হোম > বিশ্ব > লাতিন আমেরিকা

হাসি কেড়ে নিচ্ছে সরকারি ফরমান: বলিভিয়ায় জীবিকা রক্ষায় রাজপথে শত শত ‘জোকার’

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­

জীবিকা রক্ষায় রাস্তায় নেমেছেন বলিভিয়ার পেশাদার ক্লাউনরা। ছবি: সংগৃহীত

রঙিন মেকআপ, লাল নাক আর বাহারি পোশাক—সাধারণত যাঁদের দেখলে শিশুদের মুখে হাসি ফোটে, গতকাল সোমবার বলিভিয়ার রাজধানী লা পাজের রাস্তায় তাঁদের দেখা গেল এক ভিন্ন রূপে। নিজেদের অস্তিত্ব রক্ষার লড়াইয়ে এবং জীবিকা হারানোর শঙ্কায় রাজপথে প্রতিবাদ মিছিল করলেন দেশটির শত শত পেশাদার ক্লাউন বা জোকার বা ভাঁড়।

বার্তা সংস্থা এপির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বলিভিয়া সরকারের শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের একটি নতুন আদেশকে কেন্দ্র করে এই বিক্ষোভের সূত্রপাত। গত ফেব্রুয়ারিতে প্রকাশিত ওই আদেশে বলা হয়েছে, প্রতিটি স্কুলে বছরে অবশ্যই ২০০ দিন ক্লাস বা পাঠদান সম্পন্ন করতে হবে। এর ফলে স্কুলগুলোতে নিয়মিত শিক্ষা কার্যক্রমের বাইরে বিশেষ উৎসব বা অনুষ্ঠান আয়োজনের সুযোগ কার্যত বন্ধ হয়ে গেছে। সাধারণত বলিভিয়ার স্কুলগুলোতে বিভিন্ন উৎসবে এই ক্লাউনদের শিশুদের বিনোদনের জন্য ভাড়া করা হতো, যা এখন এই নতুন নিয়মের কারণে বন্ধ হওয়ার পথে।

স্থানীয় ক্লাউন ইউনিয়নের নেতা উইল্ডার রামিরেজ, যিনি ‘জাপালিতো’ নামে পরিচিত, সাংবাদিকদের বলেন, ‘এই সরকারি সিদ্ধান্ত আমাদের সবার ওপর চরম অর্থনৈতিক প্রভাব ফেলবে। শিশুদের হাসার প্রয়োজন আছে। আমাদের প্রশ্ন, শিক্ষামন্ত্রীর কি শৈশব ছিল না?’

আগামী ১২ এপ্রিল বলিভিয়ায় ‘শিশু দিবস’ পালিত হবে। সাধারণত এই সময় ক্লাউনদের ব্যাপক চাহিদা থাকে। কিন্তু নতুন নিয়মে স্কুল চলাকালে কোনো উদ্‌যাপন করা যাবে না। যদিও সপ্তাহান্তে (ছুটির দিনে) স্বেচ্ছায় এসব অনুষ্ঠান করা যেতে পারে বলে সরকার জানিয়েছে, কিন্তু শিল্পীদের মতে, এতে তাঁদের আয় নাটকীয়ভাবে কমে যাবে।

বলিভিয়া বর্তমানে কয়েক দশকের মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ অর্থনৈতিক সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। প্রাকৃতিক গ্যাসের উৎপাদন কমে যাওয়ায় সরকারের আয় সংকুচিত হয়েছে এবং ডলারের সংকটের কারণে আমদানি ব্যয় বহুগুণ বেড়েছে। এই পরিস্থিতিতে স্কুলগুলোতে ক্লাউনদের প্রবেশাধিকার নিষিদ্ধ হওয়া তাদের ভবিষ্যৎকে আরও অন্ধকার করে তুলছে।

বিক্ষোভ মিছিলে কেবল ক্লাউনরাই নন, তাঁদের সঙ্গে যোগ দিয়েছেন দরজি (টেইলর), যারা ক্লাউনদের পোশাক ও শিশুদের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের পোশাক তৈরি করেন। এ ছাড়া স্কুল ফটোগ্রাফাররাও এই প্রতিবাদে শামিল হয়েছেন।

বিক্ষোভের মুখে নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট রদ্রিগো পাজের সরকার জানিয়েছে, তাঁরা ২০২৭ সালের শিক্ষাবর্ষের পরিকল্পনা করার সময় এই আপত্তির বিষয়টি বিবেচনায় নেবেন। তবে এই আশ্বাস আন্দোলনকারীদের শান্ত করতে পারেনি। তাঁদের মতে, বর্তমান অর্থনৈতিক মন্দার মাঝে ২০২৭ সাল পর্যন্ত অপেক্ষা করা তাঁদের পক্ষে অসম্ভব।

বিক্ষোভকারীরা বাঁশি বাজিয়ে এবং ছোট ছোট আতশবাজি ফুটিয়ে লা পাজ শহরের প্রাণকেন্দ্রে মিছিল করেন। তাঁদের একজনের হাতে থাকা প্ল্যাকার্ডে লেখা ছিল—‘সরকার শুধু আমাদের হাসিই কেড়ে নিচ্ছে না, আমাদের কাজও কেড়ে নিচ্ছে।’

কিউবায় আরোপিত অবরোধ নিয়ে উদাসীন ট্রাম্প, জ্বালানি নিয়ে যাচ্ছে রুশ ট্যাংকার

কলম্বিয়ায় সামরিক উড়োজাহাজ বিধ্বস্ত, ৬৬ জনের মৃত্যু

কিউবায় ক্ষমতাসীন কমিউনিস্ট পার্টির কার্যালয়ে নজিরবিহীন ভাঙচুর-অগ্নিসংযোগ

আইসিইউতে ব্রাজিলের সাবেক প্রেসিডেন্ট বলসোনারো

আমেরিকাজুড়ে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ক্ষুণ্ন, যুক্তরাষ্ট্রে হুমকির মুখে: প্রতিবেদন

এবার ইকুয়েডরে মার্কিন সামরিক অভিযান

বলিভিয়ায় নতুন টাকাভর্তি উড়োজাহাজ বিধ্বস্ত, নিহত অন্তত ১১

কিউবার সেনাদের গুলিতে মার্কিন-নিবন্ধিত স্পিডবোটের ৪ আরোহী নিহত

মাদকসম্রাট এল মেঞ্চোকে হত্যার পর টালমাটাল মেক্সিকো, ব্যাপক সহিংসতা

ভেনেজুয়েলায় সাধারণ ক্ষমার আবেদন ১ হাজার ৫৫৭ রাজনৈতিক বন্দীর