রক্তক্ষয়ী সংঘাতের পর লেবাননে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলেও কাটছে না শঙ্কা। একদিকে ইসরায়েলি হামলায় বিধ্বস্ত ঘরবাড়িতে ফিরছে হাজারো বাস্তুচ্যুত মানুষ, অন্যদিকে দক্ষিণ লেবাননে সংঘর্ষে এক ইসরায়েলি সেনা নিহত ও অন্তত ৯ জন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। সব মিলিয়ে এক থমথমে পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে অতিবাহিত হচ্ছে যুদ্ধবিরতির প্রথম কয়েক দিন।
ইসরায়েলের ক্রমাগত বিমান হামলা ও উচ্ছেদ আদেশের মুখে যাঁরা ঘরবাড়ি ছেড়ে পালিয়েছিলেন, যুদ্ধবিরতি ঘোষণার পর তাঁরা দক্ষিণ লেবাননে দলে দলে ফিরতে শুরু করেছেন। কিন্তু বাড়িতে ফিরে অনেকেরই আনন্দের বদলে বুকফাটা আর্তনাদ শোনা যাচ্ছে। দেখা গেছে, সাজানো গোছানো জনপদ এখন ইটপাথরের স্তূপ। স্কুল, হাসপাতাল ও নাগরিক সুযোগ-সুবিধাগুলো ইসরায়েলি হামলায় পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে গেছে।
বাস্তুচ্যুত এক লেবানিজ নাগরিক বলেন, ‘ঘরে ফিরতে চেয়েছিলাম ঠিকই, কিন্তু এখন আমার দাঁড়িয়ে থাকার মতো কোনো জায়গা নেই। সব ধ্বংস হয়ে গেছে।’
ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, দক্ষিণ লেবাননে যুদ্ধ চলাকালে তাদের এক সেনাসদস্য নিহত হয়েছেন। এই ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও ৯ জন, যাঁদের মধ্যে একজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। বার্তা সংস্থা এএফপির তথ্যমতে, গত দেড় মাসে লেবাননে অন্তত ১৫ জন ইসরায়েলি সেনা নিহত হয়েছে। এই ঘটনা যুদ্ধবিরতির স্থায়িত্ব নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলছে।
এদিকে হিজবুল্লাহর সাধারণ সম্পাদক নাঈম কাসেম আল-মানার টিভিকে দেওয়া এক বিবৃতিতে এই যুদ্ধবিরতির আলোচনাকে লেবাননের জন্য ‘অপমানজনক’ বলে বর্ণনা করেছেন। তিনি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, একপক্ষীয় যুদ্ধবিরতি মেনে নিতে তাঁরা বাধ্য নন। কাসেম আরও বলেন, ২০২৪ সালের নভেম্বরের সেই পরিস্থিতির পুনরাবৃত্তি তাঁরা হতে দেবেন না, যেখানে ইসরায়েল ইচ্ছেমতো গুলি চালাত, কিন্তু হিজবুল্লাহকে কূটনীতির আশায় হাত গুটিয়ে থাকতে হতো। তার মতে, দীর্ঘদিনের সেই কূটনীতি লেবাননের জন্য কিছুই বয়ে আনেনি।
বৈরুত থেকে আল জাজিরার সংবাদদাতা হেইডি পেটের প্রতিবেদন অনুযায়ী, দক্ষিণ লেবাননের দিকে যাওয়ার রাস্তাগুলোতে দীর্ঘ যানজট সৃষ্টি হয়েছে। হাজার হাজার মানুষ ঘরবাড়ি দেখতে দক্ষিণে যাচ্ছে ঠিকই, কিন্তু এক অদ্ভুত আস্থাহীনতা কাজ করছে তাঁদের মনে। দিনের বেলা বাড়িতে গিয়ে আসবাবপত্র বা প্রয়োজনীয় জিনিস সংগ্রহ করলেও নিরাপত্তার অভাবে বেশির ভাগ মানুষই রাত কাটানোর জন্য আবার বৈরুত বা বড় শহরগুলোতে ফিরে আসছে। ইসরায়েলের ওপর বিশ্বাস রাখতে না পারার কারণেই তাঁরা নিজ ভিটায় রাত কাটানোর ঝুঁকি নিচ্ছে না।