হোম > বিশ্ব > মধ্যপ্রাচ্য

দুপক্ষের সংঘর্ষে নিহত ৬—এবার পশ্চিম তীরে বড় অভিযানের প্রস্তুতি ইসরায়েলের

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­

শুক্রবার পশ্চিমতীরের ফারাতা গ্রামে ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীরা বাড়িঘর ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে আগুন ধরিয়ে দিলে ধোঁয়ার কুণ্ডলী উঠতে দেখা যায়। ছবি: সিএনএন

অধিকৃত ফিলিস্তিনের পশ্চিম তীরে একটি সংঘর্ষের ঘটনায় চার ফিলিস্তিনি ও দুই ইসরায়েলি নিহত হওয়ার পর ওই এলাকায় বড় ধরনের সামরিক অভিযান চালানোর প্রস্তুতি শুরু করেছে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী। শুক্রবার (২৪ জুলাই) সংঘটিত ওই সংঘর্ষের পর ফিলিস্তিনি গ্রাম তেল ও বুরেইজ এবং কাছের ইহুদি বসতি শিলোতে কারফিউ জারি করেছে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ)।

ইসরায়েলি সেনাবাহিনী দাবি করেছে, আজ একদল ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারী বেসামরিক নাগরিকদের প্রবেশ নিষিদ্ধ এমন একটি এলাকায় ‘অনুমোদনহীন ও সমন্বয়হীনভাবে’ হাঁটতে গেলে স্থানীয় ফিলিস্তিনিদের সঙ্গে তাঁদের সংঘর্ষ হয়। তেল গ্রামের কাছে ওই সংঘর্ষ একপর্যায়ে বন্দুকযুদ্ধে রূপ নেয়। এতে চার ফিলিস্তিনি ও দুই ইসরায়েলি সেনা নিহত হন।

ইসরায়েলের উগ্র ডানপন্থী অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোটরিচ এই ঘটনার প্রতিক্রিয়ায় ওই এলাকার ফিলিস্তিনি গ্রামগুলো ধ্বংসের আহ্বান জানিয়েছেন। আজ তিনি বলেন, নিজেদের সুরক্ষার জন্য মানুষগুলোকে সরিয়ে নিতে হবে এবং এলাকায় নিরাপত্তা ও প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠার জন্য সন্ত্রাসী অবকাঠামো এবং সন্ত্রাসীদের নির্মূল করতে হবে।

ঘটনাস্থলের একটি ভিডিওতে ইসরায়েলি সেনা ও অস্ত্রধারী বসতি স্থাপনকারীদের ফিলিস্তিনিদের এলাকা থেকে সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করতে দেখা গেছে। পটভূমিতে হিব্রু ভাষায় ‘প্রতিশোধ’ নেওয়ার আহ্বানও শোনা যায়। ভিডিওতে এক অস্ত্রধারী বসতি স্থাপনকারীকে দুই ফিলিস্তিনি ব্যক্তির দিকে এগিয়ে গিয়ে রাইফেল দিয়ে তাঁদের সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করতে দেখা যায়। পরে তাঁদের একজন ওই অস্ত্রটি কেড়ে নিলে বিভিন্ন স্থান থেকে অন্তত এক ডজন গুলির শব্দ শোনা যায়।

ইসরায়েলি সেনাবাহিনী জানিয়েছে, ফিলিস্তিনি ওই ব্যক্তি কাছের হাভাত গিলাদ বসতির এক নিরাপত্তাকর্মীর কাছ থেকে অস্ত্রটি কেড়ে নেন। পরে ওই নিরাপত্তাকর্মী নিহত হন। সংঘর্ষে আরও এক ইসরায়েলি সেনা নিহত হয়েছেন বলে দাবি করেছে আইডিএফ। তবে ওই ভিডিওতে ঠিক কখন ওই দুই ইসরায়েলি নিহত হয়েছেন, তা স্পষ্ট নয়।

