হোম > বিশ্ব > মধ্যপ্রাচ্য

গাজায় ১ লাখ টন বিস্ফোরক ফেলেছে ইসরায়েল, চালিয়েছে ১২ হাজার হত্যাকাণ্ড

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­

গাজায় ইসরায়েলি হামলার পর ধোঁয়ার কুণ্ডলী দেখা যাচ্ছে। ছবি: আনাদোলু

গাজায় ইসরায়েলি আগ্রাসন চলছে ১৯ মাসের বেশি সময় ধরে। এই সময়ের মধ্যে হানাদার ইসরায়েল অঞ্চলটিতে ১ লাখ টনেরও বেশি বিস্ফোরক ফেলেছে, যার বড় একটি অংশই এখনো অবিস্ফোরিত রয়ে গেছে। এ ছাড়া, এই সময়ে দখলদার বাহিনী ১২ হাজারের বেশি হত্যাকাণ্ড চালিয়েছে। এদিকে, অঞ্চলটিতে ইসরায়েলি হামলায় নিখোঁজ ১১ হাজারের বেশি মানুষসহ সব মিলিয়ে ৬২ হাজার ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছে।

লন্ডন থেকে পরিচালিত মধ্যপ্রাচ্যকেন্দ্রিক সংবাদমাধ্যম মিডল ইস্ট মনিটর তুরস্কের রাষ্ট্র পরিচালিত সংবাদ সংস্থা আনাদোলুর বরাত দিয়ে জানিয়েছে, গাজা ভূখণ্ডে ১৯ মাস আগে অভিযান শুরুর পর ইসরায়েল ১ লাখ টন বিস্ফোরক ফেলেছে। এতে ৬২ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনি নিহত বা নিখোঁজ হয়েছে। এ সময় ইসরায়েলি বাহিনী ১২ হাজারেরও বেশি হত্যাকাণ্ড চালিয়েছে।

গতকাল বৃহস্পতিবার গাজার সরকারি জনসংযোগ বিভাগ এসব তথ্য জানিয়েছে। বিবৃতিতে ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর শুরু হওয়া যুদ্ধের মূল পরিসংখ্যান তুলে ধরা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, ইসরায়েলের অবিরাম বোমাবর্ষণে ৬২ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনি নিহত বা নিখোঁজ হয়েছে। এর মধ্যে ১০ হাজারেরও বেশি মানুষ এখনো ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়ে আছে, যাদের ভাগ্যে কী ঘটেছে তা অজানা।

ইসরায়েল ১২ হাজারেরও বেশি গণহত্যা চালিয়েছে। এর মধ্যে ১১ হাজার ৯২৬টি গণহত্যা চালানো হয়েছে ফিলিস্তিনি পরিবারের সদস্যদের লক্ষ্য করে। এতে ২ হাজার ২০০টি পরিবার সম্পূর্ণ নিশ্চিহ্ন হয়ে গেছে এবং ৬ হাজার ৩৫০ জনের নাম সিভিল রেজিস্ট্রি থেকে মুছে গেছে।

অভিযানে গাজার কবরস্থানগুলোও টার্গেট করা হয়েছে। ইসরায়েলি বাহিনী গাজার কবর থেকে ২ হাজার ৩০০টি মরদেহ চুরি করেছে এবং হাসপাতালগুলোর ভেতরে সাতটি গণকবর তৈরি করেছে। এ পর্যন্ত ৫২৯টি মরদেহ উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে।

স্বাস্থ্য খাতের ভয়াবহতা তুলে ধরে গাজার জনসংযোগ বিভাগ জানিয়েছে, জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুতি এবং গাজার স্বাস্থ্য পরিকাঠামো ভেঙে পড়ার কারণে ২১ লাখের বেশি মানুষ সংক্রামক রোগে আক্রান্ত হয়েছে। এর মধ্যে ৭১ হাজার ৩৩৮ জন হেপাটাইটিসে ভুগছে।

ধর্মীয় ও মানবিক পরিকাঠামোও ধ্বংস করা হয়েছে। ইসরায়েলি বাহিনী সম্পূর্ণভাবে ৮২৮টি মসজিদ এবং আংশিকভাবে ১৬৭টি মসজিদ ধ্বংস করেছে। ৩টি গির্জাকেও টার্গেট করা হয়েছে এবং ৬০টি কবরস্থানের মধ্যে ১৯টি সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে ধ্বংস করা হয়েছে।

ক্ষুধার্ত রাখার নীতির অংশ হিসেবে ইসরায়েল ৬৬টি ত্রাণকেন্দ্রে হামলা চালিয়েছে। এর মধ্যে ২৯টি ফুড চ্যারিটি কিচেন এবং ৩৭টি ত্রাণ বিতরণ কেন্দ্র ছিল। দুই মাসেরও বেশি সময় ধরে সীমান্ত ক্রসিংগুলো সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেওয়ার পর থেকে ইসরায়েল ৩৭ হাজার ৪০০টি ত্রাণ ও জ্বালানিভর্তি ট্রাক প্রবেশে বাধা দিয়েছে।

আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত গত নভেম্বরে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এবং তাঁর সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইয়োভ গ্যালান্তের বিরুদ্ধে গাজায় যুদ্ধাপরাধ ও মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছে। ইসরায়েল গাজায় তার যুদ্ধের জন্য আন্তর্জাতিক ন্যায়বিচার আদালতে গণহত্যার অভিযোগেরও সম্মুখীন।

মার্কিন ঘাঁটিতে তৎপরতা, সতর্ক অবস্থানে ইরান

ইরানে অস্থিরতার সুযোগে অনুপ্রবেশের চেষ্টা করছে কুর্দি যোদ্ধারা, তেহরানে উদ্বেগ

ইরানের বিরুদ্ধে হামলায় সৌদি ভূমি ও আকাশসীমা ব্যবহারের অনুমতি দেবে না রিয়াদ

ইরানের হুমকির পর মার্কিন কর্মীদের কাতারের ঘাঁটি ছাড়ার পরামর্শ

ইরান ছাড়তে চাওয়া মানুষের ভিড় বাড়ছে তুরস্ক সীমান্তে

প্রতিবেশী দেশে মার্কিন ঘাঁটিগুলোতে পাল্টা আঘাত হানার আগাম হুমকি ইরানের

‘আমার পা আমার আগেই বেহেশতে চলে গেছে’

গাজা গণহত্যায় অস্ত্র-অর্থ দিয়ে ইসরায়েলকে সহায়তা করেছে আরব আমিরাত—গোপন নথি ফাঁস

গাজায় তীব্র শীতে ৬ শিশুর মৃত্যু, দেয়াল ধসে নিহত আরও ৫

ইরানের সঙ্গে ব্যবসা করে কারা, ট্রাম্পের নতুন শুল্কে কী প্রভাব পড়বে