সৌদি আরবে আজ পালিত হচ্ছে পবিত্র ঈদুল আজহা। এ দিনে হাজিরা মহান আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় পশু কোরবানি করছেন।
সৌদি গ্যাজেট জানায়, হজের মূল রুকন আরাফাতের ময়দানে অবস্থান শেষে গতকাল মঙ্গলবার স্থানীয় সময় সূর্যাস্তের পর লাখো হজযাত্রী মুজদালিফায় পৌঁছেছেন। তালবিয়া পাঠ করতে করতে শান্ত ও শৃঙ্খলাবদ্ধ পরিবেশে তাঁরা সেখানে রাত যাপন করছেন। আজ বুধবার স্থানীয় সময় ফজরের নামাজের পর হাজিরা মিনায় গিয়ে জামারাত আল-আকাবায় পাথর নিক্ষেপসহ হজের গুরুত্বপূর্ণ আনুষ্ঠানিকতা পালন করবেন। হজযাত্রীদের নিরাপত্তা ও সেবায় ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছে সৌদি কর্তৃপক্ষ।
মুজদালিফায় পৌঁছে হাজিরা মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর সুন্নাহ অনুসরণ করে এশার সময় মাগরিবের তিন রাকাত ও এশার দুই রাকাত নামাজ আদায় করেন। পরে তাঁরা দোয়া ও ইবাদতের মধ্য দিয়ে রাত কাটান।
মুজদালিফা থেকে হাজিরা মিনায় শয়তানকে পাথর নিক্ষেপের জন্য ছোট ছোট পাথর সংগ্রহ করছেন। বুধবার ফজরের নামাজ শেষে তাঁরা মিনায় যাবেন। সেখানে জামারাত আল-আকাবায় পাথর নিক্ষেপের মধ্য দিয়ে হজের পরবর্তী ধাপ শুরু হবে।
কোরবানির দিন বুধবার হাজিরা পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ আনুষ্ঠানিকতা পালন করবেন। এগুলো হলো—জামারাত আল-আকাবায় পাথর নিক্ষেপ, মাথা মুণ্ডন বা চুল ছাঁটা, পশু কোরবানি, তাওয়াফে ইফাদা এবং সাঈ সম্পন্ন করা।
হজযাত্রীদের গ্রহণে মুজদালিফায় আগে থেকেই ব্যাপক প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো। সৌদি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, হাজিদের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ও স্বাচ্ছন্দ্য নিশ্চিত করতে সমন্বিত কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে।
মুজদালিফাজুড়ে বিপুলসংখ্যক মানুষের অবস্থানের উপযোগী খোলা স্থান প্রস্তুত করা হয়েছে। পাশাপাশি রাতযাপনের স্থান, আলোকসজ্জা, শৌচাগার ও জনসেবামূলক স্থাপনার উন্নয়ন করা হয়েছে। সার্বক্ষণিক পরিচ্ছন্নতা ও পরিবেশ সুরক্ষা কার্যক্রমও জোরদার করা হয়েছে।
সৌদি নিরাপত্তা ও ট্রাফিক কর্তৃপক্ষ হজযাত্রীদের চলাচল নিয়ন্ত্রণে বিশেষ পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছে। আরাফাত থেকে মুজদালিফা পর্যন্ত বিভিন্ন সড়কে মাঠপর্যায়ের দল মোতায়েন করা হয়েছে। ভিড়ের ঘনত্ব বিবেচনায় নিয়ে নির্ধারিত সময়সূচির মাধ্যমে যাত্রী চলাচল নির্বিঘ্ন রাখার চেষ্টা চলছে।
স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থাও উচ্চ সতর্কতায় রাখা হয়েছে। বিভিন্ন স্বাস্থ্যকেন্দ্র, জরুরি চিকিৎসা ইউনিট ও অ্যাম্বুলেন্স সেবা চালু রাখা হয়েছে। চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের মাঠপর্যায়ে মোতায়েন করা হয়েছে, যাতে জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত সেবা দেওয়া যায়।
সৌদি কর্তৃপক্ষ প্রচণ্ড গরম ও স্বাস্থ্যঝুঁকি মোকাবিলায় সচেতনতামূলক বার্তাও প্রচার করছে। পাশাপাশি ডিজিটাল মনিটরিং ব্যবস্থা, নজরদারি ক্যামেরা ও নিয়ন্ত্রণকক্ষের মাধ্যমে সার্বক্ষণিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।