ফিলিস্তিনের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের দাবি, নিহত চার ফিলিস্তিনিকে ইসরায়েলি সেনারা গুলি করে হত্যা করেছে। তেল গ্রামের কমিটির প্রধান ওয়ালিদ জেইদেন জানিয়েছেন, নিহত ব্যক্তিরা একই পরিবারের সদস্য—দুই সহোদর ও দুই চাচাতো ভাই। এই ঘটনায় আরও অন্তত তিনজন আহত হয়েছেন।

আইডিএফ ঘটনাটিকে ‘সন্ত্রাসী হামলা’ হিসেবে বিবেচনা করছে এবং ঘটনায় জড়িত কয়েক ডজন ফিলিস্তিনিকে ধরতে এলাকায় ‘বড় ধরনের’ অভিযান চালানোর ঘোষণা দিয়েছে। ওই এলাকায় দায়িত্ব পালনরত সেনাদের ছুটি বাতিল করা হয়েছে এবং অতিরিক্ত সেনা মোতায়েনের প্রস্তুতি চলছে।

এদিকে পশ্চিম তীরের বিভিন্ন এলাকায় ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীদের হামলাও অব্যাহত রয়েছে। ফারাতা, ইমাতিন, জিত, ইরাক বুরিন ও হেবরনের মাসাফের ইয়াত্তা এলাকায় হামলার খবর পাওয়া গেছে। ফারাতায় বসতি স্থাপনকারীদের হামলায় বাড়িঘর, গাড়ি ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে আগুন দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। ফিলিস্তিনি রেড ক্রিসেন্ট জানিয়েছে, ওই হামলায় অন্তত আটজন আহত হয়েছেন; তাঁদের মধ্যে ছয়জন গুলিবিদ্ধ হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

এই ঘটনার পর ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ওই এলাকায় নতুন বসতি স্থাপনের ফাঁড়ি বা খামার দ্রুত প্রতিষ্ঠা এবং বিদ্যমান ফাঁড়িগুলোকে বৈধতা দেওয়ার প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করার নির্দেশ দিয়েছেন।

অধিকৃত পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বসতিগুলো আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী অবৈধ বলে বিবেচিত হলেও সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সেখানে বহু অননুমোদিত বসতি স্থাপনের ফাঁড়ি গড়ে উঠেছে। আজকের সংঘর্ষটি পশ্চিম তীরে সাম্প্রতিক সহিংসতা বৃদ্ধির ধারাবাহিকতায় নতুন করে উত্তেজনা বাড়িয়ে তুলেছে।

১৯৭২ সালে ইসরায়েলের বিমানবন্দরে হামলায় অংশ নেওয়া জাপানির মৃত্যু

হুতিদের শক্তি বাড়াতে আইআরজিসি কমান্ডার ও ক্ষেপণাস্ত্র সরঞ্জাম পাঠিয়েছে ইরান: প্রতিবেদন

হুতিদের জন্য কমান্ডার ও ক্ষেপণাস্ত্র-ড্রোন সরঞ্জাম পাঠিয়েছে ইরান

ইরানে ‘ভয়াবহ হামলার’ চূড়ান্ত দ্বারপ্রান্তে যুক্তরাষ্ট্র

ইরানে বড় ধরনের হামলার কথা ভাবছেন ট্রাম্প

গাজার তাঁবু শিবিরে সিগারেট জ্বালানোর লাইটারই এখন জীবনরেখা

বিশ্ববাজারে তেলের দাম ১০০ ডলার ছাড়াল, মূল্যস্ফীতির শঙ্কা

সিআইএ আস্তানায় ইরানের হামলা—রাশিয়ার ভূমিকা নিয়ে সন্দেহ

যুদ্ধ ছড়াচ্ছে মান্দেবে, চাপে যুক্তরাষ্ট্র

মন্ত্রীর নেতৃত্বে আল-আকসা মসজিদে ২৩০০ ইসরায়েলির অনুপ্রবেশ, জেরুজালেমে উত্তেজনা