হোম > বিশ্ব > মধ্যপ্রাচ্য

মার্কিন অবরোধ মানছে না চীন, যুদ্ধ শুরুর পর হরমুজ পেরিয়েছে দেড় শ ট্যাংকার

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­

হরমুজ প্রণালি। ছবি: নাসা

ইরানে মার্কিন–ইসরায়েলি আগ্রাসন শুরু হওয়ার পর গত ১ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত অন্তত ১৫০টি ট্যাংকার হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করেছে। এর মধ্যে, অন্তত ১০০টি ট্যাংকারের ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞা আছে। ধারণা করা হচ্ছে, এসব নিষেধাজ্ঞা পাওয়া ট্যাংকারগুলোর বেশির ভাগেরই গন্তব্য ছিল চীন।

তুরস্কের রাষ্ট্র পরিচালিত সংবাদ সংস্থা আনাদোলুর খবরে বলা হয়েছে, জাহাজ চলাচল ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্ম ট্যাংকারট্র্যাকারস জানিয়েছে—গত ১ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত অন্তত ১৫০টি ট্যাংকার হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করেছে, যার মধ্যে ১০০টিই সুপরিচিত নিষেধাজ্ঞা লঙ্ঘনকারী হিসেবে শনাক্ত হয়েছে।

গতকাল সোমবার মার্কিন সোশ্যাল মিডিয়া এক্সে দেওয়া এক বিবৃতিতে কোম্পানিটি জানায়, আলোচিত সময়ে এই কৌশলগত জলপথ দিয়ে ছেড়ে যাওয়া মোট ট্যাংকারের প্রায় দুই-তৃতীয়াংশই ছিল নিষেধাজ্ঞার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট। বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক চোকপয়েন্ট হিসেবে পরিচিত হরমুজ প্রণালি দিয়ে বিশ্বব্যাপী অপরিশোধিত তেল ও জ্বালানি চালানের একটি বড় অংশ পরিবাহিত হয়।

এই সর্বশেষ পরিসংখ্যান নির্দেশ করে যে, পারস্য উপসাগর ও এর আশপাশে সামরিক উত্তেজনা এবং সামুদ্রিক চলাচলের ওপর কঠোর নজরদারি থাকা সত্ত্বেও নিষেধাজ্ঞার সঙ্গে যুক্ত জাহাজগুলো নিয়মিত এই রুটটি ব্যবহার করছে। তবে ট্যাংকারট্র্যাকারস তাদের পোস্টে জাহাজগুলোর পতাকার নিবন্ধন, কার্গোর ধরন বা গন্তব্য বাজার সম্পর্কে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো বিস্তারিত তথ্য প্রদান করেনি। প্রণালিটিতে কোনো ধরনের বিঘ্ন ঘটলে তা বিশ্বব্যাপী জ্বালানি সরবরাহে টান ফেলতে পারে এবং তেলের দাম বাড়িয়ে দিতে পারে—এমন উদ্বেগের মধ্যে জাহাজ চলাচলের এই তথ্যগুলো সামনে এল।

এদিকে, বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে—ওয়াশিংটনের নিষেধাজ্ঞায় থাকা একটি চীনা তেলবাহী জাহাজ যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধ সত্ত্বেও হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করেছে। সংস্থাটি এলএসইজি, মেরিনট্রাফিক এবং কেপলার নামের তিনটি প্রতিষ্ঠানের তথ্যের বরাত দিয়েছে।

রয়টার্স বলছে, জাহাজটির নাম রিচ স্ট্যারি। অবরোধ শুরুর পর এটিই প্রথম জাহাজ, যা প্রণালি পার হয়ে উপসাগর থেকে বেরিয়ে গেছে। জাহাজটি এবং এর মালিক প্রতিষ্ঠান সাংহাই শুয়ানরুন শিপিং কোম্পানি লিমিটেড। এর আগে ইরানের সঙ্গে লেনদেনের কারণে জাহাজটি যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার মুখে পড়ে।

জাহাজটি সর্বশেষ সংযুক্ত আরব আমিরাতের হামরিয়াহ বন্দরে নোঙর করার সময় পণ্য তুলেছিল। এ ছাড়া রয়টার্স জানায়, যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞায় থাকা আরেকটি জাহাজ মুরলিকিশান আজ প্রণালিতে প্রবেশ করছে। জাহাজটি ১৬ এপ্রিল ইরাকে অপরিশোধিত তেল তুলবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এমকেএ নামে পূর্বে পরিচিত এই জাহাজটি রাশিয়া ও ইরানের তেল পরিবহন করেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

তথ্য অনুযায়ী, ইসরায়েল-ইরান যুদ্ধ শুরুর আগেও ইরানের তেলের সবচেয়ে বড় ক্রেতা ছিল চীন। ইরান থেকে রপ্তানি হওয়া মোট তেলের প্রায় ৮০ শতাংশই চীন আমদানি করত। শিপিং ডেটা ট্র্যাকিং সংস্থা কেপলার-এর তথ্যমতে: গত বছর চীন প্রতিদিন গড়ে ১৩ দশমিক ৮ লাখ ব্যারেল ইরানি তেল কিনেছে। এ ছাড়া চীনের মোট সমুদ্রপথে আমদানি করা তেলের প্রায় ১৩ দশমিক ৪ শতাংশ আসে ইরান থেকে।

মধ্যপ্রাচ্য–মধ্য এশিয়াকে তেল–গ্যাস পাইপলাইনে যুক্ত করার উচ্চাভিলাষ তুরস্কের

যুদ্ধে ইরানের ক্ষতি ২৭০ বিলিয়ন ডলার, ৫ আরব দেশের কাছে ক্ষতিপূরণ দাবি

ইরান-যুক্তরাষ্ট্র দ্বিতীয় দফা আলোচনা চলতি সপ্তাহের শেষ নাগাদ, ভেন্যু ইসলামাবাদই: রয়টার্স

অবরোধে ক্ষুব্ধ ইরান আটকাতে পারে আরেক জলপথ, সিদ্ধান্ত পাল্টাতে যুক্তরাষ্ট্রকে সৌদির চাপ

ইরান–যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধবিরতি ৪৫ দিন বাড়ানোর চেষ্টা, আলোচনার পরবর্তী ভেন্যু নিয়ে মতবিরোধ

৮০ শতাংশ কাজের পরও চুক্তিতে ব্যর্থ ইরান–যুক্তরাষ্ট্র, নেপথ্যে আলাপ এখনো চলছে

হরমুজে মার্কিন অবরোধ: বৈশ্বিক অর্থনীতির ঝুঁকি বাড়ছে

ইউরেনিয়ামের কারণেই ভেস্তে গেছে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান আলোচনা

ইরান থেকে ১২৪ মাইল দূরে মার্কিন বিমানবাহী রণতরি ও দুই যুদ্ধজাহাজ

ট্রাম্প প্রশাসনকে আমি ভয় পাই না: পোপ লিও