ভারতের পার্লামেন্টের বর্ষাকালীন অধিবেশন ঘিরে নানা রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি আলোচনায় উঠে এসেছে বলিউড অভিনেত্রী ও বিজেপির সংসদ সদস্য কঙ্গনা রানাউতের ফ্যাশন। সম্প্রতি পার্লামেন্ট চত্বর থেকে বের হওয়ার সময় তাঁর পরনে ছিল হালকা নীল রঙের অ্যারি সিল্ক শাড়ি। তবে শাড়ির চেয়ে বেশি নজর কেড়েছে তাঁর সঙ্গে থাকা বিলাসবহুল আনুষঙ্গিক সামগ্রী। ভারতীয় সংবাদমাধ্যমগুলোর তথ্যমতে, কঙ্গনার এই পোশাকপরিচ্ছদের মোট মূল্য প্রায় ৫৬ লাখ রুপি, বাংলাদেশি মুদ্রায় যা ৭২ লাখ টাকারও বেশি।
জানা যায়, কঙ্গনা ওই দিন মণিপুরভিত্তিক ব্র্যান্ড এনইউপিআই (NUPI)-এর তৈরি বেবি-ব্লু অ্যারি সিল্ক শাড়ির সঙ্গে সাদা ব্লাউজ এবং আইভরি রঙের সোয়েড স্লিপ-অন পরেছিলেন। সাজকে আরও আকর্ষণীয় করে তুলেছিল তাঁর হাতে থাকা হার্মেস বার্কিন ব্যাগ এবং রোলেক্স ঘড়ি।
অভিনেত্রীর হাতে দেখা যায় হার্মেসের টোগো লেদারের একটি বার্কিন ব্যাগ। বর্তমান বাজারমূল্য অনুযায়ী, শুধু ব্যাগটির দামই প্রায় ৩৫ লাখ রুপি (৪৫ লাখ টাকার বেশি)। টোগো লেদার তৈরি হয় বাছুরের চামড়া থেকে। এর সূক্ষ্ম উঁচু দানাদার টেক্সচার কোনো কিছুর আঁচড় ও পানির বিরুদ্ধে তুলনামূলকভাবে টেকসই। একই সঙ্গে এটি হালকা ও নমনীয় হওয়ায় বিলাসবহুল ব্যাগের ক্ষেত্রে বেশ জনপ্রিয়।
কঙ্গনার কবজিতে ছিল রোলেক্স লেডি-ডেটজাস্ট। বর্তমান বাজারমূল্য অনুযায়ী, এই ঘড়িটির দাম প্রায় ২১ লাখ রুপি (২৭ লাখ টাকারও বেশি)। বাদামি রঙের ডায়ালের এই ঘড়িটি রোলেক্সের অন্যতম ঐতিহাসিক মডেল। ১৯৪৫ সালে ডেটজাস্ট প্রথম বাজারে আসে এবং এটি ছিল প্রথম স্বয়ংক্রিয়, পানিরোধী ক্রোনোমিটার হাতঘড়ি, যার ডায়ালের ৩টার অবস্থানে তারিখ দেখানোর ব্যবস্থা ছিল। ১৯৫৩ সালে এই ঘড়িটির তারিখের ওপর ম্যাগনিফাইং ‘সাইক্লপস’ লেন্স যুক্ত হয়।
নারীদের জন্য লেডি-ডেটজাস্ট সংস্করণটি ১৯৫৭ সালে ২৫ মিলিমিটার ব্যাসে বাজারে আসে; বর্তমানে মডেলটির ব্যাস ২৮ মিলিমিটার।
তবে কঙ্গনার সাজে বিলাসিতার পাশাপাশি ছিল ভারতীয় নকশার ছোঁয়াও। তাঁর হাতে ছিল ‘গুড আর্থ’-এর একটি প্রিন্টেড ছাতা, যার দাম প্রায় ৬ হাজার ১০০ রুপি (প্রায় ৮ হাজার টাকা)। ছাতাটির বাইরের অংশে ব্র্যান্ডটির ‘ইন্ডিয়ান ওশান’ নকশা এবং ভেতরে ছিল শেভরন মোটিফ। নকশাটির অনুপ্রেরণা নেওয়া হয়েছে ভারত মহাসাগরের সংস্কৃত নাম ‘রত্নাকর’ থেকে।
সব মিলিয়ে শাড়ি, বিলাসবহুল ব্যাগ, রোলেক্স ঘড়ি ও নকশাদার ছাতার সমন্বয়ে কঙ্গনার এই পার্লামেন্ট লুকের আনুমানিক মূল্য দাঁড়িয়েছে ৫৬ লাখ রুপি। বাংলাদেশি মুদ্রায় যা ৭২ লাখ টাকার কম নয়।