ইরানি হামলায় ইসরায়েলের দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর দিমোনা ও আরাদে প্রায় ২০০ জন আহত হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে ১১ জনের অবস্থা গুরুতর বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকেরা। ইরানের অন্তত দুটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করতে ইসরায়েলের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ব্যর্থ হওয়ার পর এই হতাহতের ঘটনা ঘটে।
ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম টাইমস অব ইসরায়েলের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হামলার পর প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ও দেশটির প্রতিরক্ষা বাহিনীর চিফ অব স্টাফ লেফটেন্যান্ট জেনারেল ইয়াল জামির ‘সব ফ্রন্টে’ ইসরায়েলের শত্রুদের বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকার করেন। ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল বনাম ইরান যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে এই ঘোষণা এল।
দক্ষিণ ইসরায়েলে হামলায় গুরুতর আহতদের মধ্যে দিমোনায় শেল বিস্ফোরণে জখম হওয়া ১২ বছর বয়সী এক ছেলে এবং আরাদে পরবর্তী হামলায় আহত ৫ বছর বয়সী এক মেয়ে রয়েছে। শনিবারজুড়ে দিমোনা এলাকায় বারবার ইরান ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে।
ইরানের রাষ্ট্রায়ত্ত গণমাধ্যম জানিয়েছে, হামলার লক্ষ্য ছিল ইসরায়েলের পারমাণবিক গবেষণা স্থাপনা, যা দিমোনা শহর থেকে প্রায় ১০ কিলোমিটার এবং আরাদ থেকে প্রায় ৩০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। একই দিনে ইরানের নাতাঞ্জ ইউরেনিয়াম এনরিচমেন্ট ফ্যাসিলিটিতে যুক্তরাষ্ট্রের হামলার প্রতিশোধ হিসেবে এই আঘাত হানা হয়েছে বলে দাবি করা হয়।
শিমন পেরেস নেগেভ নিউক্লিয়ার রিসার্চ সেন্টারকে বহুদিন ধরে ইসরায়েলের সন্দেহভাজন পারমাণবিক অস্ত্র কর্মসূচির মূল কেন্দ্র বলে মনে করা হয়। তবে নীতিগতভাবে জেরুজালেম এ ধরনের অস্ত্রের অস্তিত্ব স্বীকার বা অস্বীকার কোনোটিই করে না।
সামাজিক মাধ্যমে বিভিন্ন দিক থেকে ধারণ করা ভিডিওতে দেখা যায়, উচ্চগতিতে আকাশ চিরে নেমে আসা একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র শহরের ভেতরে আছড়ে পড়ছে। সামরিক মূল্যায়ন অনুযায়ী, ক্ষেপণাস্ত্রটিতে প্রচলিত ধরনের ইরানি ওয়ারহেড ছিল, যাতে শত শত কিলোগ্রাম বিস্ফোরক বহন করা হয়েছিল।