হোম > বিশ্ব > ভারত

এক হিরায় বদলে যাচ্ছে সাত শ্রমিকের জীবন

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­

সদ্য পাওয়া হিরা হাতে খনি শ্রমিক অখিলেশ পাল। ছবি: বিবিসি

ভারতের মধ্যপ্রদেশের পান্না—দেশটির অন্যতম প্রধান হিরা খনি অঞ্চল। দারিদ্র্য, বেকারত্ব ও পানির সংকটে জর্জরিত এই এলাকার সাত দরিদ্র শ্রমিকের জীবনে হঠাৎই নেমে এসেছে দারুণ সৌভাগ্য। খনি থেকে তাঁরা পেয়েছেন ১৭.৯৬ ক্যারেটের একটি বড় হিরা, যার আনুমানিক মূল্য কমপক্ষে ৫০ লাখ রুপি, বাংলাদেশি মুদ্রায় যা ৬৪ লাখ টাকারও বেশি।

পান্নার হিরা কর্মকর্তা রবি প্যাটেল জানিয়েছেন, পাথরটি ‘জেম কোয়ালিটি’ বা রত্নমানের হিরা। সোজা কথা, প্রাকৃতিক হিরার সবচেয়ে উন্নত ধরনের একটি। তিনি এটিকে ‘মূল্যবান’ আখ্যা দিয়ে জানান, আগামী অক্টোবরের প্রথমার্ধে সরকারি নিলামে হিরাটি তোলা হবে। ভারত ও বিদেশের ক্রেতারা সেখানে অংশ নিতে পারেন।

বুধবার (১২ আগস্ট) বিবিসি জানায়, হিরাটি পাওয়া গেছে পান্নার সারোখা গ্রামের একটি খনিতে। প্রায় দুই বছর আগে অল্প টাকায় খনিটি ইজারা নিয়েছিলেন অখিলেশ পাল ও আরও ছয়জন। অখিলেশ জানান, দীর্ঘদিন খনন করেও তারা কোনো হিরা না পাওয়ায় প্রায় এক বছর আগে খনিটি বন্ধ করে দেন। পরে পাশেই নতুন একটি খনি চালু করেন।

গত সোমবার ভারী বৃষ্টির পর নতুন খনিটি পরিদর্শনে গিয়ে পুরোনো খনিটিও দেখতে যান তারা। সেখানেই মাটির ওপর পড়ে থাকা পাথরটি চোখে পড়ে। পরীক্ষা ও ওজনের পর জানা যায়, সেটি ১৭.৯৬ ক্যারেটের একটি হিরা।

পান্নায় হিরা পাওয়া নতুন কোনো ঘটনা নয়। ভারতের অধিকাংশ হিরা মজুত এই মধ্যপ্রদেশেই। তবে এলাকার অধিকাংশ মানুষ দরিদ্র এবং খনি শ্রমিকদের বড় অংশই দৈনিক মজুরিতে কাজ করেন। অনেক ক্ষেত্রে শ্রমিকেরা হিরা খুঁজে পেলেও তার মালিকানা থাকে ইজারাদারের হাতে।

এবারের ঘটনাটি ব্যতিক্রম। সরকারি নিয়ম অনুযায়ী, নিলামে বিক্রির অর্থ থেকে ১২ শতাংশ রয়্যালটি কেটে নেওয়ার পর বাকি অর্থ সাত শ্রমিকের মধ্যে সমান ভাগে ভাগ হবে। এই অর্থ তাঁদের জীবনে বড় পরিবর্তন আনতে পারে। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমকে তিন শ্রমিক জানিয়েছেন, দারিদ্র্যের কারণে এতদিন বিয়ে করতেও পারেননি তাঁরা। হঠাৎ পাওয়া এই সম্পদ এবার তাঁদের জীবনের নতুন অধ্যায়ের সুযোগ করে দিতে পারে।