দক্ষিণ লেবাননে হিজবুল্লাহর সঙ্গে সম্মুখ যুদ্ধে আরও চার ইসরায়েলি সেনা নিহত হয়েছে বলে স্বীকার করেছে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ)। এদিকে ইসরায়েলি বিমান প্রতিরক্ষাব্যবস্থা লক্ষ্য করে ঝাঁকে ঝাঁকে ড্রোন হামলার দাবি করেছে হিজবুল্লাহ। অন্যদিকে লেবাননে দায়িত্ব পালনরত শান্তিরক্ষীদের ওপর হামলার ঘটনায় আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলে কঠোর প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে বিভিন্ন দেশ।
ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর দেওয়া তথ্যমতে, দক্ষিণ লেবাননে স্থল অভিযান চলাকালে নতুন করে চার সেনা নিহত হয়েছে। নিহত সেনাদের মধ্যে ২১ বছর বয়সী দুজন এবং ২২ বছর বয়সী একজনের পরিচয় প্রকাশ করা হলেও চতুর্থ সেনার নাম এখনো সামরিক সেন্সরশিপের কারণে গোপন রাখা হয়েছে। আইডিএফ জানিয়েছে, নাম প্রকাশের অনুমতি পাওয়ার পর বিস্তারিত জানানো হবে।
২ মার্চ থেকে দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলি আগ্রাসন ও স্থল অভিযান আরও বিস্তৃত হওয়ার পর থেকে এ পর্যন্ত অন্তত ১০ জন ইসরায়েলি সেনা নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ জানিয়েছে, আজ ভোর ৩টার দিকে তারা ইসরায়েলের মা’আলত-তারশিহা বসতিতে অবস্থিত একটি আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থাকে লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে। গোষ্ঠীটি দাবি করেছে, একঝাঁক ‘অ্যাটাক ড্রোন’ বা আত্মঘাতী ড্রোনের মাধ্যমে এই হামলা চালানো হয়। আজ সকাল থেকে ইসরায়েলের অভ্যন্তরে হিজবুল্লাহর এটি তৃতীয় দফার হামলা।
এদিকে দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলি হামলায় ইন্দোনেশিয়ার তিন শান্তিরক্ষী নিহত হওয়ার পর কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়। এক বিবৃতিতে মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রিকো রিকার্ডো সিরাইত বলেন, ‘শান্তিরক্ষী বাহিনীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার পাওয়া উচিত। সংঘাতরত সব পক্ষকে আন্তর্জাতিক মানবিক আইন মেনে চলতে এবং শান্তিরক্ষীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আমরা জোর আহ্বান জানাচ্ছি।’
এর আগে ইন্দোনেশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুগিওয়ানো এই হামলাকে ‘জঘন্য’ বলে বর্ণনা করেন এবং একে আন্তর্জাতিক আইনের চরম লঙ্ঘন হিসেবে অভিহিত করেন। তিনি এই ঘটনার একটি ‘দ্রুত, পুঙ্খানুপুঙ্খ এবং স্বচ্ছ তদন্ত’ দাবি করেছেন।