হরমুজ প্রণালির ওপর নিজেদের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা চেষ্টার অংশ হিসেবে উপসাগরীয় অঞ্চলজুড়ে চালানো ধারাবাহিক হামলার অংশ হিসেবে ইরান মার্কিন নৌবাহিনীর সরবরাহ লাইনগুলোকে নিশানা করেছে। গতকাল রোববার রাতে একের পর এক পাল্টা হামলার ধারাবাহিকতায় ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) ওমানের ডুকম বন্দরের একটি রিফুয়েলিং স্টেশনসহ বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ মার্কিন স্থাপনা ধ্বংস করার দাবি করেছে।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম টেলিগ্রাফের খবরে বলা হয়েছে, তেহরান দাবি করেছে—এই স্থাপনা মার্কিন বিমানবাহী রণতরী স্ট্রাইক গ্রুপগুলোকে জ্বালানি সরবরাহের জন্য ব্যবহার করা হতো, যা ইরানের ওপর ওয়াশিংটনের বোমা হামলার অভিযানে মূল ভূমিকা পালন করে আসছিল।
ইরানি সামরিক বাহিনী কাতার ও জর্ডানে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোতেও আঘাত হানার দাবি করেছে।
গত মাসে এক অন্তর্বর্তী শান্তি চুক্তি স্বাক্ষরের পর থেকে তেহরানের এই সর্বশেষ হামলাগুলো ওই অঞ্চলের আরব রাষ্ট্রগুলোর ওপর চালানো সবচেয়ে ব্যাপক হামলা, এবং এর ফলে সংশ্লিষ্ট আঞ্চলিক রাজধানীগুলো থেকে তীব্র প্রতিক্রিয়া এসেছে। ইরান নিজ ভূখণ্ডে যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক দফার হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেছে, এগুলো গত কয়েক মাসের সমস্ত কূটনৈতিক প্রচেষ্টাকে ‘ব্যর্থ করে দিয়েছে।’
মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘ইরান হরমুজ প্রণালিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা বাস্তবায়নের প্রক্রিয়ায় প্রকাশ্য হস্তক্ষেপের মাধ্যমে মার্কিন শাসনব্যবস্থা হরমুজ প্রণালিতে আবারও নিরাপত্তাহীনতা তৈরি করেছে এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলকে বিঘ্নিত করেছে।’
শান্তি আলোচনার অন্যতম প্রধান মধ্যস্থতাকারী কাতারসহ পাঁচটি রাষ্ট্রকে নিশানা করেছে ইরান। দেশগুলোর সরকার এর তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে। কাতার এই হামলাকে ‘বিপজ্জনক উত্তেজনা বৃদ্ধি’ হিসেবে বর্ণনা করেছে। অন্যদিকে ওমান তাদের ভূখণ্ডে চালানো এই হামলার নিন্দা জানিয়েছে।
কুয়েতি সেনাবাহিনী জানিয়েছে, একটি অফশোর ড্রিলিং প্ল্যাটফর্মে ‘ড্রোন’ হামলায় এক কর্মচারী আহত হয়েছেন। ইরানের আইআরজিসি দাবি করেছে, তারা এই ড্রোন হামলায় মার্কিন রকেট লঞ্চারগুলোকে নিশানা করেছিল। ইরান ঘোষণা করেছে যে হরমুজ প্রণালি ‘পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত’ বন্ধ থাকবে এবং শনিবার এই সংকীর্ণ জলপথে আরও দুটি বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা চালিয়েছে।
প্রণালির বর্তমান অবস্থা স্পষ্ট করার জন্য চাপ দেওয়া হলে ডোনাল্ড ট্রাম্প রোববার এনবিসিকে বলেন, এটি বাণিজ্যিক চলাচলের জন্য ‘উন্মুক্ত’, তবে তিনি এই বিষয়ে আর আলোচনা করতে অস্বীকৃতি জানান।
রোববার দিনের শেষভাগে মার্কিন সামরিক বাহিনী ঘোষণা করে—তারা ইরানের বিরুদ্ধে আরও এক দফা হামলা চালানো শুরু করেছে এবং জানায়—এর উদ্দেশ্য হলো হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা চালানোর তেহরানের সক্ষমতা ‘অব্যাহতভাবে গুঁড়িয়ে দেওয়া।’ ইউএস সেন্ট্রাল কমান্ড এক্সে জানিয়েছে—মার্কিন প্রেসিডেন্ট ‘ইরানি বাহিনীকে জবাবদিহিতার আওতায় আনতে এই হামলার নির্দেশ দিয়েছেন।’
রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম সোমবার জানিয়েছে, এর জবাবে আইআরজিসি জর্ডান, বাহরাইন এবং কুয়েতে মার্কিন সামরিক লক্ষ্যবস্তু ও ঘাঁটিতে আঘাত হেনেছে বলে জানিয়েছে। ইরনা নিউজ এজেন্সির প্রকাশিত বিবৃতি অনুসারে, ইরান জর্ডানের প্রিন্স হাসান বিমানঘাঁটি, বাহরাইনে একটি মার্কিন সামরিক ড্রোন কমান্ড সেন্টার এবং কুয়েতের আলি আল সালেমসহ বিভিন্ন বিমানঘাঁটিকে নিশানা করেছে।