ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচনে পরাজয়ের পর থেকেই রাজ্য রাজনীতিতে এক অভিনব ও বিতর্কিত প্রতিবাদ ঘিরে উত্তাপ বাড়ছে। তৃণমূল কংগ্রেস (টিএমসি) নেতাদের লক্ষ্য করে একের পর এক ‘ডিম হামলার’ ঘটনায় সরগরম হয়ে উঠেছে রাজনৈতিক মহল। বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক চাপানউতোরের পাশাপাশি এবার হস্তক্ষেপ করতে হয়েছে আদালতকেও।
সম্প্রতি কলকাতায় তৃণমূল নেত্রী ও সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এক সমাবেশ চলাকালীন তৃণমূল নেতাদের লক্ষ্য করে ডিম ছোড়ার ঘটনা ঘটে। এ সময় বিক্ষোভকারীরা ‘চোর-চোর’ স্লোগানও দেন। শুধু মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ই নন, বিগত কয়েক সপ্তাহে তৃণমূলের সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়, সাংসদ মহুয়া মৈত্র, কুণাল ঘোষ এবং দলের একাধিক প্রাক্তন মন্ত্রী এই ডিম হামলার শিকার হয়েছেন। নির্বাচনের পর থেকে রাজ্যজুড়ে এমন প্রায় শতাধিক ঘটনা ঘটেছে বলে জানা গেছে।
এই ডিম হামলাকে কেন্দ্র করে রাজ্য রাজনীতিতে শুরু হয়েছে তীব্র বাগযুদ্ধ। পশ্চিমবঙ্গের মন্ত্রী ও বিজেপি নেতা দিলীপ ঘোষ এই ঘটনাকে জনগণের ক্ষোভ প্রকাশের এক ‘উদ্ভাবনী’ উপায় হিসেবে বর্ণনা করেছেন।
সংবাদমাধ্যম এনডিটিভিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে দিলীপ ঘোষ এই হামলার যৌক্তিকতা দাবি করে বলেন, ‘মানুষ অন্তত ইট-পাটকেল তো ছুড়ছে না। তৃণমূলের ১৫ বছরের দুর্নীতির বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশের এটি একটি নিরীহ ও অভিনব উপায়।’
তিনি আরও বলেন, ‘ডিম হামলায় কেউ তো জখম হচ্ছে না, এমনকি এই ঘটনায় কোনো এফআইআরও দায়ের করা সম্ভব নয়। এটি ইট-পাথর ছোড়ার চেয়ে অনেক ভালো।’ নির্বাচনের পর রাজ্যে ডিমের দাম বেড়ে গেছে বলেও উপহাস করেন তিনি।
বিজেপি নেতৃত্বের দাবি, তৃণমূলের শাসনামলে বিরোধী নেতা-কর্মীরা যেভাবে শারীরিক ও সহিংস হামলার শিকার হতেন, তার তুলনায় এটি নিতান্তই অহিংস এবং জনগণের স্বতঃস্ফূর্ত ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ।
ডিম হামলার এই ধারা শেষ পর্যন্ত গড়িয়েছে বিচার বিভাগ পর্যন্ত। তৃণমূল কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের পক্ষে আইনজীবী দানিশ ফারুকীর দায়ের করা একটি মামলার শুনানিতে কলকাতা হাইকোর্ট রাজ্য সরকারের কাছে প্রতিবেদন তলব করেছে।
হাইকোর্ট রাজ্য সরকারকে নির্দেশ দিয়েছে, নির্বাচনের পর থেকে তৃণমূল নেতাদের লক্ষ্য করে হওয়া প্রতিটি ডিম হামলার ঘটনা এবং এ বিষয়ে কতগুলো এফআইআর নথিভুক্ত হয়েছে, তার বিস্তারিত তথ্য আদালতকে জানাতে হবে।
বিশ্লেষকদের মতে, রাজনৈতিক প্রতিবাদের এই নতুন ধরন পশ্চিমবঙ্গের গণতান্ত্রিক সংস্কৃতি এবং আইনশৃঙ্খলার ওপর কেমন প্রভাব ফেলবে, তা নিয়ে নতুন করে তর্ক-বিতর্ক শুরু হয়েছে। একদিকে এটিকে অহিংস ক্ষোভ প্রকাশ বলে দাবি করা হচ্ছে, অন্যদিকে এটিকে রাজনৈতিক শিষ্টাচার বহির্ভূত ও উস্কানিমূলক হিসেবে দেখছেন অনেকে।