হোম > বিশ্ব > ভারত

তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাতের পরপরই মোদির সঙ্গে বৈঠকে ত্রিবেদী, চাইলেন ‘দিকনির্দেশনা’

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­

নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে দীনেশ ত্রিবেদী। ছবি: ফেসবুক

বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে বৈঠকের পরদিনই ঢাকায় নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী নয়াদিল্লিতে দেশটির প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন। বৈঠকে তিনি ঢাকা ও নয়াদিল্লির মধ্যে একটি ‘দীর্ঘস্থায়ী’ দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক গড়ে তুলতে মোদির ‘দিকনির্দেশনা’ চান। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের প্রতিবেদন থেকে এই তথ্য জানা যায়।

বাংলাদেশে অবস্থিত ভারতীয় হাইকমিশন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে এক পোস্টে জানিয়েছে, ‘হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী আজ (গতকাল মঙ্গলবার) মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন এবং জনগণকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে গঠনমূলক উপায়ে ভারত ও বাংলাদেশের বহুমাত্রিক ও দীর্ঘস্থায়ী দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করার বিষয়ে তাঁর দিকনির্দেশনা চান।’

ভারতে অবস্থানরত গণঅভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেওয়া বক্তব্যে ঢাকার ক্ষোভ প্রকাশের পাঁচ দিন পর গত সোমবার বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দীনেশ ত্রিবেদীর সঙ্গে বৈঠকে তাঁর প্রত্যর্পণের বিষয়টি তোলেন। একই সঙ্গে দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও এগিয়ে নেওয়ার জন্য একটি ‘অনুকূল পরিবেশ’ তৈরির প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন তিনি।

তার আগের দিন, গত রোববার দীনেশ ত্রিবেদী রহমান ও মোদিকে ‘জনগণের মানুষ’ হিসেবে উল্লেখ করে বলেছিলেন, দুই নেতা বৈঠকে বসলে দুই দেশের বিভিন্ন সমস্যার সমাধান সম্ভব হবে বলে তিনি আশাবাদী। সাংবাদিকদের তিনি বলেছিলেন, ‘আমরা তাঁকে (তারেক রহমানকে) অনেক সম্মান করি। তিনি হৃদয় থেকে কথা বলেন। আমি তাঁর অনেক বক্তৃতা শুনেছি...তিনি জনগণের মানুষ, আমাদের প্রধানমন্ত্রীও (মোদি) জনগণের মানুষ। আমার মনে হয়, দুই নেতা যখন একসঙ্গে বসেন, তখন অনেক সমস্যার সমাধান হয়ে যায়। আমার পূর্ণ আস্থা আছে।’

দুই নেতার ব্যক্তিত্বকে এভাবে সামনে আনার বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ, কারণ তারেক রহমান এখনো ভারত সফর করেননি। এরই মধ্যে তিনি চীন সফর করেছেন এবং চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিনপিংয়ের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। তারেক রহমানের সঙ্গে বৈঠকের পর ত্রিবেদী সেই সাক্ষাৎকে ‘ফলপ্রসূ’ হিসেবে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশ ও ভারত শুধু একটি সীমান্তই ভাগ করে না, তারা একই সঙ্গে অভিন্ন স্বপ্নও ধারণ করে।

তিনি বলেন, ‘আমরা সামনের দিকে তাকিয়ে আছি। আমাদের আমন্ত্রণ বহাল রয়েছে। আমরা ইতিবাচক যে, দুই নেতা একসঙ্গে বসলে আলোচনা হবে। গণতন্ত্রে নানা ইস্যু থাকবেই। কোনো ইস্যু না থাকলে সেটি গণতন্ত্র নয়। তবে মানুষের একটিই ইস্যু রয়েছে, সেটি হলো সুসম্পর্ক। ভালো সম্পর্ক থাকলে উভয় পক্ষেরই লাভ। এটি একটি উইন-উইন পরিস্থিতি।’

তিনি এ কথা বলেন সেপ্টেম্বরে অনুষ্ঠিতব্য ব্রিকস নেতাদের আউটরিচ সম্মেলনে যোগ দিতে তারেক রহমানকে ভারতের দেওয়া আমন্ত্রণের প্রসঙ্গে। বৈঠকের ধরন সম্পর্কে দীনেশ ত্রিবেদী বলেন, ‘আমি কূটনীতিক নই। এটি জনগণের প্রতিনিধি ও জনগণের প্রতিনিধির মধ্যে সাক্ষাৎ। দেখা করতে পেরে আমি খুবই আনন্দিত। আমার মনে হয়নি যে, আমি তাঁর সঙ্গে প্রথমবার দেখা করছি। তিনি খুবই ভালো, অত্যন্ত বিনয়ী, মাটির মানুষ। আলোচনার বিষয় কী হবে? জনগণের সঙ্গে জনগণের সম্পর্ক।’

তিনি আরও বলেন, এমন কোনো সমস্যা নেই যার সমাধান করা সম্ভব নয়। ত্রিবেদী আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে বলেন, ‘আমি আপনাদের এটা দৃঢ়ভাবে বলতে পারি।’