হোম > বিশ্ব > মধ্যপ্রাচ্য

পরমাণু বোমা তৈরির মতো ইউরেনিয়াম মজুত করবে না ইরান, চুক্তির দ্বারপ্রান্তে তেহরান-ওয়াশিংটন

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­

ফাইল ছবি

ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার দীর্ঘদিনের স্নায়ুযুদ্ধ এবং পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে চলমান অচলাবস্থায় এক বিশাল ‘ব্রেকথ্রু’ বা বড় ধরনের সাফল্যের ইঙ্গিত দিয়েছে মধ্যস্থতাকারী দেশ ওমান। ওমানের শীর্ষ কূটনীতিক ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী বদর বিন হামাদ আল বুসাঈদী জানিয়েছেন, সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় অনুষ্ঠিত তৃতীয় দফার পরোক্ষ আলোচনায় ইরান একটি অভূতপূর্ব বিষয়ে সম্মত হয়েছে—তারা ভবিষ্যতে কখনোই আর সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম মজুত করবে না।

শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) ওয়াশিংটন ডিসিতে সিবিএস নিউজকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে ওমানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘একটি দীর্ঘস্থায়ী শান্তি চুক্তি এখন আমাদের হাতের নাগালে। যদি আমরা কূটনীতিকে প্রয়োজনীয় সুযোগ ও সময় দিই, তবে আগামী কয়েক মাসের মধ্যেই সব সমস্যার একটি আমূল এবং ব্যাপক সমাধান সম্ভব।’ তিনি জোর দিয়ে বলেন, এই আলোচনার সবচেয়ে বড় অর্জন হলো ইরানের এই প্রতিশ্রুতি যে, তারা বোমা তৈরির জন্য প্রয়োজনীয় পারমাণবিক উপাদান কখনোই মজুত রাখবে না। সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম মজুত না থাকলে কার্যত কোনোভাবেই পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করা সম্ভব নয়।

আল বুসাঈদী উল্লেখ করেন, আলোচনার এই মোড়টি সম্পূর্ণ নতুন এবং আগে কখনো এমন সমঝোতা হয়নি। ইরান তাদের বর্তমান পরমাণু মজুতকে ‘সর্বনিম্ন পর্যায়ে’ নামিয়ে আনতে এবং সেগুলোকে পরমাণু জ্বালানিতে রূপান্তর করতে রাজি হয়েছে। এই জ্বালানি এমনভাবে তৈরি হবে যা আর কখনোই বোমা তৈরির উপযোগী উপাদানে ফিরিয়ে নেওয়া সম্ভব হবে না। পুরো প্রক্রিয়াটি জাতিসংঘের পরমাণু নজরদারি সংস্থা আইএইএ দ্বারা শতভাগ যাচাইযোগ্য এবং নিয়মিত পর্যবেক্ষণের আওতায় থাকবে। এর ফলে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ নিয়ে দীর্ঘদিনের আন্তর্জাতিক বিতর্কের অবসান ঘটবে বলে আশা করা হচ্ছে।

ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক কঠোর দাবিগুলোর বিষয়েও ওমানি মন্ত্রী ইতিবাচক ইঙ্গিত দিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘আমার বিশ্বাস, ইরান এখন সব বিষয়েই খোলামনে আলোচনা করতে প্রস্তুত।’ জেনেভার আলোচনায় মার্কিন হামলার আশঙ্কা দূর করার মতো যথেষ্ট অগ্রগতি হয়েছে কি না—এমন প্রশ্নে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, ‘আমরা লক্ষ্য অর্জনে অনেক দূর এগিয়েছি। যদিও কিছু কৌশলগত ও প্রযুক্তিগত খুঁটিনাটি বিষয় এখনো চূড়ান্ত হওয়া বাকি, তবে বড় চিত্রটি হলো—একটি পূর্ণাঙ্গ চুক্তি এখন আমাদের হাতের নাগালে।’

ওমানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী শুক্রবার মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক করেছেন। এই বৈঠকের পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অবস্থান নিয়ে জল্পনা বেড়েছে। ট্রাম্প একদিকে সামরিক শক্তি ব্যবহারের প্রচ্ছন্ন হুমকি দিলেও অন্যদিকে তেহরানের সঙ্গে কূটনৈতিক সমাধানের পক্ষে নিজের আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। তবে জেনেভার আলোচনার ফলাফল নিয়ে তিনি পূর্ণ সন্তুষ্টি প্রকাশ করেননি।

হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের ট্রাম্প বলেন, ‘তারা (ইরান) যেভাবে আলোচনা করছে তাতে আমরা পুরোপুরি খুশি নই। তবে ইরান যদি একটি চুক্তিতে পৌঁছাতে পারে, তবে সেটাই হবে তাদের জন্য বুদ্ধিমানের কাজ। আমি ব্যক্তিগতভাবে সামরিক শক্তি প্রয়োগ করতে চাই না, তবে কখনো কখনো পরিস্থিতির কারণে তা করতে হয়।’

সমঝোতার এই ধারা বজায় রাখতে আগামী সোমবার অস্ট্রিয়ার ভিয়েনায় দুই দেশের প্রতিনিধিরা আবারও পরোক্ষ আলোচনায় বসতে যাচ্ছেন। কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, যদি ভিয়েনাতেও এই ইতিবাচক ধারা অব্যাহত থাকে, তবে তা মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা ও বিশ্বশান্তির জন্য এক নতুন যুগের সূচনা করবে। সারা বিশ্বের নজর এখন সোমবারের সেই টেবিলের দিকে।

যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের যৌথ হামলার প্রতিক্রিয়ায় ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে ইরান

হতাহত নিয়ে পাকিস্তান-আফগানিস্তানের পাল্টাপাল্টি দাবি

যুক্তরাষ্ট্র-ইরান উত্তেজনায় তেহরান দূতাবাস থেকে কর্মীদের সরিয়ে নিল যুক্তরাজ্য

অগ্রগতি হলেও ফলাফল ছাড়াই শেষ ইরান-যুক্তরাষ্ট্র আলোচনা, ঝুলে রইল যুদ্ধের শঙ্কা

শান্তি কিংবা যুদ্ধ, উভয়ের জন্য প্রস্তুত ইরান

৫০ দিন মৃত্যুর সঙ্গে লড়ে হার মানলেন ইরানের বিক্ষোভে আহত ‘বডিবিল্ডার’

‘নাম লুকিয়ে’ বিক্রি হচ্ছে ইসরায়েলি খেজুর

স্ত্রীর সঙ্গে প্রথম দেখা ভারতীয় রেস্তোরাঁয়, মোদিকে জানিয়ে ‘আপ্লুত’ নেতানিয়াহু

উত্তেজনার মধ্যেই জেনেভায় যুক্তরাষ্ট্র-ইরান তৃতীয় দফার আলোচনা শুরু

মার্কিন–ইসরায়েলি গোয়েন্দা অনুপ্রবেশ ও স্টেলথ যুদ্ধবিমান ঠেকাতে ইরানকে নজরদারি প্রযুক্তি ও রাডার দিচ্ছে চীন