ইন্দোনেশিয়া, মরক্কো, কাজাখস্তান, কসোভো ও আলবেনিয়া গাজায় মোতায়েন করতে যাওয়া আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতা সেনা পাঠানোর অঙ্গীকার করেছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বোর্ড অব পিসের এক বৈঠকে এ তথ্য জানিয়েছেন সদ্য গঠিত ইন্টারন্যাশনাল স্ট্যাবিলাইজেশন ফোর্সের (আইএসএফ) কমান্ডার। খবর আল জাজিরার।
যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনীর জেনারেল জ্যাসপার জেফার্সকে ট্রাম্পের বোর্ড ভবিষ্যৎ গাজা স্থিতিশীলতা বাহিনীর (আইএসএফ) প্রধান হিসেবে নিয়োগ দিয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার ওয়াশিংটন ডিসিতে বোর্ডের বৈঠকে তিনি বলেন, এই মিশনে ইন্দোনেশিয়ার বাহিনী ‘ডেপুটি কমান্ডারের পদ গ্রহণ করেছে।’ জেফার্স বলেন, ‘এই প্রথম পদক্ষেপগুলোর মাধ্যমে আমরা গাজার প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সহায়তা করব।’
বৈঠকে অংশ নেওয়া বিশ্বনেতাদের মধ্যে ছিলেন ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্ট প্রাবো সুবিয়ান্তো। তিনি বলেন, যুদ্ধবিধ্বস্ত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে ‘শান্তি কার্যকর করতে’ তাঁর দেশ সর্বোচ্চ ৮ হাজার সদস্য পাঠাবে। সেখানে ইসরায়েলের গণহত্যায় অন্তত ৭২ হাজার মানুষ নিহত হয়েছে।
কাজাখস্তানের প্রেসিডেন্ট কাসিম-জোমারত তোকায়েভ বলেন, তাঁর দেশও অনির্দিষ্ট সংখ্যক সেনা পাঠাবে। এর মধ্যে চিকিৎসা ইউনিটও থাকবে। মরক্কোর পররাষ্ট্রমন্ত্রী নাসের বুরিতা জানান, তার দেশ গাজায় পুলিশ সদস্য মোতায়েন করতে প্রস্তুত। আলবেনিয়াও সেনা পাঠাবে বলে জানিয়েছে। সম্প্রতি দেশটির প্রধানমন্ত্রী দুই দিনের সরকারি সফরে ইসরায়েল গিয়েছিলেন। প্রতিবেশী দেশ মিসর ও জর্ডান জানিয়েছে, তারা পুলিশ সদস্যদের প্রশিক্ষণের মাধ্যমে এই উদ্যোগে অংশ নেবে।
এদিকে, ফিলিস্তিনিরা উদ্বেগ জানিয়েছেন যে—ট্রাম্পের বোর্ড অব পিস গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলের অবৈধ দখল আরও শক্ত করবে। ইসরায়েলি বাহিনী সেখানে নতুন নতুন ‘বাফার জোন’ তৈরি করছে। খাদ্য ও অন্যান্য ত্রাণ প্রবেশেও বাধা দিচ্ছে। হামাসের সঙ্গে তথাকথিত যুদ্ধবিরতির কয়েক মাস পরও ইসরায়েলি হামলায় প্রায় ৬০০ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছে।
গাজা স্থিতিশীলতা বাহিনী জাতিসংঘ বা আফ্রিকান ইউনিয়নের মতো বহুপক্ষীয় সংস্থার মোতায়েন করা অন্যান্য শান্তিরক্ষী বাহিনী থেকে আলাদা। প্রতিবেশী লেবাননে ১৯৭৮ সালে গঠিত জাতিসংঘের ইউনাইটেড ন্যাশনস ইন্টেরিম ফোর্স ইন লেবানন (ইউএনআইএফআইএল)-এ এখনো ৪৭টি দেশের ১০ হাজারের বেশি শান্তিরক্ষী কাজ করছেন। ইন্দোনেশিয়া ও ইতালি ইউএনআইএফআইএল-এ সবচেয়ে বেশি সেনা সরবরাহকারী দেশগুলোর মধ্যে রয়েছে। ইসরায়েল ও হিজবুল্লাহর মধ্যে ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি থাকা সত্ত্বেও এই বাহিনী একাধিকবার ইসরায়েলি বাহিনীর হামলার মুখে পড়েছে।