হোম > বিশ্ব > লাতিন আমেরিকা

পাবলো এস্কোবারের ৮০টি জলহস্তী বাঁচাতে চান আম্বানির ছেলে

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­

স্থানীয় প্রজাতিগুলোর হুমকি এখন এই জলহস্তীগুলো। ছবি: সিএনএন

কলম্বিয়ায় হত্যার পরিকল্পনায় থাকা ৮০টি জলহস্তী বাঁচাতে এগিয়ে এসেছেন ভারতীয় বিলিয়নিয়ার মুকেশ আম্বানির ছেলে অনন্ত আম্বানি। কলম্বিয়ার কুখ্যাত মাদক সম্রাট পাবলো এস্কোবারের এই জলহস্তীগুলোকে ভারতে নিয়ে সংরক্ষণের প্রস্তাব দিয়েছেন অনন্ত। ১৯৯৩ সালের ১ ডিসেম্বর পুলিশের গুলিতে নিহত হয়েছিলেন এস্কোবার।

বুধবার (২৯ এপ্রিল) এই বিষয়ে সিএনএন-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জলহস্তীগুলোর ইতিহাস বেশ অদ্ভুত। ১৯৮০-এর দশকে মাদক সম্রাট পাবলো এস্কোবার নিজের ব্যক্তিগত চিড়িয়াখানার জন্য আফ্রিকা থেকে কয়েকটি জলহস্তী নিয়ে এসেছিলেন। এস্কোবারের মৃত্যুর সময় মোট চারটি জলহস্তী ছিল। পরে সেগুলো বনে ছড়িয়ে পড়ে এবং দ্রুত বংশ বিস্তার করে সংখ্যা দাঁড়িয়েছে এখন প্রায় ১৬০-এ। পরিস্থিতি এমন হয়েছে যে, এই জলহস্তীগুলোর উপস্থিতি স্থানীয় জীববৈচিত্র্যের জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষ করে নদী ও জলাভূমি-নির্ভর স্থানীয় প্রাণীদের জন্য।

বাস্তব দিক বিবেচনা করে সম্প্রতি কলম্বিয়া সরকার ৮০টি হিপ্পো হত্যা করার পরিকল্পনা ঘোষণা করলে বিষয়টি আন্তর্জাতিক আলোচনায় উঠে আসে। পরিবেশ রক্ষার যুক্তিতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হলেও প্রাণী অধিকার কর্মীদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়। এমন পরিস্থিতিতে অনন্ত আম্বানি সামাজিক মাধ্যমে এক বার্তায় বলেন, ‘এই প্রাণীগুলো তাদের জন্মস্থান বা বর্তমান পরিস্থিতি নিজেরা বেছে নেয়নি। যদি আমরা মানবিক উপায়ে তাদের রক্ষা করতে পারি, তাহলে সেটা আমাদের দায়িত্ব।’

আম্বানির প্রস্তাব অনুযায়ী—এই জলহস্তীগুলোকে ভারতের গুজরাটের জামনগরে অবস্থিত তাঁর প্রতিষ্ঠিত বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ কেন্দ্র ভান্তারা-তে স্থানান্তর করা হবে। এই কেন্দ্রে ইতিমধ্যে ২ হাজারের বেশি প্রজাতির দেড় লাখেরও বেশি প্রাণী রয়েছে। কেন্দ্রটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, জলহস্তীগুলোর জন্য বিশেষভাবে তৈরি করা পরিবেশে তাদের বর্তমান আবাসস্থলের বৈশিষ্ট্য বজায় রেখে যত্ন নেওয়া হবে।

ভান্তারার প্রধান নির্বাহী বিবান কারানি কলম্বিয়ার পরিবেশমন্ত্রী ইরেনে ভেলেজ টরেস-কে পাঠানো এক চিঠিতে অনুরোধ করেছেন, সরকার যেন হত্যার সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করে। তিনি আশ্বাস দিয়েছেন, প্রয়োজনীয় অনুমোদন, জৈব নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং আন্তর্জাতিক নিয়ম মেনে পুরো প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে এবং প্রাণীগুলোর আজীবন যত্ন নেওয়া হবে।

অন্যদিকে কলম্বিয়ার সরকার বলছে, এই জলহস্তীগুলো একটি ‘ইনভেসিভ স্পেসিস’ বা অনুপ্রবেশকারী প্রজাতি হিসেবে মারাত্মক হুমকি তৈরি করছে। দেশটির মাগদালেনা নদী অববাহিকা অঞ্চলে এদের সংখ্যা নিয়ন্ত্রণ না করা গেলে ২০৩০ সালের মধ্যে তা বেড়ে ৫০০-তে পৌঁছাতে পারে। এমন হলে বিষয়টি স্থানীয় প্রজাতি যেমন মানাটি ও নদীর কচ্ছপের জন্য বিপজ্জনক হবে।

উল্লেখ্য, এর আগেও জলহস্তীগুলোকে অন্য দেশে স্থানান্তরের বিভিন্ন পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু আন্তর্জাতিক বিধিনিষেধ ও বাস্তব সীমাবদ্ধতার কারণে তা এগোয়নি। এখন অনন্ত আম্বানির সংরক্ষণ প্রস্তাবের পর কলম্বিয়া সরকারের সিদ্ধান্তের অপেক্ষা করছে বিশ্ব।

মাদুরোর মামলার খরচ দিতে পারবে ভেনেজুয়েলা

মাদুরোর মামলা চালাতে পারবে ভেনেজুয়েলা সরকার, যুক্তরাষ্ট্রের অনুমতি

মেক্সিকোতে রহস্যজনক সড়ক দুর্ঘটনায় দুই সিআইএ এজেন্ট নিহত, কূটনৈতিক উত্তেজনা

১০ দিনেও শেষ হয়নি ভোট গণনা, পেরুর নির্বাচন পরিচালনা প্রধানের পদত্যাগ

ব্যবহৃত পোশাকের ভাগাড়ে পরিণত হয়েছে যে দেশের মরুভূমি

‘গাধার মাংস খেলেই জাতি সুস্থ থাকবে’, আর্জেন্টিনার সিনেটরের মন্তব্যে তোলপাড়

ব্রাজিলে সহস্রাধিক মার্কিন অস্ত্র ও দেড় টন মাদক জব্দ

কিউবা যাচ্ছে রাশিয়ার দ্বিতীয় তেলবাহী জাহাজ, দখলের আশা কি ছেড়ে দিলেন ট্রাম্প

দেলসি রদ্রিগেজের ওপর নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করল যুক্তরাষ্ট্র

হাসি কেড়ে নিচ্ছে সরকারি ফরমান: বলিভিয়ায় জীবিকা রক্ষায় রাজপথে শত শত ‘জোকার’