ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বলেছেন, ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ চলাকালে তিনি ‘গোপনে’ সংযুক্ত আরব আমিরাত সফর করেছেন এবং দেশটির প্রেসিডেন্ট শেখ মোহাম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ানের সঙ্গে বৈঠক করেন। তবে আরব আমিরাত নেতানিয়াহুর এই দাবি প্রত্যাখ্যান করেছে। আর ইরান বলেছে, তারা এই সফরের বিষয়ে জানত এবং আমিরাত ও ইসরায়েলের মধ্যকার এই যোগসাজশ অমার্জনীয়।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির খবরে বলা হয়েছে, নেতানিয়াহুর দপ্তর জানায়—ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী ও আমিরাতের প্রেসিডেন্টের মধ্যকার ওই বৈঠক থেকে একটি ‘ঐতিহাসিক অগ্রগতি’ অর্জিত হয়েছে। নেতানিয়াহুর সঙ্গে এই সফরে দেশটির গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদের প্রধান ডেভিড বার্নিয়াও ছিলেন।
তবে কিছুক্ষণ পরই আমিরাতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এই দাবি নাকচ করে। তারা জানায়, সফরসংক্রান্ত দাবি ‘সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন’ এবং ইসরায়েলের সঙ্গে দেশটির সম্পর্ক কোনো ‘অনানুষ্ঠানিক বা গোপন সমঝোতার’ ওপর দাঁড়িয়ে নেই।
যুদ্ধ চলাকালে আমিরাতের বিভিন্ন স্থাপনায় হামলা চালিয়েছিল ইরান। পাশাপাশি তেহরান দীর্ঘদিন ধরেই আমিরাতের সমালোচনা করে আসছে। কারণ, তাদের মতে দেশটি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ক্রমশ ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে তুলেছে। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি বলেন, নেতানিয়াহু প্রকাশ্যে এমন তথ্য তুলে ধরেছেন, যা ‘ইরানের নিরাপত্তা সংস্থাগুলো বহু আগেই’ দেশটির নেতৃত্বকে জানিয়েছিল। তিনি আরও বলেন, ইসরায়েলের সঙ্গে ‘আঁতাত’ অমার্জনীয় এবং যারা এমন সহযোগিতায় জড়িত, তাদের ‘জবাবদিহির আওতায় আনা হবে।’
আমিরাতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে নেতানিয়াহু বা অন্য কোনো ইসরায়েলি সামরিক প্রতিনিধিদলের দেশটিতে সফরের খবর অস্বীকার করে বলা হয়, ‘ইসরায়েলের সঙ্গে আমিরাতের সম্পর্ক প্রকাশ্য এবং সুপরিচিত ও আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষিত আব্রাহাম অ্যাকর্ডসের কাঠামোর মধ্যেই পরিচালিত হয়। এটি কোনো অস্বচ্ছ বা অনানুষ্ঠানিক ব্যবস্থার ওপর ভিত্তি করে নয়।’
এই অ্যাকর্ড হলো এমন একগুচ্ছ চুক্তি, যার মাধ্যমে ডোনাল্ড ট্রাম্প তাঁর প্রথম মেয়াদে ইসরায়েল ও কয়েকটি আরব দেশের মধ্যে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার উদ্যোগে মধ্যস্থতা করেছিলেন। বার্তা সংস্থা রয়টার্স এক সূত্রের বরাতে জানিয়েছে, নেতানিয়াহু ও আমিরাতের প্রেসিডেন্টের বৈঠকটি ওমান সীমান্তসংলগ্ন মরূদ্যান শহর আল আইনে অনুষ্ঠিত হয় এবং তা কয়েক ঘণ্টা স্থায়ী ছিল।
মঙ্গলবার ইসরায়েলে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত মাইক হাকাবি বলেন, ইরানি হামলা মোকাবিলায় আমিরাতকে সহায়তা করতে ইসরায়েল তাদের আয়রন ডোম ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ব্যাটারি পাঠিয়েছিল। আয়রন ডোম হলো ইসরায়েলের অত্যাধুনিক আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, যা বিভিন্ন ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র, রকেট ও ড্রোন প্রতিহত ও ধ্বংস করতে ব্যবহৃত হয়। হাকাবি বলেন, আয়রন ডোম মোতায়েন ছিল ‘আমিরাত ও ইসরায়েলের মধ্যে অসাধারণ সম্পর্কের’ ফল, যা আব্রাহাম অ্যাকর্ডসের ভিত্তিতে গড়ে উঠেছে।