যুক্তরাষ্ট্রের হাতে ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোর আটকের পর প্রশ্ন উঠেছে এই সংকটময় পরিস্থিতিতে দেশটির ভার কার হাতে যাবে এ নিয়ে। এদিকে বিরোধী নেত্রী শান্তিতে নোবেলবিজয়ী মারিয়া কোরিনা মাচাদোর নাম থাকলেও তাঁর নেতৃত্ব পাওয়ার কথা উড়িয়ে দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি জানান, মাচাদো নয়, বরং মাদুরোর উত্তরসূরি হিসেবে ভেনেজুয়েলার ভাইস প্রেসিডেন্ট দেলসি রদ্রিগেজের ওপর ভরসা করছেন তিনি। ট্রাম্প আরও দাবি করেন, রদ্রিগেজ এরইমধ্যে দেশটির প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নিয়েছেন।
তিনি বলেন, রদ্রিগেজকে ইতিমধ্যে প্রেসিডেন্ট হিসেবে ‘শপথবাক্য পাঠ করানো হয়েছে’। শান্তিপূর্ণভাবে ক্ষমতা হস্তান্তর না হওয়া পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র ভেনেজুয়েলা ‘পরিচালনা’ করবে এবং এই সময়ে তিনি দেলসি রদ্রিগেজের সঙ্গে কাজ করবেন।
ট্রাম্প আরও বলেন, ‘আমি মাত্রই তাঁর সঙ্গে কথা বলেছি। ভেনেজুয়েলাকে আবার মহান করতে যা যা প্রয়োজন বলে তিনি মনে করেন, তা করতে তিনি প্রস্তুত। বিষয়টা খুবই সহজ।’
তবে এরপর এক টেলিভিশন ভাষণে ট্রাম্পের মন্তব্য উড়িয়ে দেন দেলসি রদ্রিগেজ। তিনি বলেন, নিকোলাস মাদুরোই ভেনেজুয়েলার ‘একমাত্র প্রেসিডেন্ট’।
ভেনেজুয়েলার রাজধানী কারাকাসে জন্মগ্রহণকারী ৫৬ বছর বয়সী রদ্রিগেজ বামপন্থী গেরিলা যোদ্ধা হোর্হে আন্তোনিও রদ্রিগেজের কন্যা। পেশায় একজন আইনজীবী।
২০১৩ সালে যোগাযোগ ও তথ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পান। পরের বছরই পররাষ্ট্রমন্ত্রী হন তিনি। ২০১৭ সালে সরকারপন্থী ‘কনস্টিটিউয়েন্ট অ্যাসেম্বলি’র প্রধান হিসেবে নিযুক্ত হন দেলসি রদ্রিগেজ। ২০১৮ সালের জুন মাসে মাদুরো তাঁকে ভাইস প্রেসিডেন্ট ঘোষণা করেন।
এক্স-এ এক বার্তায় মাদুরো তাঁকে ‘এক সাহসী, অভিজ্ঞ তরুণী, শহীদের কন্যা এবং হাজারো যুদ্ধে পরীক্ষিত বিপ্লবী’ হিসেবে অভিহিত করেন। ভাইস প্রেসিডেন্টের পদের পাশাপাশি রদ্রিগেজ বর্তমানে অর্থ ও তেল মন্ত্রী হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন।
এদিকে মাদুরোর আটকের কয়েক ঘণ্টা পর ভেনেজুয়েলার বিরোধী নেত্রী মারিয়া কোরিনা মাচাদো বলেন, ‘মুক্তির ক্ষণ এসে গেছে।’
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ শেয়ার করা এক বার্তায় মাচাদো বলেন, ‘আজ আমরা আমাদের ম্যান্ডেট কার্যকর করতে এবং ক্ষমতা গ্রহণ করতে প্রস্তুত। গণতান্ত্রিক রূপান্তর বাস্তবায়িত না হওয়া পর্যন্ত আমাদের সজাগ, সক্রিয় ও সংগঠিত থাকতে হবে। এই রূপান্তরের জন্য আমাদের সবার প্রয়োজন।’
গতকাল শনিবার ভোরে ভেনেজুয়েলার রাজধানী কারাকাসে একাধিক হামলার পর মার্কিন সেনারা প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো ও তাঁর স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেসকে আটক করে। মার্কিন সেনাবাহিনীর ডেল্টা ফোর্স মাদুরোর আবাসিক কম্পাউন্ড থেকে তাঁদের আটক করে ইউএসএস আইও জিমা জাহাজে তোলে। জাহাজটি নিউইয়র্কের দিকে যাচ্ছে। সেখানে তাঁদের বিরুদ্ধে মামলা করা হবে।