দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলি সৈন্যদের ব্যাপক লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে। শীর্ষ সামরিক কমান্ডারদের বারবার সতর্কবার্তা সত্ত্বেও সাধারণ নাগরিকদের ঘরবাড়ি ও দোকানপাট থেকে মূল্যবান সামগ্রী চুরির ঘটনা নিয়ন্ত্রণে হিমশিম খাচ্ছে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী।
ইসরায়েলি সংবাদপত্র ‘ইয়েদিওথ আহরোনোথ’ একজন অজ্ঞাতনামা রিজার্ভিস্ট সেনার উদ্ধৃতি দিয়ে এই খবর প্রকাশ করেছে। ওই সেনা প্রত্যক্ষদর্শী হিসেবে জানান, সীমান্তে অনেক রিজার্ভ ইউনিটকে তিনি লুটতরাজ করতে দেখেছেন। তিনি বলেন, ‘তারা হাতের কাছে যা পাচ্ছে তাই নিয়ে নিচ্ছে—অস্ত্রশস্ত্র, স্মারক চিহ্ন, গয়নাগাটি, কম্বল, এমনকি মানুষের ব্যক্তিগত ছবিও।’
তিনি আরও জানান, একটি ঘটনায় একজন ইসরায়েলি কমান্ডারকে সৈন্যদের লুট করা মালামাল ইসরায়েলে নিয়ে যেতে বাধা দিতে দেখেছেন তিনি।
আরেক ইসরায়েলি সংবাদপত্র হারেৎজ জানিয়েছে, লেবাননের যেসব বাসিন্দা যুদ্ধের কবল থেকে বাঁচতে ঘরবাড়ি এবং দোকানপাট ছেড়ে পালিয়েছেন, সৈন্যরা সেখানেই হানা দিচ্ছে। এর আগে গাজা যুদ্ধের সময়ও ইসরায়েলি বাহিনীর বিরুদ্ধে একই ধরনের চুরির অভিযোগ উঠেছিল।
লুটপাটের এই প্রবণতা ইসরায়েলি সামরিক নেতৃত্বের মধ্যে অস্বস্তি সৃষ্টি করেছে। গত এক সপ্তাহ আগে জ্যেষ্ঠ সামরিক কর্মকর্তাদের এক সভায় ইসরায়েলি চিফ অব স্টাফ ইয়াল জামির সৈন্যদের এই অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের বিষয়ে কঠোর সতর্কবার্তা জারি করেছেন। তবে মাঠপর্যায়ে এই নিষেধাজ্ঞা কতটা কার্যকর হচ্ছে, তা নিয়ে খোদ ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যমগুলোই প্রশ্ন তুলেছে।