সংযুক্ত আরব আমিরাত তাদের নাগরিকদের জন্য ইরান, ইরাক ও লেবানন সফরে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে। শুক্রবার (১ মে) দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বরাতে ‘দ্য ন্যাশনাল’ জানিয়েছে, চলমান আঞ্চলিক পরিস্থিতির অবনতির পরিপ্রেক্ষিতে বৃহস্পতিবার রাতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
এক বিবৃতিতে মন্ত্রণালয় জানায়, বর্তমানে ওই তিন দেশে অবস্থানরত আমিরাতের নাগরিকদের দ্রুত দেশে ফিরে আসতে বলা হয়েছে। প্রয়োজনে তাঁরা সরাসরি টেলিফোনের মাধ্যমে মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারবেন। একই সঙ্গে সংস্থাটি জোর দিয়ে বলেছে, নাগরিকদের অবশ্যই তাদের দেওয়া সব নির্দেশনা ও ভ্রমণসংক্রান্ত সতর্কতা মেনে চলতে হবে।
এর আগে ২০২১ সাল থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত লেবাননে ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা জারি রেখেছিল আমিরাত সরকার। তবে গত বছরের মে মাসে সেই নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা হয়। নতুন করে আবার লেবাননসহ তিনটি দেশে ভ্রমণ নিষিদ্ধ করা হলো।
বিশ্লেষকদের মতে, এই তিনটি দেশ বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে। গত ফেব্রুয়ারিতে শুরু হওয়া আঞ্চলিক যুদ্ধের প্রভাব এখনো কাটেনি। লেবাননে সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় যুদ্ধবিরতি চুক্তি বাড়ানো হলেও সংঘর্ষ পুরোপুরি থামেনি।
অন্যদিকে এপ্রিলের শুরু থেকে ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলা সাময়িকভাবে বন্ধ থাকলেও নৌ অবরোধ এখনো বহাল রয়েছে। শান্তি আলোচনাও তেমন অগ্রগতি দেখাতে পারেনি। ইরাকে একদিকে যুক্তরাষ্ট্রের সেনা উপস্থিতি এবং অন্যদিকে ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠী সক্রিয় রয়েছে এবং দেশটিতে মার্কিন স্থাপনা লক্ষ্য করে যুদ্ধবিরতির আগে পর্যন্ত তারা নিয়মিত হামলা চালিয়েছে।
এই প্রেক্ষাপটে, নাগরিকদের নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করেই সংযুক্ত আরব আমিরাত সরকার এই ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে বলে মনে করা হচ্ছে।