প্রায় চার দশক আগে নিখোঁজ হওয়া ইসরায়েলি বিমানচালক রন আরাদকে ঘিরে রহস্য আবারও নতুন করে আলোচনায় এসেছে। লেবাননের পূর্বাঞ্চলের একটি গ্রামে সামরিক অভিযানের মাধ্যমে বিষয়টি আবার সামনে এনেছে ইসরায়েল।
রোববার (৮ মার্চ) আমিরাতভিত্তিক সংবাদমাধ্যম দ্য ন্যাশনাল জানিয়েছে, গত শুক্রবার রাতে সিরিয়ার দিক থেকে আসা চারটি ইসরায়েলি হেলিকপ্টার বালবেক শহরের পূর্ব দিকের পাহাড়ি অঞ্চলে অবতরণ করে। এই এলাকা লেবাননের পূর্ব বেকা উপত্যকার অংশ, যা সীমান্তের দিকে বিস্তৃত এক শুষ্ক পাহাড়ি অঞ্চল। সাম্প্রতিক সংঘাতের সময় ইসরায়েলি বাহিনী মূলত দক্ষিণ লেবানন ও বৈরুতের দক্ষিণ উপশহরকে লক্ষ্য করে অভিযান চালালেও এই অঞ্চলে তাদের সরাসরি অবতরণ বিরল ঘটনা।
হেলিকপ্টার থেকে নামার পর ইসরায়েলি বিশেষ বাহিনী নবি-চিত গ্রামের দিকে অগ্রসর হয়। সেখানে একটি কবরস্থানের কাছে হিজবুল্লাহ যোদ্ধাদের সঙ্গে তাদের তীব্র সংঘর্ষ শুরু হয়। প্রায় চার ঘণ্টা ধরে চলা এই লড়াইয়ের পর রাতের আকাশে গোলাগুলি ও আগুনের ঝলকানি দেখা যায়। শেষ পর্যন্ত ইসরায়েলি কমান্ডোরা যুদ্ধবিমান ও হেলিকপ্টারের সহায়তায় এলাকা ত্যাগ করে।
পরবর্তীতে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী জানায়, এই অভিযানের উদ্দেশ্য ছিল ১৯৮৬ সালে নিখোঁজ হওয়া ইসরায়েলি বিমানবাহিনীর নেভিগেটর রন আরাদের দেহাবশেষ খোঁজা। সেই বছর লেবাননের গৃহযুদ্ধ চলাকালে তিনি ধরা পড়েছিলেন এবং ধারণা করা হয়, হিজবুল্লাহ তাঁকে নবি-চিত এলাকায় আটক রেখেছিল। সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া কিছু ছবিতে গ্রামটির কবরস্থানে একটি খালি খোঁড়া কবরও দেখা গেছে।
এই অভিযানের মাত্র দুই মাস আগে একই গ্রামে আরেকটি রহস্যময় ঘটনার সূত্রপাত হয়। সে সময় লেবাননের সাবেক জেনারেল সিকিউরিটি কর্মকর্তা আহমাদ শোকর রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ হন। নিরাপত্তা সূত্রের দাবি, ইসরায়েলের গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদ এই অপহরণ অভিযানের সঙ্গে জড়িত থাকতে পারে।
তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, শোকরকে বেকা উপত্যকার রিয়াক এলাকার একটি ভিলায় ডেকে নেওয়া হয়েছিল একটি জমির চুক্তির কথা বলে। এরপরই তিনি নিখোঁজ হয়ে যান। ফোনের শেষ সিগন্যালও সেখানেই পাওয়া যায়। ধারণা করা হচ্ছে, চার সদস্যের একটি দল এই ঘটনায় জড়িত ছিল।
লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, নবি-চিতের সাম্প্রতিক সংঘর্ষে অন্তত ৪১ জন নিহত ও ৪১ জন আহত হয়েছেন। তবে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী বলেছে, তাদের কোনো সদস্য আহত হয়নি এবং অভিযানে রন আরাদের বিষয়ে কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
১৯৮০-এর দশকে হিজবুল্লাহ গঠনের সময় থেকেই নবি-চিত গ্রামটি সংগঠনটির একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত। সাম্প্রতিক যুদ্ধের ক্ষত কাটিয়ে উঠতে শুরু করলেও এখন আবার নতুন করে সংঘাতের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে এই এলাকা।