হোম > বিশ্ব > মধ্যপ্রাচ্য

ইরান–যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনা নিরসনের ক্ষীণ আশা আছে এখনো, পরবর্তী দফার আলোচনার তারিখ ঘোষণা

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি ও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি: সংগৃহীত

ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান উত্তেজনা প্রশমনের ক্ষীণ আশা এখনো রয়ে গেছে। সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় শেষ হওয়া ফলহীন আলোচনার পর দুই পক্ষ আবারও আলোচনার জন্য রাজি হয়েছে। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা গেছে।

মধ্যস্থতাকারী দেশ ওমানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বদর আল বুসাইদি নিশ্চিত করেছেন, দুই দেশের মধ্যে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই আগামী বৃহস্পতিবার যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে পরবর্তী দফার আলোচনা অনুষ্ঠিত হবে। রোববার এক সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টে আল বুসাইদি বলেন, ‘আমি অত্যন্ত আনন্দের সাথে নিশ্চিত করছি যে, আগামী বৃহস্পতিবার জেনেভায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের আলোচনা নির্ধারিত হয়েছে। চুক্তিটি চূড়ান্ত করার লক্ষ্যে এক্সট্রা মাইল বা আরও এগিয়ে যাওয়ার (সর্বোচ্চ চেষ্টা করার) একটি ইতিবাচক তাগিদ নিয়ে এই আলোচনা শুরু হতে যাচ্ছে।’

ইরানের বিরুদ্ধে পূর্ণমাত্রার যুদ্ধের শঙ্কা জাগিয়ে যখন মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র ক্রমাগত সামরিক শক্তি বৃদ্ধি করছে, ঠিক তখনই এই ঘোষণাটি এল। ওমানের এই ঘোষণার কয়েক ঘণ্টা আগে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি বলেছিলেন, তেহরান তাদের পরমাণু কর্মসূচির শান্তিপূর্ণ প্রকৃতি নিশ্চিত করতে এবং উত্তেজনা প্রশমনে পূর্ণাঙ্গ পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা চালু করতে প্রস্তুত।

মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিবিএস নিউজের ফেস দ্য নেশন অনুষ্ঠানের সঞ্চালক মার্গারেট ব্রেনান আরাগচিকে প্রশ্ন করেছিলেন—যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক তৎপরতা এবং সংঘাতের ঝুঁকি থাকা সত্ত্বেও ইরান কেন বিদেশ থেকে সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম কেনার বদলে নিজেদের মাটিতেই ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ চালিয়ে যেতে চায়? জবাবে তিনি বলেন, এই বিষয়টি ইরানিদের জন্য ‘মর্যাদা ও গর্বের’ বিষয়।

তিনি বলেন, ‘আমরা আমাদের নিজেদের বিজ্ঞানীদের মাধ্যমে এই প্রযুক্তি তৈরি করেছি এবং এটি আমাদের কাছে অত্যন্ত প্রিয়। কারণ এটি আমাদের সৃষ্টি—এর জন্য আমাদের বিশাল মূল্য দিতে হয়েছে।’

ক্ষতির খতিয়ান হিসেবে আরাগচি গত দুই দশকের মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, ইরানি বিজ্ঞানীদের পরিকল্পিত হত্যা এবং গত জুনে পরমাণু স্থাপনায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার কথা উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, ‘আমরা আমাদের পরমাণু কর্মসূচি ত্যাগ করব না; এটি বন্ধ করার কোনো আইনি কারণও নেই। কারণ সবকিছু শান্তিপূর্ণভাবে পরিচালিত হচ্ছে এবং জাতিসংঘের পরমাণু পর্যবেক্ষণ সংস্থা আইএইএ দ্বারা সুরক্ষিত রয়েছে।’

পারমাণবিক অস্ত্র বিস্তার রোধ চুক্তি (এনপিটি)—যা পরমাণু অস্ত্রবিহীন রাষ্ট্রগুলোকে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন থেকে বিরত রাখে—এর অঙ্গীকারবদ্ধ সদস্য হিসেবে ইরান ‘সংস্থার সঙ্গে পূর্ণ সহযোগিতার জন্য প্রস্তুত’ বলে জানান আরাগচি। তবে তিনি জোর দিয়ে বলেন, এই চুক্তির আওতায় তেহরানের ‘সমৃদ্ধকরণসহ শান্তিপূর্ণ পরমাণু শক্তি ব্যবহারের পূর্ণ অধিকার’ রয়েছে। মন্ত্রী উল্লেখ করেন, ‘সমৃদ্ধকরণ আমাদের আলোচনার একটি সংবেদনশীল অংশ। মার্কিন দল আমাদের অবস্থান জানে এবং আমরা তাদের অবস্থান জানি। আমরা ইতিমধ্যে আমাদের উদ্বেগের বিষয়গুলো বিনিময় করেছি এবং আমি মনে করি একটি সমাধান অর্জন সম্ভব।’

ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ হলো ইউরেনিয়ামের একটি বিরল আইসোটোপ আলাদা করার প্রক্রিয়া যা নিউক্লিয়ার ফিশন ঘটাতে পারে। নিম্ন স্তরে সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম বিদ্যুৎ কেন্দ্রে জ্বালানি হিসেবে ব্যবহৃত হয়। তবে এটি যদি প্রায় ৯০ শতাংশ পর্যন্ত সমৃদ্ধ করা হয়, তবে তা পারমাণবিক অস্ত্র তৈরিতে ব্যবহার করা যেতে পারে।

