লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলে আবাসিক এলাকায় ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর নিষিদ্ধ সাদা ফসফরাস ব্যবহার করছে। এর তীব্র নিন্দা জানিয়েছে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ (এইচআরডব্লিউ)। সংস্থাটি জানিয়েছে, এই হামলা আন্তর্জাতিক মানবিক আইনের চরম লঙ্ঘন এবং বেসামরিক নাগরিকদের জন্য দীর্ঘমেয়াদি ঝুঁকির কারণ।
এক প্রতিবেদনে এইচআরডব্লিউ জানায়, গত ৩ মার্চ দক্ষিণ লেবাননের ইয়োহমোর গ্রামে জনবসতির ওপর সাদা ফসফরাস গোলা নিক্ষেপের সাতটি ছবি তারা যাচাই করেছে। এই হামলায় অন্তত দুটি ঘরবাড়ি ভস্মীভূত হয়েছে। হিউম্যান রাইটস ওয়াচের লেবানন গবেষক রমজি কাইস বলেন, ‘জনবসতিপূর্ণ এলাকায় এই দাহ্য অস্ত্রের ব্যবহার অত্যন্ত উদ্বেগজনক। এর ফলে বেসামরিক নাগরিকদের মৃত্যু বা এমন ভয়াবহ ক্ষত হতে পারে যা সারা জীবনের কষ্টের কারণ হয়ে দাঁড়াবে।’
এদিকে গত কয়েক দিনে মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিতে ব্যাপক পরিবর্তন ও সামরিক সংঘাতের খবর পাওয়া গেছে। ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান জানিয়েছেন, নতুন সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে মুজতবা খামেনির নিয়োগ দেশটির জন্য ‘মর্যাদা ও শক্তির নতুন যুগের’ সূচনা। দেশের রাজনৈতিক ও সামরিক নেতৃত্ব ঐক্যবদ্ধভাবে নতুন নেতার পেছনে দাঁড়িয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।
এ ছাড়া পারস্য উপসাগরীয় দেশগুলোতে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। কাতার একটি ক্ষেপণাস্ত্র হামলা নস্যাৎ করার দাবি করেছে। অন্যদিকে, সৌদি আরব তাদের শায়বাহ তেলক্ষেত্রের দিকে ধেয়ে আসা একাধিক ড্রোন ভূপাতিত করার খবর জানিয়েছে।
বাহরাইনের সিতরা এলাকায় ইরানি ড্রোন হামলায় অন্তত ৩২ জন আহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে চারজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। সংযুক্ত আরব আমিরাত বেশ কিছু ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ভূপাতিত করেছে। ইরাকের বাগদাদ ও এরবিল বিমানবন্দরের কাছেও ড্রোন প্রতিরোধের খবর পাওয়া গেছে।
এদিকে, কাতারজুড়ে ‘বিভ্রান্তিকর তথ্য’ ছড়ানোর অভিযোগে ৩১৩ জনকে আটক করেছে দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। আটকদের মধ্যে বিভিন্ন দেশের নাগরিক রয়েছে। মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, অনুমোদনহীন ভিডিও চিত্র ধারণ, গুজব ছড়ানো এবং জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টির দায়ে তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলে ইসরায়েলি হামলা অব্যাহত রয়েছে। সবশেষ খবর অনুযায়ী, দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলি বোমা হামলায় অন্তত ৬ জন নিহত হয়েছেন। পাল্টা জবাব হিসেবে হিজবুল্লাহও ইসরায়েলি বাহিনীর ওপর হামলা চালানোর দাবি করেছে।