যুক্তরাষ্ট্র একদিকে কূটনৈতিক আলোচনার কথা বললেও গোপনে ইরানে স্থল অভিযানের পরিকল্পনা করছে বলে দাবি করেছেন ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ। আজ রোববার তাঁর এক বিবৃতির বরাত দিয়ে এ তথ্য জানিয়েছে ইরানের সরকারি সংবাদ সংস্থা ইরনা।
বিবৃতিতে গালিবাফ বলেন, শত্রুরা জনসমক্ষে আলোচনা ও সংলাপের বার্তা পাঠাচ্ছে, অথচ গোপনে স্থল আক্রমণের ছক কষছে। তিনি আরও বলেন, আমাদের যোদ্ধারা স্থলপথে মার্কিন সৈন্যদের অপেক্ষায় রয়েছে। তাঁদের আগুনে পুড়িয়ে মারা হবে এবং এই অঞ্চলে তাদের মিত্রদের চরম শাস্তি দেওয়া হবে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ বিমান হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতার মৃত্যুর পর যে আঞ্চলিক যুদ্ধ শুরু হয়েছিল, আজ তা এক মাস পূর্ণ করল। এই সংঘাত বর্তমানে পুরো মধ্যপ্রাচ্যে ছড়িয়ে পড়েছে। গালিবাফ দেশবাসীকে ঐক্যের আহ্বান জানিয়ে বলেন, ইরান এখন একটি ‘বড় ধরনের বিশ্বযুদ্ধের’ মধ্যে রয়েছে এবং বর্তমানে এটি ‘সবচেয়ে সংকটময় পর্যায়ে’ পৌঁছেছে।
এই যুদ্ধের ফলে বিশ্বের জ্বালানি নিরাপত্তার অন্যতম প্রধান পথ হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল প্রায় স্থবির হয়ে পড়েছে।
উল্লেখ্য, বিশ্বের মোট অপরিশোধিত তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) প্রায় ২০ শতাংশ এই জলপথ দিয়ে পরিবাহিত হয়। যুদ্ধের কারণে এই সরবরাহ ব্যবস্থা ভেঙে পড়ায় বিশ্বজুড়ে উদ্বেগ ও জ্বালানি সংকট তৈরি হয়েছে।
পার্লামেন্ট স্পিকার গালিবাফ আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে জানান, ইরান এই কঠিন পরিস্থিতিতেও জয়ী হতে সক্ষম। তিনি বলেন, ‘আমরা নিশ্চিত যে, আমরা যুক্তরাষ্ট্রকে শাস্তি দিতে পারব। ইরানে আক্রমণের জন্য তাদের অনুতপ্ত হতে হবে। আমরা আমাদের অধিকার রক্ষা করব।’