হোম > বিশ্ব > মধ্যপ্রাচ্য

ইরানে সুনির্দিষ্ট ব্যক্তিদের টার্গেট করে মার্কিন হামলা হতে পারে

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­

ইরানের রাজধানী তেহরানের একটি চিত্র। ছবি: রয়টার্স

ইরানের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য সামরিক অভিযানে শীর্ষ নেতাদের লক্ষ্যবস্তু করার কথা বিবেচনা করছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাতে শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) রাতে এই খবর দিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স। তথ্য অনুযায়ী, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নির্দেশ দিলে ইরানের শাসন পরিবর্তনের প্রচেষ্টাও এই পরিকল্পনার অংশ হতে পারে।

রয়টার্সকে দুই মার্কিন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, ইরান ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক পরিকল্পনা এখন উন্নত পর্যায়ে পৌঁছেছে। কূটনৈতিক প্রচেষ্টা ব্যর্থ হলে কয়েক সপ্তাহব্যাপী একটি টানা সামরিক অভিযান চালানোর প্রস্তুতি রয়েছে। এ ক্ষেত্রে ইরানের নিরাপত্তা স্থাপনা ও পারমাণবিক অবকাঠামোতে হামলা অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে। সর্বশেষ আলোচনায় নির্দিষ্ট ব্যক্তিদের লক্ষ্য করে হামলার বিষয়টিও গুরুত্ব পেয়েছে।

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সাম্প্রতিক সময়ে প্রকাশ্যেই ইরানের শাসন পরিবর্তনের সম্ভাবনার কথা বলেছেন। তবে মার্কিন কর্মকর্তারা স্পষ্ট করেননি, সুনির্দিষ্ট ব্যক্তিদের ওপর হামলা চালানো হলে কারা এর লক্ষ্যবস্তু হবেন। আবার বড় আকারের স্থলবাহিনী ছাড়া কীভাবে শাসন পরিবর্তন সম্ভব, সেটিরও ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি।

মধ্যপ্রাচ্যে ইতিমধ্যে উল্লেখযোগ্য সামরিক শক্তি জড়ো করেছে যুক্তরাষ্ট্র। যুদ্ধজাহাজ ও যুদ্ধবিমানসহ বিপুল সক্ষমতা তারা প্রস্তুত রেখেছে। প্রয়োজনে সরাসরি যুক্তরাষ্ট্রের মাটি থেকেও বোমারু বিমান পাঠানো হতে পারে।

২০২০ সালে প্রথম মেয়াদে প্রেসিডেন্ট থাকা অবস্থায় ট্রাম্প ইরানের শীর্ষ জেনারেল কাসেম সোলাইমানিকে লক্ষ্য করে হামলার অনুমোদন দিয়েছিলেন। সোলাইমানি ছিলেন ইরানের বিপ্লবী ইসলামিক গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) কুদস ফোর্সের প্রধান।

তথ্য প্রদানকারী দুই মার্কিন কর্মকর্তার মধ্যে একজন বলেছেন, গত বছর ইসরায়েলের সঙ্গে ১২ দিনের যুদ্ধে ইরানি নেতাদের লক্ষ্য করে হামলা কার্যকর প্রমাণিত হয়েছে। সে সময় ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর প্রধান মেজর জেনারেল মোহাম্মাদ বাঘেরি সহ অন্তত ২০ জন জ্যেষ্ঠ কমান্ডার নিহত হন। তবে নির্দিষ্ট ব্যক্তিকে লক্ষ্য করে হামলার জন্য সুনির্দিষ্ট গোয়েন্দা তথ্যের প্রয়োজন, যাতে অবস্থান ও সম্ভাব্য পার্শ্ব ক্ষতির ঝুঁকি বিবেচনায় নেওয়া যায়।

এদিকে ইরান হুঁশিয়ারি দিয়েছে, তাদের ভূখণ্ডে হামলা হলে তারা পাল্টা জবাব দেবে। জাতিসংঘ মহাসচিব অ্যান্টোনিয় গুতেরেসের কাছে পাঠানো এক চিঠিতে তেহরান জানিয়েছে, তারা যুদ্ধ শুরু করবে না; তবে সামরিক আগ্রাসনের মুখে আত্মরক্ষার অধিকার প্রয়োগ করবে। মধ্যপ্রাচ্যে জর্ডান, কুয়েত, সৌদি আরব, কাতার, বাহরাইন, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও তুরস্কে মার্কিন ঘাঁটি রয়েছে। ইরানের সঙ্গে সংঘাতে মার্কিন এই ঘাঁটিগুলো ঝুঁকিতে পড়তে পারে।

ইরান অতীতে হামলার মুখে পড়লে কৌশলগত জলপথ হরমুজ প্রণালি বন্ধের হুমকিও দিয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথ দিয়ে বৈশ্বিক তেলের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ পরিবহন করা হয়। চলমান উত্তেজনার মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের আলোচনায় কিছু নীতিগত বিষয়ে অগ্রগতি হলেও পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে মতভেদ রয়ে গেছে।

গাজায় সেনা পাঠাচ্ছে ইন্দোনেশিয়াসহ যে ৫ দেশ, কমান্ডার কে

ক্ষতিগ্রস্ত পারমাণবিক স্থাপনা ফের গড়ছে ইরান, নিচ্ছে ‘যুদ্ধের প্রস্তুতি’

আকাশসীমার বেশির ভাগই কেন বন্ধ করল ইরান

গাজা পুনর্গঠনে ৭ বিলিয়ন ডলারের প্রতিশ্রুতি ট্রাম্পের, স্থিতিশীলতা বাহিনী মোতায়েনে সম্মতি

ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থায় হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে ইসরায়েল, ট্রাম্পের সবুজসংকেতের অপেক্ষায়

সিরিয়া থেকে সব সেনা সরিয়ে নিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র

শনিবারের মধ্যেই প্রস্তুত হয়ে যাবে মার্কিন বাহিনী, ইরানে হামলা যেকোনো সময়

গাজায় ইসরায়েলি আগ্রাসনের প্রথম ১৫ মাসেই নিহত ছাড়িয়েছে ৭৫ হাজার: গবেষণা

ইরানে বড় বিস্ফোরণ, ধোঁয়ার কুণ্ডলী

ইরানের সঙ্গে বড় ধরনের যুদ্ধের দ্বারপ্রান্তে ট্রাম্প