ইরান হরমুজ প্রণালি অবরুদ্ধ করার পর ভয়াবহ উৎপাদন সংকটে পড়া ইরাক অবশেষে বিকল্প পথে তেল রপ্তানির বিষয়ে একটি যুগান্তকারী চুক্তিতে পৌঁছেছে। তুরস্কের সেহান টার্মিনালের মাধ্যমে পুনরায় তেল রপ্তানি শুরু করার বিষয়ে বাগদাদ এবং আধা-স্বায়ত্তশাসিত কুর্দি অঞ্চলের (ইরবিল) মধ্যে এই সমঝোতা হয়েছে।
হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলে অচলাবস্থার কারণে ইরাকের দক্ষিণাঞ্চলীয় তেল উৎপাদন প্রায় ৭০ শতাংশ হ্রাস পেয়েছিল। দৈনিক ৪২ লাখ ব্যারেল থেকে উৎপাদন নেমে এসেছিল মাত্র ১০ লাখ ব্যারেলে। এই নতুন চুক্তির ফলে ইরাক পাইপলাইনের মাধ্যমে উত্তর দিকে তুরস্কের সেহান বন্দরে তেল পাঠাতে পারবে, যা দেশটির বিপর্যস্ত অর্থনীতিতে নতুন প্রাণের সঞ্চার করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
এই চুক্তিটি কেবল অর্থনৈতিক কারণেই নয়, বরং রাজনৈতিক কারণেও অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। ইতিপূর্বে বাগদাদের অর্থনৈতিক নীতি এবং মার্কিন ডলার লেনদেনে বিধিনিষেধের প্রতিবাদে কুর্দিস্তান কর্তৃপক্ষ (ইরবিল) এই পাইপলাইন ব্যবহারে বাধা দিয়ে আসছিল। এটিকে তারা এক ধরনের ‘অর্থনৈতিক অবরোধ’ হিসেবে বর্ণনা করেছিল। তবে বর্তমান বিশ্ববাজারে তেলের সরবরাহ সংকট এবং অভ্যন্তরীণ আর্থিক ক্ষতির কথা বিবেচনা করে উভয় পক্ষ আপাতত বিবাদ সরিয়ে রেখে হাত মিলিয়েছে।
এই সমঝোতার পেছনে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের ব্যাপক চাপ কাজ করেছে বলেও জানা গেছে। বিশেষ করে লিবিয়ায় নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত এবং সিরিয়া বিষয়ক বিশেষ দূত টম বারাক আনবার প্রদেশের কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে এই চুক্তি সহজতর করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন।
বিশ্বজুড়ে জ্বালানি তেলের ক্রমবর্ধমান দাম এবং সরবরাহের ঘাটতির এই সময়ে ইরাকের তেল পুনরায় বিশ্ববাজারে ফিরে আসা একটি বড় স্বস্তির খবর। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, হরমুজ প্রণালি অবরুদ্ধ থাকার এই সময়ে তুরস্কের এই বিকল্প পথটি ইরাকের অর্থনীতির জন্য লাইফলাইন বা জীবনরক্ষাকারী হিসেবে কাজ করবে। তবে দীর্ঘ মেয়াদে বাগদাদ ও ইরবিলের মধ্যকার রাজনৈতিক সমস্যার সমাধান না হলে এই সরবরাহ ব্যবস্থা আবারও ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে।
তথ্যসূত্র: আল জাজিরা