হোম > বিশ্ব > মধ্যপ্রাচ্য

যুক্তরাষ্ট্র-ইরান উত্তেজনায় তেহরান দূতাবাস থেকে কর্মীদের সরিয়ে নিল যুক্তরাজ্য

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­

তেহরানে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাস। ছবি: ইপিএ

যুক্তরাষ্ট্র-ইরান উত্তেজনা ও যুদ্ধ পরিস্থিতির আশঙ্কায় তেহরান দূতাবাস থেকে সাময়িকভাবে কর্মীদের সরিয়ে নিয়েছে যুক্তরাজ্য। একই সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিতিশীল পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে বিশ্বের একাধিক দেশ তাদের নাগরিকদের ইরান ছাড়ার বিষয়ে সতর্কবার্তা জারি করেছে।

ব্রিটিশ পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, ‘সতর্কতামূলক ব্যবস্থা’ হিসেবে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। তবে ইরানের রাজধানীতে তাদের দূতাবাস বর্তমানে দূরবর্তী বা রিমোট পদ্ধতিতে কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছে।

এদিকে, ইসরায়েলে নিযুক্ত মার্কিন দূতাবাস শুক্রবার জরুরি নয় এমন কর্মী এবং তাঁদের পরিবারকে দেশ ত্যাগের অনুমতি দিয়েছে। নিউ ইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইসরায়েলে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত মাইক হাকাবি কর্মীদের উদ্দেশে বলেছেন, যারা চলে যেতে চান তারা যেন ‘আজই’ সেই ব্যবস্থা করেন। ইমেইলে হাকাবি কর্মীদের প্যানিক বা আতঙ্কিত না হওয়ার পরামর্শ দিয়ে বলেছেন, বাণিজ্যিক ফ্লাইট চালু থাকতেই যেন প্রয়োজনীয় পরিকল্পনা সেরে নেওয়া হয়।

এর কয়েক দিন আগেই নিরাপত্তার কারণ দেখিয়ে লেবাননের বৈরুত দূতাবাস থেকে জরুরি নয় এমন সব কর্মীকে সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিল ওয়াশিংটন।

উদ্ভূত পরিস্থিতির কারণে চীন, ভারত ও কানাডাসহ বেশ কয়েকটি দেশ তাদের নাগরিকদের অতি দ্রুত ইরান ছাড়ার পরামর্শ দিয়েছে। এরই মধ্যে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, আগামী সোমবার পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও ইসরায়েল সফরে যাবেন এবং সেখানে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে বৈঠক করবেন। ইরানের পরমাণু ইস্যুসহ বিভিন্ন আঞ্চলিক অগ্রাধিকার নিয়ে তাঁদের মধ্যে আলোচনা হবে বলে জানা গেছে।

যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের সন্দেহ, ইরান পরমাণু অস্ত্র তৈরির পথে এগোচ্ছে। তবে তেহরান বরাবরই এই দাবি অস্বীকার করে আসছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে কোনো চুক্তিতে না পৌঁছালে ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

২০০৩ সালে ইরাক আক্রমণের পর এবারই মধ্যপ্রাচ্যে সবচেয়ে বেশি সামরিক উপস্থিতি বাড়িয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। ট্রাম্প যাকে একটি ‘আর্মাডা’ বা বিশাল নৌবহর হিসেবে বর্ণনা করেছেন। এর মধ্যে রয়েছে দুটি বিমানবাহী রণতরী, যুদ্ধজাহাজ, ফাইটার জেট এবং রিফুয়েলিং এয়ারক্রাফট। গত ১৯ ফেব্রুয়ারি ট্রাম্প বলেছিলেন, আগামী ১০ দিনের মধ্যেই বিশ্ব জানতে পারবে চুক্তি হচ্ছে নাকি সামরিক পদক্ষেপ।

এর মধ্যে গতকাল বৃহস্পতিবার জেনেভায় ওমানের মধ্যস্থতায় দুই দেশের মধ্যে পরোক্ষ আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়েছে। ওমান জানিয়েছে, আলোচনায় ‘উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি’ হয়েছে এবং খুব দ্রুতই পরবর্তী বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। ইরানও এই আলোচনাকে ইতিবাচক হিসেবে অভিহিত করেছে।

তবে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভান্স ওয়াশিংটন পোস্টকে জানিয়েছেন, সামরিক হামলার বিষয়টি বিবেচনায় থাকলেও যুক্তরাষ্ট্র দীর্ঘস্থায়ী কোনো যুদ্ধে জড়াতে চায় না। তিনি বলেন, ‘আমরা সবাই কূটনৈতিক সমাধানই পছন্দ করি, তবে সবকিছু নির্ভর করছে ইরানিদের পদক্ষেপ ও বক্তব্যের ওপর।’

হতাহত নিয়ে পাকিস্তান-আফগানিস্তানের পাল্টাপাল্টি দাবি

অগ্রগতি হলেও ফলাফল ছাড়াই শেষ ইরান-যুক্তরাষ্ট্র আলোচনা, ঝুলে রইল যুদ্ধের শঙ্কা

শান্তি কিংবা যুদ্ধ, উভয়ের জন্য প্রস্তুত ইরান

৫০ দিন মৃত্যুর সঙ্গে লড়ে হার মানলেন ইরানের বিক্ষোভে আহত ‘বডিবিল্ডার’

‘নাম লুকিয়ে’ বিক্রি হচ্ছে ইসরায়েলি খেজুর

স্ত্রীর সঙ্গে প্রথম দেখা ভারতীয় রেস্তোরাঁয়, মোদিকে জানিয়ে ‘আপ্লুত’ নেতানিয়াহু

উত্তেজনার মধ্যেই জেনেভায় যুক্তরাষ্ট্র-ইরান তৃতীয় দফার আলোচনা শুরু

মার্কিন–ইসরায়েলি গোয়েন্দা অনুপ্রবেশ ও স্টেলথ যুদ্ধবিমান ঠেকাতে ইরানকে নজরদারি প্রযুক্তি ও রাডার দিচ্ছে চীন

তড়িঘড়ি তেল ট্যাংকারে ভরছে ইরান, উৎপাদন বাড়িয়েছে সৌদি আরবও

ইরানে আগ্রাসনের পক্ষে ট্রাম্পের উপদেষ্টাদের অনেকে, চাওয়া—আগে হামলা করুক ইসরায়েল