মধ্যপ্রাচ্যে মোতায়েন করা যুক্তরাষ্ট্রের অত্যাধুনিক ‘থাড’ ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষাব্যবস্থার চারটি রাডার ধ্বংস করার দাবি করেছে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)। গত ২৪ ঘণ্টায় চালানো পৃথক অভিযানে এসব রাডার গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে বলে আজ রোববার তেহরানের পক্ষ থেকে জানানো হয়।
ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা ইরনার প্রতিবেদন অনুযায়ী, মার্কিন ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা অবকাঠামো লক্ষ্য করে আইআরজিসি একযোগে হামলা চালায়। এসব হামলায় ইরানের নিজস্ব প্রযুক্তিতে তৈরি ‘প্রিসিশন গাইডেড’ বা নিখুঁত নিশানায় আঘাত হানতে সক্ষম ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছে। আইআরজিসির দাবি, তাদের ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্রগুলো সরাসরি থাড সিস্টেমের রাডারগুলোতে আঘাত হানে এবং সেগুলোকে অকেজো করে দেয়।
কেন গুরুত্বপূর্ণ এই ‘থাড’ সিস্টেম
টার্মিনাল হাই অল্টিটিউড এরিয়া ডিফেন্স বা থাড হলো মার্কিন সামরিক বাহিনীর অন্যতম প্রধান প্রতিরক্ষা ঢাল। এটি মূলত স্বল্প, মাঝারি ও অন্তর্বর্তী পাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র শনাক্ত এবং মাঝ আকাশে সেগুলোকে ধ্বংস করার জন্য ডিজাইন করা হয়েছে। এই ব্যবস্থার রাডারটি অত্যন্ত শক্তিশালী, যা অনেক দূর থেকেই শত্রু ক্ষেপণাস্ত্রের গতিবিধি নজরদারি করতে পারে।
প্রতিটি ‘থাড’ ইন্টারসেপ্টরের দাম ১ কোটি ২৭ লাখ ডলারের বেশি। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরার এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধের প্রথম সাত দিনেই বিপুল পরিমাণে টমাহক, থাড ও প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্রের মতো অত্যন্ত ব্যয়বহুল প্রতিরক্ষাব্যবস্থা ব্যবহার করে ফেলেছে এবং এখনো করছে। এর মধ্যে আজ আইআরজিসি চারটি ‘থাড’ ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষাব্যবস্থা ধ্বংসের দাবি করেছে। ফলে এই যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান ব্যয় প্রতিদিন গড়ে ১০০ কোটি (১ বিলিয়ন) ডলার ছাড়িয়ে গেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।