন। গত তিন বছরে তাঁর সরকারের অর্জিত সামরিক সাফল্যগুলোর তালিকাও তুলে ধরেন তিনি। একই সঙ্গে বিরোধীদের তাঁর নেতৃত্বের পক্ষে একজোট হওয়ার আহ্বান জানান নেতানিয়াহু। তবে ইসরায়েলের জনসংখ্যার ২০ শতাংশের প্রতিনিধিত্বকারী আরব দলগুলোর সঙ্গে অংশীদারত্ব গড়ার সম্ভাবনা সরাসরি নাকচ করে দেন তিনি। এমন জোট গঠনের ধারণাকে তিনি ‘রাষ্ট্রদ্রোহিতার’ শামিল বলে আখ্যা দেন।

গাজা-লেবানন-সিরিয়ায় দখল বজায় রাখা, ইরানকে দুর্বল করা: নেতানিয়াহুর ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা

পশ্চিম তীরে ৩ বছরে ১০৮০ জনকে হত্যা, ইসরায়েলের ‘মানবতাবিরোধী অপরাধের’ প্রমাণ পেয়েছে জাতিসংঘ

ইরানে আকস্মিক অভিযান চালাবে যুক্তরাষ্ট্র, প্রস্তুত থাকতে বলল উপসাগরীয় দেশগুলোকে

ইসরায়েলে নির্বাচন: প্রথমবারের মতো রেকর্ডসংখ্যক আসন পেতে যাচ্ছে আরবরা

নেতানিয়াহুর সংখ্যাগরিষ্ঠতা নেই, ইসরায়েলে সরকার গঠনের চাবি আরব দলগুলোর হাতে

ইরানের হয়ে গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগে কুয়েতে তিনজনের মৃত্যুদণ্ড

সংকট নিরসনে কূটনৈতিক উদ্যোগ জোরদারে একমত ইরান–মক্কা জোট

ইরানের অর্থায়নে নতুন আঞ্চলিক যুদ্ধের প্রস্তুতি নিচ্ছে হিজবুল্লাহ, সূত্রের দাবি

৯৬ ঘণ্টার মধ্যে ইরানে ‘বড় সামরিক অভিযান’ চালাতে প্রস্তুত মার্কিন বাহিনী

তেহরানে মক্কা জোটের শীর্ষ নেতারা, আলোচ্যসূচিতে যা থাকছে