ইরানে চলমান বিক্ষোভ সম্পর্কে প্রখ্যাত চলচ্চিত্র পরিচালক জাফর পানাহি বলেছেন, এই গণ-অভ্যুত্থান হলো সেই ইচ্ছাশক্তি, যা টিকে থাকার এবং ইতিহাসকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
২০২৫ সালে ৭৮তম কান চলচ্চিত্র উৎসবে ‘ইট ওয়াজ জাস্ট অ্যান অ্যাকসিডেন্ট’ সিনেমার জন্য স্বর্ণপাম জয়ী এই ইরানি নির্মাতা ইনস্টাগ্রামে দেওয়া এক পোস্টে এ কথা লিখেছেন।
বিভিন্ন সময়ে ইরান সরকারের দমন-পীড়নের শিকার পানাহি আরও লিখেছেন, ‘সামষ্টিক যন্ত্রণা এখন রাজপথের প্রতিবাদের ভাষায় পরিণত হয়েছে। এই বিক্ষোভের লক্ষ্য ইতিহাসকে এগিয়ে নেওয়া। যখন হারানোর কিছু থাকে না, তখন ভয় উবে যায়। সব কণ্ঠস্বর এক হয়, নীরবতা ভেঙে যায় এবং ফিরে আসার কোনো পথ থাকে না।’
ইরানের অর্থনৈতিক স্থবিরতা ও লাগামহীন মূল্যস্ফীতির জেরে সৃষ্ট অসন্তোষ থেকে গত রোববার রাজধানী তেহরানের সবচেয়ে বড় মোবাইল ফোনের মার্কেট থেকে এই স্বতঃস্ফূর্ত বিক্ষোভ শুরু হয়। সেখানে দোকানিরা তাঁদের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ করে প্রতিবাদ জানান।
তেহরানসহ ইরানের অন্য শহরের কমপক্ষে ১০টি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা দুই দিন পর বিক্ষোভে যোগ দেন। এরই মধ্যে নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের সংঘর্ষে অন্তত সাতজন নিহত হন।
ইরানের আঞ্চলিক শত্রু ইসরায়েলের গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদ গত মঙ্গলবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিক্ষোভকারীদের উদ্দেশে দেওয়া এক বার্তায় বলেছিল, তারা তাঁদের পাশে আছে।
আজ শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানে চলমান বিক্ষোভে প্রাণহানির ঘটনায় কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, ইরান সরকার বিক্ষোভকারীদের হত্যা করলে যুক্তরাষ্ট্র তাদের ‘উদ্ধারে’ এগিয়ে আসবে। এর জন্য মার্কিন সামরিক বাহিনী ‘পুরোপুরি প্রস্তুত’।
এর আগে সর্বশেষ ২০২২ সালে বিক্ষোভ দেখেছিল ইরান। পুলিশি হেফাজতে ২২ বছর বয়সী কুর্দি তরুণী মাহসা আমিনির মৃত্যুকে কেন্দ্র করে সে বছর দেশজুড়ে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছিল।
রাষ্ট্রবিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে গত ডিসেম্বরে জাফর পানাহিকে এক বছরের কারাদণ্ড দেন ইরানের একটি আদালত। পাশাপাশি তাঁর ওপর দুই বছরের ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা এবং যেকোনো রাজনৈতিক বা সামাজিক সংগঠনে যুক্ত হওয়ার ওপর বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়।
তথ্যসূত্র: এএফপি