প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পসহ মার্কিন কর্মকর্তারা এর আগে ইঙ্গিত দিয়েছিলেন, ওয়াশিংটন তেহরানের কাছ থেকে ‘শূন্য সমৃদ্ধকরণ’ চায়। এই মাসের শুরুর দিকে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বলেছিলেন, ইরানের সাথে যেকোনো চুক্তিতে ব্যালিস্টিক মিসাইল এবং ওই অঞ্চলে ইরানের মিত্রদের প্রতি সমর্থনের বিষয়টিও অন্তর্ভুক্ত থাকতে হবে।

তবে আরাগচি রবিবার স্পষ্ট করেছেন, ইরান বর্তমানে ‘কেবল পরমাণু বিষয়েই’ আলোচনা করছে। তিনি সিবিএস নিউজকে বলেন, ‘অন্য কোনো বিষয় এখানে নেই।’ একই সাথে তিনি একটি চুক্তিতে পৌঁছানোর ব্যাপারে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

গত ১৭ ফেব্রুয়ারি জেনেভায় পরমাণু আলোচনার দ্বিতীয় দফা শেষ হয়। চলতি মাসের শুরুতে ওমানেও যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান পরোক্ষ আলোচনায় বসেছিল।

আরাঘচি জানান, ইরানি প্রতিনিধি দল বৈঠকের আগে এমন একটি খসড়া তৈরির কাজ করছে যাতে ‘উভয় পক্ষের উদ্বেগ ও স্বার্থের প্রতিফলন’ থাকে, যাতে একটি ‘দ্রুত চুক্তি’ সম্পন্ন করা যায়।

এই শীর্ষ ইরানি কূটনীতিক আরও যোগ করেন, এই চুক্তিটি ২০১৫ সালে সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার আমলে হওয়া ‘জয়েন্ট কমপ্রিহেনসিভ প্ল্যান অফ অ্যাকশন’–এর চেয়েও ‘অগ্রগামী’ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। বিস্তারিত ব্যাখ্যা না দিয়ে তিনি বলেন, ‘এমন কিছু উপাদান আছে যা আগের চুক্তির চেয়ে অনেক ভালো হতে পারে। এই মুহূর্তে খুব বেশি বিস্তারিত বিবরণের প্রয়োজন নেই। তবে আমরা একমত হতে পারি যে আমাদের পরমাণু কর্মসূচি চিরকাল শান্তিপূর্ণ থাকবে এবং একই সাথে আমাদের ওপর থেকে আরও নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া হবে।’

তবে কিছু পর্যবেক্ষক চুক্তি হওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে খুব একটা আশাবাদী নন। থিংক ট্যাংক কুইন্সি ইনস্টিটিউটের নির্বাহী ভাইস প্রেসিডেন্ট ত্রিতা পারসি আল জাজিরাকে বলেন, ইরান সম্ভবত এমন এক প্রস্তাব দেবে যা তাদের আগের দেওয়া যেকোনো প্রস্তাবের চেয়ে অনেক বেশি নমনীয় হবে, কিন্তু সেটিও যথেষ্ট না-ও হতে পারে।

পারসি বলেন, ‘ইসরায়েলিরা ট্রাম্পকে এমন এক ন্যারেটিভ বা আখ্যান বুঝিয়েছে যেখানে ইরানকে তার প্রকৃত শক্তির চেয়ে অনেক বেশি দুর্বল হিসেবে চিত্রিত করা হয়েছে। ফলে তিনি এমন সব সর্বোচ্চ আত্মসমর্পণের দাবি তুলছেন যা বর্তমান বাস্তবতায় একেবারেই অবাস্তব।’

তিনি আরও বলেন, ‘যদি এই ধারণার সংশোধন না হয়, তবে ইরানিরা যদি যুক্তরাষ্ট্রের জন্য অত্যন্ত আকর্ষণীয় এবং নমনীয় কোনো প্রস্তাবও দেয়, তবুও ট্রাম্প হয়তো না বলবেন। কারণ তিনি এই ভুল বিশ্বাসে আছেন যে তিনি এর চেয়েও ভালো কিছু আদায় করে নিতে পারবেন।’

ইরানে হামলা কখন, আগামী সপ্তাহসহ ট্রাম্পের সামনে ৪ বিকল্প

শিয়া ও সুন্নি উভয় অক্ষের বিরুদ্ধে মোদিকে নিয়ে ‘হেক্সাগন’ গড়বেন নেতানিয়াহু

যুদ্ধ এড়াতে পরমাণু ইস্যুতে ছাড়ে প্রস্তুত, বিনিময়ে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে যা চাইছে ইরান

নতুন বিক্ষোভ শুরু হতেই ইউরেনিয়ামের মজুত কমাতে ইচ্ছুক ইরান

হিজবুল্লাহর নিয়ন্ত্রণ এখন ইরানের হাতে, যুদ্ধে জড়াতে পারে ইসরায়েলের সঙ্গে

বাইবেল অনুসারে পুরো মধ্যপ্রাচ্যের ওপর অধিকার আছে ইসরায়েলের: মার্কিন রাষ্ট্রদূত

ফের বিক্ষোভে উত্তাল ইরান, এবার নেতৃত্বে ছাত্ররা

নিজস্ব আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থার পরীক্ষা চালাল ইরান

কাতার ও বাহরাইন থেকে শত শত সেনা সরিয়ে নিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র

মার্কিন হামলার আশঙ্কায় নাগরিকদের দ্রুত ইরান ছাড়ার আহ্বান সার্বিয়া ও সুইডেনের