ভেনেজুয়েলায় আঘাত হানা প্রলয়ংকরী জোড়া ভূমিকম্পে নিহতের সংখ্যা একলাফে দ্বিগুণের বেশি বেড়ে ৫৮৯ জনে দাঁড়িয়েছে। আজ শুক্রবার দেশটির অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট দেলসি রদ্রিগেজ এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। এর আগে সরকারিভাবে মৃতের সংখ্যা ২৩৫ এবং আহত ৪ হাজার ৩০০ বলে জানানো হয়েছিল।
সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তাদের সঙ্গে সরাসরি সম্প্রচারিত এক টেলিভিশন বৈঠকে প্রেসিডেন্ট দেলসি রদ্রিগেজ বলেন, ‘দুর্ভাগ্যবশত, এই দুর্যোগে আমাদের দেশে নিহতের সংখ্যা এখন ৫৮৯ জনে পৌঁছেছে।’
এদিকে ভূমিকম্পের পর দুই দিন পার হয়ে গেলেও ধসে পড়া বহুতল ভবন এবং অ্যাপার্টমেন্টগুলোর নিচে এখনো বহু মানুষ আটকা পড়ে আছে। নিখোঁজ ব্যক্তিদের জীবিত উদ্ধারের আশায় আন্তর্জাতিক ও স্থানীয় উদ্ধারকারী দলগুলো ধ্বংসস্তূপের ভেতর অবিরাম তল্লাশি অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে। তবে সময় যত গড়াচ্ছে, আটকে পড়াদের বেঁচে থাকার আশা তত ক্ষীণ হয়ে আসায় মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
বার্তা সংস্থা এএফপির প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, গত বুধবার সন্ধ্যায় রাজধানী কারাকাসের পশ্চিমাঞ্চলে মাত্র ৩৯ সেকেন্ডের ব্যবধানে পরপর দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হানে। ভূতত্ত্ব বিজ্ঞানের ভাষায় একে ‘ডাবলেট’ বা জোড়া ভূমিকম্প বলা হয়। প্রথম কম্পনটি ছিল ৭ দশমিক ২ মাত্রার এবং এর উৎপত্তিস্থল ছিল উপকূলীয় শহর মোরন থেকে ২১ কিলোমিটার পশ্চিমে, ভূগর্ভের ২২ কিলোমিটার গভীরে।
এর ঠিক ৩৯ সেকেন্ড পর ৪৫ কিলোমিটার দূরে ভূগর্ভের ১০ কিলোমিটার গভীরে ৭ দশমিক ৫ মাত্রার মূল প্রধান কম্পনটি আঘাত হানে। ভেনেজুয়েলার ইতিহাসে ১৯০০ সালের ২৯ অক্টোবরের (৭ দশমিক ৭ মাত্রা) পর এটিই দেশটির সবচেয়ে শক্তিশালী ও বিধ্বংসী ভূমিকম্প।
শক্তিশালী এই কম্পনে শত শত বহুতল ভবন ধসে পড়ার পাশাপাশি বিদ্যুৎ, গ্যাস ও পানি সরবরাহ সম্পূর্ণ ভেঙে পড়েছে। আন্তর্জাতিক সহায়তায় উদ্ধারকাজ চললেও ভেনেজুয়েলা এখন স্মরণকালের সবচেয়ে বড় মানবিক বিপর্যয়ের মুখোমুখি হয়েছে।
আরও পড়ুন: