যুক্তরাষ্ট্রের সর্বশেষ হামলার জবাবে কুয়েত ও বাহরাইনে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটির গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো ও স্থাপনায় হামলা চালানোর দাবি করেছে ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি)। বাহিনীটি বলছে, এটি ছিল তাদের ‘শাস্তিমূলক প্রতিক্রিয়ার’ প্রথম ধাপ। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার প্রতিবেদন থেকে এই তথ্য জানা গেছে।
রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম আইআরআইবির প্রচারিত এক বিবৃতিতে আইআরজিসি জানায়, যুক্তরাষ্ট্রের হামলার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই তাদের নৌ ও মহাকাশ বাহিনী যৌথভাবে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন অভিযান পরিচালনা করে। আইআরজিসির দাবি, অভিযানে কুয়েতের ক্যাম্প আরিফজান সামরিক ঘাঁটি ও আলি আল সালেম বিমানঘাঁটি, পাশাপাশি বাহরাইনের জুফাইর এবং শেখ ইসা ঘাঁটিকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়। বাহিনীটির ভাষ্য, এসব ঘাঁটির ‘গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো ও স্থাপনাগুলো’ লক্ষ্য করেই হামলা চালানো হয়েছে।
এদিকে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের চলমান সামরিক উত্তেজনা থেকে উত্তরণের পথ খুঁজে পাওয়া ‘খুবই কঠিন’ হবে বলে মন্তব্য করেছেন সিআইএর সাবেক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা স্কট উয়েলিঙ্গার। আল জাজিরাকে তিনি বলেন, হরমুজ প্রণালি ইস্যুতে ইরানের কৌশলগত অবস্থান পরিবর্তনের আশা থেকেই যুক্তরাষ্ট্র আংশিকভাবে ইরানে হামলা চালিয়েছে।
স্কট উয়েলিঙ্গারের ভাষায়, ‘যুক্তরাষ্ট্র ট্রাম্পের মাধ্যমে স্পষ্ট করে দেওয়ার চেষ্টা করেছে যে, হরমুজ প্রণালি ইস্যুতে ইরানের সহযোগিতা করতে অস্বীকৃতির প্রতিক্রিয়াতেই তারা এই পদক্ষেপ নিয়েছে। আমার মনে হয়, ট্রাম্প কিছুটা হলেও আশা করেছিলেন যে, হয়তো ইরানের শাসকগোষ্ঠী এ থেকে শিক্ষা নেবে এবং সমঝোতা স্মারকে ফিরে যাবে।’
তিনি আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের মূল লক্ষ্য হচ্ছে হরমুজ প্রণালিতে ইরানের কৌশলগত প্রভাব বা লিভারেজ কমিয়ে আনা। তাঁর ভাষায়, ‘এ কারণেই আমরা দেখেছি, হরমুজ প্রণালিকে নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে ইরানের সক্ষমতাকে লক্ষ্য করে এতগুলো হামলা চালানো হয়েছে। সামুদ্রিক নৌ-চলাচল নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্রগুলো ধ্বংস করা হয়েছে। ক্ষেপণাস্ত্র স্থাপনাগুলো ধ্বংস করা হয়েছে এবং দ্রুতগতির নৌকাগুলোও ধ্বংস করা হয়েছে। এসবই করা হয়েছে হরমুজ প্রণালিতে ইরানের প্রভাব বিস্তারের সক্ষমতাকে আরও সীমিত করার উদ্দেশ্যে।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমার মনে হয়, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প আশা করছেন, এই সক্ষমতা কমিয়ে দিয়ে, অথবা ইরানকে দেখিয়ে যে তাদের আর সেই সক্ষমতা নেই, হয়তো তখন তারা আবার সমঝোতা স্মারকে ফিরে আসবে।’