হোম > বিশ্ব > মধ্যপ্রাচ্য

গাজা-লেবানন-সিরিয়ায় দখল বজায় রাখা, ইরানকে দুর্বল করা: নেতানিয়াহুর ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­

ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। ছবি: এএফপি

ইসরায়েলের দীর্ঘমেয়াদি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ডানপন্থী সরকার গঠনে জোর দিয়েছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। তিনি বলেছেন, ইসরায়েলের অস্তিত্বের বিরোধী আরব দলগুলোর সঙ্গে জোট গঠন করে দেশ পরিচালনা করা সম্ভব নয়। একই সঙ্গে গাজা, লেবানন ও সিরিয়ার গভীরে নিরাপত্তা অঞ্চল প্রতিষ্ঠা, ইরানের শাসকগোষ্ঠীকে আরও দুর্বল করা এবং দেশটির কাছ থেকে অস্তিত্বগত হুমকি চিরতরে দূর করার পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরেছেন তিনি।

স্থানীয় সময় গতকাল মঙ্গলবার পশ্চিম জেরুজালেমে নিজের দল লিকুদ পার্টির সদর দপ্তরে সমর্থকদের উদ্দেশে দেওয়া বক্তব্যে এসব কথা বলেন নেতানিয়াহু। ইসরায়েলের পার্লামেন্ট নির্বাচন শেষে ভোট গ্রহণ বন্ধ হওয়ার কয়েক ঘণ্টা পর, প্রাথমিক ফলাফল প্রকাশের সময় তিনি এ বক্তব্য দেন। নেতানিয়াহু বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে কাজ করে ইরানের কাছ থেকে অস্তিত্বগত হুমকি চিরতরে দূর করার জন্য ইসরায়েলের সামনে একটি ‘ঐতিহাসিক সুযোগ’ তৈরি হয়েছে।

সরকার গঠনে অনিশ্চয়তা

নির্বাচনের প্রাথমিক ফলাফলে নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন জোট এগিয়ে থাকলেও সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিশ্চিত হওয়ার সম্ভাবনা এখনো স্পষ্ট নয়। অর্ধেকের বেশি ব্যালট গণনা শেষে ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম টাইমস অব ইসরায়েলের পূর্বাভাসে বলা হয়, নেতানিয়াহুর জোট ৫৬টি আসন পেতে পারে। অন্যদিকে গাদি আইজেনকোটের নেতৃত্বাধীন জোট পেতে পারে ৪৯টি আসন। ফলে কোনো পক্ষের পক্ষেই সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের সুস্পষ্ট পথ দেখা যাচ্ছে না।

নেতানিয়াহু বলেন, নির্বাচনের ‘প্রকৃত ফলাফল’ জানতে আরও এক থেকে দুই দিন সময় লাগবে। তবে তিনি স্বীকার করেন, পূর্বাভাস অনুযায়ী ইসরায়েলের পার্লামেন্টে লিকুদ পার্টি সবচেয়ে বড় দল হিসেবে আবির্ভূত হতে যাচ্ছে। ইসরায়েলি টেলিভিশন চ্যানেল ১২ ও ১৩-এর পূর্বাভাস অনুযায়ী, লিকুদ পার্টি ২৭টি আসন পেতে পারে। অন্যদিকে আইজেনকোটের ইয়াশার পার্টির আসনসংখ্যা দাঁড়াতে পারে ২১। এ হিসাবে পার্লামেন্টের অন্য সব দলের তুলনায় লিকুদ স্পষ্ট ব্যবধানে এগিয়ে রয়েছে।

গাজা, লেবানন ও সিরিয়ায় নিরাপত্তা অঞ্চল প্রতিষ্ঠার দাবি

২০২২ সালে বর্তমান মেয়াদে ক্ষমতায় আসার পর নিজের সরকারের বিভিন্ন সামরিক ও নিরাপত্তাবিষয়ক অর্জনের কথা তুলে ধরেন নেতানিয়াহু। একই সঙ্গে এসব অর্জনের ধারাবাহিকতা বজায় রাখার ওপর জোর দেন তিনি। নেতানিয়াহু বলেন, ‘আমরা এমন সব অসাধারণ সাফল্য অর্জন করেছি, যা মধ্যপ্রাচ্যের চেহারা বদলে দিয়েছে। আমরা (মোহাম্মদ) দেইফ, (ইসমাইল) হানিয়া, (ইয়াহিয়া) সিনওয়ার, (হাসান) নাসরুল্লাহ এবং (ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী) খামেনিকে নির্মূল করেছি।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমরা গাজা, লেবানন ও সিরিয়ার গভীরে নিরাপত্তা অঞ্চল প্রতিষ্ঠা করেছি। আমাদের ওপর ঝুলে থাকা তাৎক্ষণিক অস্তিত্বগত হুমকি, অর্থাৎ অবিলম্বে ধ্বংস হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা, আমরা দূর করেছি।’ ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপের কথা উল্লেখ করে নেতানিয়াহু বলেন, ‘আমরা ইরানের শাসকগোষ্ঠীর ওপর আঘাত হেনেছি এবং তাদের অতল গহ্বরের কিনারায় নিয়ে গেছি। ইরান এখন আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে দুর্বল, আর ইসরায়েল আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে শক্তিশালী।’

