হোম > বিশ্ব > মধ্যপ্রাচ্য

গাজায় ৩৮ হাজার নারী ও কন্যাশিশুকে হত্যা করেছে ইসরায়েল, দৈনিক ৪৭ জন

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­

ইসরায়েলি হামলায় নিহত স্বজনের শোকে আহাজারি করছেন গাজার নারীরা। ছবি: এএফপি

ইসরায়েল ২০২৫ সালের শেষ নাগাদ ৩৮ হাজারের বেশি নারী ও কন্যাশিশুকে হত্যা করেছে। এই সংখ্যা গাজায় ইসরায়েলি আগ্রাসনে নিহত মোট গাজাবাসীর অর্ধেকের বেশি। জাতিসংঘের নারীবিষয়ক সংস্থা ইউএন উইমেন গত শুক্রবার এই তথ্য জানিয়েছে। তুরস্কের সংবাদমাধ্যম ডেইলি সাবাহের প্রতিবেদন থেকে এই তথ্য জানা গেছে।

জেনেভায় এক সংবাদ সম্মেলনে ইউএন উইমেনের মুখপাত্র সোফিয়া ক্যালটর্প বলেন, ‘২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে ২০২৫ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত গাজায় ৩৮ হাজারের বেশি নারী ও কন্যাশিশু নিহত হয়েছে, যা ইসরায়েলি বিমান হামলা ও স্থল সামরিক অভিযানের ফলাফল।’

সোফিয়া ক্যালটর্প আরও বলেন, ‘এর মধ্যে ২২ হাজারের বেশি নারী এবং ১৬ হাজার কন্যাশিশু রয়েছে। এর অর্থ হলো, প্রতিদিন গড়ে অন্তত ৪৭ জন নারী ও কন্যাশিশু নিহত হয়েছে।’ সংস্থাটি বলেছে, প্রকৃত সংখ্যা সম্ভবত আরও বেশি। কারণ, অনেক মরদেহ এখনো ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়ে আছে এবং তথ্য সংগ্রহের ব্যবস্থা অত্যন্ত সীমিত হয়ে পড়েছে। ক্যালটর্প যোগ করেন, ‘গাজায় আগের সংঘাতগুলোর তুলনায় এবার নিহত ব্যক্তিদের মধ্যে নারী ও শিশুদের অনুপাত অনেক বেশি।’

ইউএন উইমেনের এক প্রতিবেদনে দেখা গেছে, ২০০৮-২০০৯ সালের সংঘাতে নিহত ব্যক্তিদের মধ্যে নারী ও শিশুদের হার ছিল ১৫ শতাংশ এবং ২০১৪ সালের সংঘাতে তা ছিল ২২ শতাংশ। ইউএন উইমেন জানিয়েছে, যাঁরা বেঁচে আছেন, তাঁরা প্রতিনিয়ত প্রাণহানি, অনাহার, বারবার বাস্তুচ্যুতি এবং প্রয়োজনীয় সেবার ক্ষেত্রে চরম সীমাবদ্ধতার মুখোমুখি হচ্ছেন।

ক্যালটর্প বলেন, ‘ভয়াবহ মৃত্যুহারের পাশাপাশি গাজায় প্রায় ১১ হাজার নারী ও শিশু এমন মারাত্মকভাবে আহত হয়েছে যে তারা আজীবন পঙ্গুত্ব নিয়ে বেঁচে আছে।’ তিনি জানান, এই যুদ্ধ ফিলিস্তিনি পরিবারগুলোর চিত্র বদলে দিয়েছে। গাজার হাজার হাজার পরিবারের প্রধান এখন নারীরা। তাঁদের স্বামীরা মারা যাওয়ায় কোনো আয়, সহায়তা বা মৌলিক সেবা ছাড়াই এখন তাঁদের পরিবার সামলাতে হচ্ছে।

সংঘাতের সময় প্রায় ১০ লাখ নারী ও শিশু বারবার বাস্তুচ্যুত হয়েছে এবং প্রায় ৭ লাখ ৯০ হাজার নারী ও শিশু তীব্র খাদ্যসংকটের শিকার হয়েছে। ক্যালটর্প বলেন, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি আরও অবনতি হয়েছে। সীমান্ত পারাপার বন্ধ এবং মানবিক সহায়তা পৌঁছাতে বাধার সৃষ্টি হওয়ায় গাজায় সংকট আরও তীব্র হয়েছে।

উল্লেখ্য, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর ইসরায়েলে হামাসের হামলার পর শুরু হওয়া ইসরায়েলের দুই বছরের বেশি সময়ের যুদ্ধের পর ২০২৫ সালের অক্টোবরে ইসরায়েল ও হামাসের মধ্যে একটি ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করা হয়। গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের মতে, যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর থেকে এ পর্যন্ত অন্তত ৭৬৬ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছে। ইউএন উইমেন জানিয়েছে, যুদ্ধবিরতি সত্ত্বেও সাম্প্রতিক মাসগুলোতে নারী ও শিশুদের হত্যাকাণ্ড অব্যাহত রয়েছে।

বাঙ্কার বাস্টারেও অভেদ্য ইরানের ‘পিকঅ্যাক্স মাউন্টেন’, সেখানেই কি চলছে পরমাণু সমৃদ্ধকরণ

ভিজিট ভিসায় আর হজ করা যাবে না, সৌদির নতুন নির্দেশনা

যুদ্ধবিরতি ভেঙে হামলা: লেবাননে আরও এক ইসরায়েলি সেনা নিহত

হরমুজ অতিক্রমের চেষ্টা করলে প্রতিটি জাহাজ টার্গেট করা হবে: আইআরজিসি

এবার লেবাননেও ভূমি দখল করে হলুদ লাইন চালু করল ইসরায়েল

যুক্তরাষ্ট্রের নতুন প্রস্তাব পর্যালোচনা করছে ইরান, তবে আপস না করার ঘোষণা

হরমুজে দুটি ভারতীয় জাহাজে হামলা, ইরানি রাষ্ট্রদূতকে তলব

হরমুজ প্রণালিতে ভারতীয় জাহাজে হামলা, ইরানি রাষ্ট্রদূতকে তলব

মোজতবার বার্তায় প্রতিরোধের অঙ্গীকার, নেই আলোচনার কথা—ইরান যুদ্ধ কি থামছে না

জাহাজে গুলি চালিয়ে ইরান জানান দিল—হরমুজ তাদের নিয়ন্ত্রণে