ভেনেজুয়েলার বিরুদ্ধে আমেরিকার ‘সরাসরি সশস্ত্র আগ্রাসনের’ ঘটনায় গভীর বিস্ময় ও তীব্র নিন্দা প্রকাশ করেছে চীন। আজ শনিবার (৩ জানুয়ারি) চীনা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক মুখপাত্র এক বিবৃতিতে জানান, একটি সার্বভৌম রাষ্ট্র এবং তার প্রেসিডেন্টের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের এ ধরনের বলপ্রয়োগ আন্তর্জাতিক আইনের চরম লঙ্ঘন।
চীনের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম সিনহুয়ার প্রতিবেদন থেকে এই তথ্য জানা গেছে।
চীনা মুখপাত্র বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের এ ধরনের আধিপত্যবাদী আচরণ শুধু ভেনেজুয়েলার সার্বভৌমত্বকেই ক্ষুণ্ন করেনি, বরং এটি লাতিন আমেরিকা ও ক্যারিবীয় অঞ্চলের শান্তি ও নিরাপত্তার জন্য বড় ধরনের হুমকি।’ তিনি আরও বলেন, চীন দৃঢ়ভাবে এই আগ্রাসনের বিরোধিতা করছে।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের ট্রুথ সোশ্যাল পোস্টের বরাতে সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, মাদুরো ও তাঁর স্ত্রীকে মার্কিন হেফাজতে ভেনেজুয়েলার বাইরে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। এই পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে চীন আমেরিকাকে ‘আধিপত্যবাদী নীতি’ পরিহারের আহ্বান জানিয়েছে। বেইজিংয়ের দাবি, ওয়াশিংটন যেন অবিলম্বে অন্য দেশের সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তা লঙ্ঘন বন্ধ করে এবং জাতিসংঘ সনদের আদর্শ অনুসরণ করে।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ‘আমরা যুক্তরাষ্ট্রকে আন্তর্জাতিক আইন মেনে চলার এবং অন্য দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করার আহ্বান জানাচ্ছি। প্রতিটি দেশেরই তার নিজের ভাগ্য নির্ধারণের অধিকার রয়েছে।’
উল্লেখ্য, চীন ভেনেজুয়েলার অন্যতম প্রধান অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক অংশীদার। মাদুরো সরকারের পতনের ফলে ভেনেজুয়েলায় চীনের বিশাল বিনিয়োগ এবং দীর্ঘমেয়াদি ঋণের ভবিষ্যৎ নিয়ে বেইজিংয়ের মধ্যে উদ্বেগ রয়েছে। রাশিয়া যেমন সরাসরি সামরিক ও রাজনৈতিক ভাষা ব্যবহার করছে, চীনও এখন তাদের ‘নীরবতা’ ভেঙে কড়া ভাষায় সরব হতে শুরু করেছে।