তাঁর বক্তব্যে গাজা, লেবানন ও সিরিয়ায় নিরাপত্তা অঞ্চল প্রতিষ্ঠা এবং ইরানের সামরিক ও রাজনৈতিক সক্ষমতা দুর্বল করার বিষয়গুলোকে ইসরায়েলের নিরাপত্তা কৌশলের গুরুত্বপূর্ণ অর্জন হিসেবে তুলে ধরা হয়। একই সঙ্গে ট্রাম্পের সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে ইরানের কাছ থেকে অস্তিত্বগত হুমকি চিরতরে দূর করার সম্ভাবনার কথাও বলেন তিনি।

সরকার গঠনে অস্বস্তিকর জোটের আশঙ্কা

ইসরায়েলের সাবেক রাষ্ট্রদূত অ্যালন পিঙ্কাস বলেন, নির্বাচনে সবচেয়ে বেশি আসন পাওয়া দলকে সরকার গঠনের জন্য অস্বস্তিকর কোনো জোট চুক্তিতে যেতে হতে পারে। তিনি নিউইয়র্ক সিটিতে ইসরায়েলের কনসাল জেনারেল হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন। পিঙ্কাসের মতে, বিরোধী শিবিরের ভোটাররা নেতানিয়াহুর জোটের সঙ্গে সমঝোতা করে সরকার গঠনের উদ্যোগকে সমর্থন করতে চাইবেন না। ফলে নির্বাচনের পর সরকার গঠনের আলোচনা আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে।

আল জাজিরার জ্যেষ্ঠ রাজনৈতিক বিশ্লেষক মারওয়ান বিশারা মনে করেন, জেরুজালেমে দেওয়া বক্তব্যে নেতানিয়াহু তাঁর দলের নির্বাচনী সম্ভাবনা সম্পর্কে আত্মবিশ্বাসী অবস্থান তুলে ধরার চেষ্টা করেছেন। বিশারা বলেন, ‘স্পষ্টতই তিনি এমন এক ধরনের সাফল্যের চিত্র তুলে ধরার চেষ্টা করছেন, যার দাবি করার মতো অবস্থানে তিনি নেই। প্রথমত, তিনি সরকার গঠনের জন্য জোট তৈরি করতে পারবেন না। দ্বিতীয়ত, ইসরায়েলের সবচেয়ে বড় দল হওয়ার বিষয়টি আড়াল করে দিচ্ছে যে, ২০০৯ সালের পর লিকুদ এবারই সবচেয়ে কম আসনে নেমে এসেছে।’

নির্বাচনী ফলাফল নিজেদের অনুকূলে তুলে ধরার চেষ্টা

রাজনৈতিক বিশ্লেষক ড্যান পেরি আল জাজিরাকে বলেন, বুথফেরত জরিপ প্রকাশের পর সৃষ্ট পরিস্থিতিকে যতটা সম্ভব নিজেদের অনুকূলে তুলে ধরার চেষ্টা করেছেন নেতানিয়াহু। তাঁর মতে, নির্বাচনের প্রাথমিক ফলাফল প্রকাশের পর দেওয়া বক্তব্যে নেতানিয়াহু নিজের দলের অবস্থান ও অর্জনকে ইতিবাচকভাবে উপস্থাপন করেছেন।

তবে প্রাথমিক পূর্বাভাসে লিকুদ পার্টি সবচেয়ে বড় দল হিসেবে এগিয়ে থাকলেও নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন জোটের পক্ষে সরকার গঠনের প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিশ্চিত করা এখনো অনিশ্চিত। ফলে নির্বাচনের চূড়ান্ত ফলাফল এবং পরবর্তী জোট আলোচনা ইসরায়েলের ভবিষ্যৎ সরকার গঠনের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।

নেতানিয়াহুর প্রতিদ্বন্দ্বী আইজেনকটের জয় যেভাবে ইরান যুদ্ধের গতিপথ বদলাতে পারে

পশ্চিম তীরে ৩ বছরে ১০৮০ জনকে হত্যা, ইসরায়েলের ‘মানবতাবিরোধী অপরাধের’ প্রমাণ পেয়েছে জাতিসংঘ

ইরানে আকস্মিক অভিযান চালাবে যুক্তরাষ্ট্র, প্রস্তুত থাকতে বলল উপসাগরীয় দেশগুলোকে

ইসরায়েলে নির্বাচন: প্রথমবারের মতো রেকর্ডসংখ্যক আসন পেতে যাচ্ছে আরবরা

নেতানিয়াহুর সংখ্যাগরিষ্ঠতা নেই, ইসরায়েলে সরকার গঠনের চাবি আরব দলগুলোর হাতে

ইরানের হয়ে গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগে কুয়েতে তিনজনের মৃত্যুদণ্ড

সংকট নিরসনে কূটনৈতিক উদ্যোগ জোরদারে একমত ইরান–মক্কা জোট

ইরানের অর্থায়নে নতুন আঞ্চলিক যুদ্ধের প্রস্তুতি নিচ্ছে হিজবুল্লাহ, সূত্রের দাবি

৯৬ ঘণ্টার মধ্যে ইরানে ‘বড় সামরিক অভিযান’ চালাতে প্রস্তুত মার্কিন বাহিনী

তেহরানে মক্কা জোটের শীর্ষ নেতারা, আলোচ্যসূচিতে যা থাকছে