হোম > বিশ্ব > মধ্যপ্রাচ্য

ইরানের বুশেহর পারমাণবিক কেন্দ্রের কাছে মার্কিন ক্ষেপণাস্ত্র হামলা

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­

সেন্টকমের তথ্যমতে, আজ মার্কিন বাহিনী ইরানের প্রায় ৯০টি সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়েছে। ছবি: এক্স

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার রক্তক্ষয়ী সামরিক সংঘাত এবার আরও ভয়ানক মোড় নিয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার ইরানের একমাত্র বেসামরিক পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ঠিক পাশে বিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে মার্কিন সামরিক বাহিনী। ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম দেশটির দক্ষিণাঞ্চলীয় বুশেহর প্রদেশের উপ-গভর্নর এহসান জাহানিয়ানের বরাত দিয়ে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।

পারমাণবিক কেন্দ্রের এত কাছাকাছি মার্কিন বিমান হামলার এই ঘটনা মধ্যপ্রাচ্য জুড়ে পারমাণবিক বিপর্যয়ের আতঙ্ক ও বৈশ্বিক উদ্বেগ তৈরি করেছে।

বুশেহর প্রদেশের উপ-গভর্নর এহসান জাহানিয়ান স্থানীয় গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, আজ বৃহস্পতিবার বুশেহর প্রদেশের বেশ কয়েকটি এলাকাকে লক্ষ্যবস্তু বানিয়ে মার্কিন বাহিনী এই বিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা পরিচালনা করে। এর মধ্যে বুশেহর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের চারপাশের নিরাপত্তা বেষ্টনী ছাড়াও চোগাদাক শহরের একটি গুরুত্বপূর্ণ সামরিক ঘাঁটি এবং প্রদেশের দক্ষিণ উপকূলে অবস্থিত একটি মাছ ধরার জেটি রয়েছে। তবে আশার কথা হলো, পারমাণবিক কেন্দ্রের এত কাছে এই ভয়াবহ হামলা হলেও এখন পর্যন্ত কোনো ধরনের তেজস্ক্রিয়তা ছড়ানো বা হতাহতের সুনির্দিষ্ট খবর পাওয়া যায়নি।

এই হামলার ঠিক আগ মুহূর্তে বুশেহর পারমাণবিক কেন্দ্র থেকে মাত্র ২০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত চোগাদাক শহরের সাধারণ বাসিন্দারা একের পর এক বিকট বিস্ফোরণের শব্দে কেঁপে ওঠেন। তাঁরা আকাশে ধোঁয়ার কুণ্ডলী দেখতে পান।

উল্লেখ্য, গতকাল রাতেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানে ‘অত্যন্ত কঠিন আঘাত’ করার হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন। ধারণা করা হচ্ছে, এই হামলা তারই ধারাবাহিকতা। তবে চার মাস ধরে চলা এই যুদ্ধে ইরানি পারমাণবিক কেন্দ্রের এত কাছাকাছি হামলার ঘটনা এটাই প্রথম নয়। এর আগেও বেশ কয়েকবার এই অঞ্চলের কাছাকাছি হামলা করেছিল মার্কিন বাহিনী।

গত এপ্রিল মাসেই জাতিসংঘের পরমাণু বিষয়ক পর্যবেক্ষণ সংস্থা আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা (আইএইএ) সতর্ক করে বলেছিল, এই পারমাণবিক কেন্দ্রের কাছাকাছি যেকোনো ধরনের সামরিক হামলা ভয়ানক বিপদ ডেকে আনবে এবং এই ধরনের কর্মকাণ্ড অবিলম্বে বন্ধ হওয়া উচিত।

বার্তা সংস্থা এএফপির প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, রাশিয়ার প্রত্যক্ষ কারিগরি ও প্রকৌশলগত সহায়তায় নির্মিত ইরানের বুশেহর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রটিতে বর্তমানে একটি চুল্লি বা রিঅ্যাক্টর সচল রয়েছে। আর দুটি নতুন চুল্লি নির্মাণের কাজ চলমান ছিল। তবে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর নিরাপত্তা ঝুঁকির কারণে রাশিয়া ইতিমধ্যেই এই কেন্দ্র থেকে তাদের সব বিশেষজ্ঞ প্রকৌশলী ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিয়েছে।

যুদ্ধ পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণকারী আন্তর্জাতিক অলাভজনক সংস্থা ‘এসিএলইডি’ তাদের সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, চলমান এই যুদ্ধে এখন পর্যন্ত অন্তত চারবার এই স্পর্শকাতর পারমাণবিক কেন্দ্রের আশপাশে মার্কিন ও মিত্র বাহিনীর দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হেনেছে। তবে এবারের হামলাটি কেন্দ্রের সবচেয়ে কাছাকাছি হওয়ায় পারমাণবিক চুল্লির সুরক্ষার বিষয়টি নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে ভয় তৈরি হয়েছে।

জর্ডানের বিমান ঘাঁটিতে ইরানের ১০টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা

খামেনির দাফনে লাখো মানুষ, প্রতিশোধের স্লোগানে মুখর মাশহাদ

দুই দিনে ১৭০ ইরানি স্থাপনায় হামলা যুক্তরাষ্ট্রের, নিহত ১৪

রাফাহ থেকে গাজা শাসন শুরুর পরিকল্পনা বোর্ড অব পিসের, ‘মানবিক অঞ্চলের’ ইঙ্গিত

কুয়েত-বাহরাইনের চার মার্কিন ঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র-ড্রোন হামলার দাবি ইরানের

ইরানে ২০ গুণ শক্তিশালী আঘাত করেছি, তারা এখন চুক্তির জন্য ফোন করছে: ট্রাম্প

ইরানে ফের মার্কিন হামলা, ভেস্তে যাওয়ার মুখে যুদ্ধবিরতি

আজ রাতে ইরানে আবার কঠোর হামলার হুমকি ট্রাম্পের

ইরাক–সিরিয়াকে নিয়ে ত্রিপক্ষীয় জোটের পথে যুক্তরাষ্ট্র

‘ফিলিস্তিনিদের বাঁচতে দিন’: আবেগঘন বক্তব্যে বিশ্বব্যাপী প্রশংসায় ভাসছেন মিসরের কোচ