হোম > বিশ্ব > মধ্যপ্রাচ্য

মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের পর আল-তানফ ঘাঁটির নিয়ন্ত্রণ নিল সিরীয় সেনাবাহিনী

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­

২০২৪ সালের ডিসেম্বরে আল-তানফ ঘাঁটিতে সিরিয়ান ডেমোক্রেটিক ফোর্সের এক সদস্যের সঙ্গে করমর্দন করছেন একজন মার্কিন সৈন্য। ছবি: ইউএস আর্মি

মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের পরপরই ইরাক ও জর্ডান সীমান্তসংলগ্ন আল-তানফ সামরিক ঘাঁটির নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে সিরিয়ার সরকারি বাহিনী। আজ বৃহস্পতিবার এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানিয়েছে সিরিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়।

কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা সিরিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের বিবৃতির বরাত দিয়ে জানিয়েছে, আজ দুই দেশের মধ্যে সমন্বয়ের মাধ্যমে সিরিয়ান আরব আর্মির ইউনিটগুলো আল-তানফ ঘাঁটি ও এর আশপাশের এলাকার নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে। পাশাপাশি সেনাবাহিনীর ইউনিটগুলো নিকটবর্তী সিরিয়া-ইরাক-জর্ডান সীমান্তজুড়ে মোতায়েন শুরু করেছে। আগামী কয়েক দিনের মধ্যে সীমান্তরক্ষী বাহিনীও সেখানে দায়িত্ব নেবে বলে জানানো হয়েছে।

২০১৪ সালে সিরিয়ার গৃহযুদ্ধ চলাকালে আল-তানফ ঘাঁটি প্রতিষ্ঠা করা হয়। তখন ইসলামিক স্টেট (আইএসআইএল/আইএসআইএস) সিরিয়া ও ইরাকের বিস্তীর্ণ অঞ্চল নিয়ন্ত্রণ করছিল। যুক্তরাষ্ট্র-নেতৃত্বাধীন বৈশ্বিক জোটের আইএসবিরোধী অভিযানের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র ছিল এই ঘাঁটি। এরপর ২০১৭ সালে আইএসকে সামরিকভাবে পরাজিত ঘোষণা করা হয়।

এ বিষয়ে মার্কিন সামরিক বাহিনী আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি। তবে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তাঁর প্রথম মেয়াদ থেকেই সিরিয়া থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের আগ্রহ প্রকাশ করে আসছিলেন।

এই ঘাঁটি থেকে সেনা প্রত্যাহারের আগে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় কুর্দি নেতৃত্বাধীন সিরিয়ান ডেমোক্রেটিক ফোর্সেস (এসডিএফ) যারা আইএসবিরোধী লড়াইয়ে যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ মিত্র ছিল—তাদের সিরীয় সরকারি প্রতিষ্ঠানে একীভূত করার একটি চুক্তি হয়। যুক্তরাষ্ট্র এ চুক্তিকে সিরিয়ায় জাতীয় ঐক্য ও পুনর্মিলনের পথে বড় পদক্ষেপ হিসেবে বর্ণনা করে।

গত মাসে আল-শারার সরকার দেশের বিভিন্ন প্রান্তে নিয়ন্ত্রণ বাড়ানোর উদ্যোগ নিলে উত্তর-পূর্ব সিরিয়ার কুর্দি-নিয়ন্ত্রিত বিস্তীর্ণ এলাকা সিরীয় বাহিনীর হাতে চলে যায়। এ সময় এসডিএফের সঙ্গে সংঘর্ষে প্রাণহানির ঘটনাও ঘটে। পরে উভয় পক্ষের মধ্যে যুদ্ধবিরতি চুক্তি হয়।

এদিকে সিরীয় বাহিনীর অগ্রযাত্রার মধ্যে উত্তর-পূর্ব সিরিয়ার এসডিএফ-নিয়ন্ত্রিত কারাগারগুলো থেকে হাজার হাজার আইএস বন্দীকে সরিয়ে নিচ্ছে মার্কিন সেনাবাহিনী। এসব স্থাপনা এখন সিরীয় সরকারের নিয়ন্ত্রণে যাচ্ছে।

সিরিয়ায় মার্কিন সেনা উপস্থিতির সঠিক সংখ্যা দীর্ঘদিন ধরেই অস্পষ্ট। কারণ, সিরিয়ায় মার্কিন অভিযানগুলোর অধিকাংশই গোপনীয়। তবে ২০২৫ সালের জুলাইয়ে পেন্টাগন জানিয়েছিল, সিরিয়ায় প্রায় ১ হাজার ৫০০ মার্কিন সেনা রয়েছে। বর্তমানে সেই সংখ্যা কমে ৯০০-তে দাঁড়িয়েছে বলে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা এপি।

এই মাসের শুরুতে আল জাজিরার এক প্রতিবেদক জানান, উত্তর-পূর্ব হাসাকা প্রদেশের আল-শাদ্দাদি এলাকায় একটি সামরিক স্থাপনার চারপাশের নজরদারি টাওয়ারগুলো থেকে মার্কিন সেনারা উপস্থিতি কমাচ্ছেন। একটি টাওয়ার থেকে মার্কিন পতাকা নামাতেও দেখা গেছে। ঘাঁটির বিমানপথে উড্ডয়ন ও অবতরণ নিয়ন্ত্রণে ব্যবহৃত সরঞ্জামও সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।

গত বছরের ডিসেম্বরে পালমিরা শহরে এক হামলায় দুই মার্কিন সেনা ও একজন বেসামরিক দোভাষী নিহত হন। ওই ঘটনার পর চলতি বছরের জানুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্র সিরিয়ায় আইএসের বিভিন্ন আস্তানা লক্ষ্য করে হামলা চালায়।

ইসলামি বিপ্লবের ৪৭তম বার্ষিকীতে ইরানিদের ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান প্রেসিডেন্টের

গাজায় ২৮৪২ ফিলিস্তিনিকে ‘বাষ্পীভূত’ করেছে ইসরায়েল, ব্যবহৃত হয়েছে যেসব বোমা

গাজায় পাঠাতে ৮ হাজার সেনা প্রস্তুত করছে ইন্দোনেশিয়া

ইরানের কাছাকাছি আরও এক বিমানবাহী রণতরি পাঠাচ্ছেন ট্রাম্প

ফিলিস্তিনের পশ্চিম তীর দখলে নিতে নতুন পদক্ষেপ নিল ইসরায়েল

তাৎক্ষণিকভাবে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধের আশঙ্কা নেই, হামলায় রেজিম পরিবর্তন সম্ভব নয়: তুরস্ক

সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম ফের লঘু করতে প্রস্তুত ইরান, যুক্তরাষ্ট্রকে যে শর্ত দিল

ইরানি জলসীমা থেকে মার্কিন জাহাজগুলোকে দূরে থাকার নির্দেশ

যুক্তরাষ্ট্রকে ছাড়াই ইরানে হামলার কথা ভাবছে ইসরায়েল

‘ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের ধারণা কবর দিতে’ পশ্চিম তীরে ইহুদিদের জমি কেনার ক্ষমতা দিল ইসরায়েল