মধ্যপ্রাচ্যের রণক্ষেত্রে স্থায়ী শান্তির লক্ষ্যে যুক্তরাষ্ট্রের ৯ দফার শান্তি প্রস্তাবের জবাবে পাল্টা ১৪ দফার একটি পরিকল্পনা পেশ করেছে ইরান। পাকিস্তানের মাধ্যমে এই ১৪ দফা উপস্থাপন করেছে তারা। এই প্রস্তাবের মাধ্যমে তেহরান কেবল একটি সাময়িক যুদ্ধবিরতি নয়, বরং যুদ্ধের স্থায়ী সমাপ্তি এবং এক মাসের মধ্যে সব বিরোধ নিষ্পত্তির সময়সীমা বেঁধে দিয়েছে।
ইরানি সংবাদ সংস্থা তাসনিম এবং আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম অ্যাক্সিওসের তথ্যমতে, ইরান যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাবিত দুই মাসের যুদ্ধবিরতির ধারণা প্রত্যাখ্যান করেছে। তেহরানের মতে, আলোচনার মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত ‘যুদ্ধের অবসান’, শুধু যুদ্ধবিরতি বাড়ানো নয়। প্রস্তাব অনুযায়ী, ইরান আগামী ৩০ দিনের মধ্যে সব অমীমাংসিত সমস্যার সমাধান চায়।
১. সর্বাত্মক যুদ্ধবিরতি: লেবাননসহ মধ্যপ্রাচ্যের সব ফ্রন্টে সামরিক অভিযান স্থায়ীভাবে বন্ধ করা।
২. মার্কিন সেনা প্রত্যাহার: ইরানের চারপাশ থেকে মার্কিন সামরিক শক্তি সরিয়ে নেওয়া এবং ভবিষ্যতে কোনো সামরিক আগ্রাসন চালানো হবে না—এমন নিশ্চয়তা প্রদান।
৩. নিষেধাজ্ঞা ও সম্পদ মুক্তি: বিদেশের ব্যাংকে জব্দ করা ইরানের সব রাষ্ট্রীয় সম্পদ ফেরত দেওয়া এবং দেশটির ওপর থাকা অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা।
৪. যুদ্ধের ক্ষতিপূরণ: যুদ্ধের কারণে ইরানের যে আর্থিক ও পরিকাঠামোগত ক্ষতি হয়েছে, তার জন্য ক্ষতিপূরণ প্রদান।
৫. হরমুজ প্রণালি ও অবরোধ: পরবর্তী এক মাসের মধ্যে আলোচনার মাধ্যমে হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়া এবং মার্কিন নৌ অবরোধ স্থায়ীভাবে প্রত্যাহার। সেই সঙ্গে এই প্রণালির জন্য একটি ‘নতুন মেকানিজম’ প্রবর্তন করা।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, যদি এই শান্তি প্রস্তাবের ওপর ভিত্তি করে একটি চুক্তি চূড়ান্ত হয়, তবে পরবর্তী এক মাসের মধ্যে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হতে পারে।
আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের প্রতিবেদন ও ইরানি প্রতিক্রিয়ার ভিত্তিতে যুক্তরাষ্ট্রের ৯ দফা সম্পর্কে একটি ধারণা পাওয়া গেছে। এটি মূলত ওয়াশিংটনের ১৫ দফা রূপরেখার একটি সম্প্রসারিত রূপ। প্রস্তাবে তারা: ইরানের পারমাণবিক প্রকল্প সম্পূর্ণ বন্ধ করা; হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়া এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তায় মার্কিন খবরদারির ওপরই বেশি গুরুত্ব দিয়েছে।
এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প শনিবার (২ মে) জানিয়েছেন, তিনি শিগগির প্রস্তাবটি পর্যালোচনা করবেন। তবে প্রাথমিক প্রতিক্রিয়ায় তিনি বলেন, ‘আমি কল্পনাও করতে পারছি না যে এটা (যুক্তরাষ্ট্রের কাছে) গ্রহণযোগ্য হবে।’
ইরানের উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম ঘারিবাবাদি রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম আইআরআইবিকে বলেন, ‘ইরান স্থায়ী শান্তি চায়। এখন আমেরিকা কূটনীতি বেছে নেবে নাকি সংঘাত বজায় রাখবে, সেই সিদ্ধান্ত তাদের।’