দিল্লিতে শিক্ষার্থীদের ওপর দমন-পীড়নের ঘটনায় বিরোধীদের তোপের মুখে থাকা ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ আজ বুধবার সংসদে এ নিয়ে বিতর্কের প্রস্তাব দিয়েছেন। তিনি প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, বিতর্কের পর এ বিষয়ে বিস্তারিত বক্তব্য দেবেন। তবে তাঁর এই প্রস্তাব তাৎক্ষণিকভাবে প্রত্যাখ্যান করেছেন লোকসভার বিরোধী দলীয় নেতা রাহুল গান্ধী।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির খবরে বলা হয়েছে, বিষয়টি নিয়ে প্রথমবারের মতো প্রকাশ্যে বক্তব্য দিতে গিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অভিযোগ করেন, শিক্ষার্থীদের বিষয়টি নিয়ে বিতর্ক থেকে বিরোধীরা পালিয়ে বেড়াচ্ছে এবং সংসদের কার্যক্রম ব্যাহত করছে। শাহ বিরোধীদের চ্যালেঞ্জ দিয়ে বলেন, শিক্ষার্থীদের বিষয়টি নিয়ে সংসদে আলোচনা হতে দেওয়া হোক। তিনি আশ্বাস দেন, বিতর্ক শেষে তিনি বিস্তারিত বক্তব্য দেবেন।
অমিত শাহ বলেন, ‘আজ (বুধবার) বিকেল ৩টা থেকে বিতর্ক শুরু করা হোক। আমি হাউসে বসব এবং বৃহস্পতিবার বিকেল ৩টায় বিস্তারিত জবাব দেব।’ বিরোধীদের তাঁর বিরুদ্ধে বিক্ষোভের বিষয়ে এটাই ছিল শাহের প্রথম বক্তব্য।
সব প্রশ্নের উত্তর দিতে তিনি প্রস্তুত রয়েছেন উল্লেখ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শিক্ষার্থীদের ওপর দমন-পীড়নের বিষয়ে তাঁর বক্তব্য দেওয়ার যে দাবি বিরোধীরা জানিয়ে আসছে, তা প্রত্যাখ্যান করেন। শাহ বলেন, গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সংসদে আলোচনা করার নির্দিষ্ট নিয়ম রয়েছে এবং বিরোধীরা নিজেদের শর্ত চাপিয়ে দিতে পারে না। শাহ বলেন, ‘সংসদে আলোচনা করার নিয়ম রয়েছে। এত গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়ে আমি শুধু একটি বিবৃতি দিয়ে দিতে পারি না। বিতর্ক হতে দিন, আমি বিস্তারিত জবাব দেব।’
বিরোধীরা তাঁকে উদ্দেশ করে ‘ভাগোড়া’ বা পালিয়ে বেড়ানো ও ‘লাপাতা’ বা উধাও–এর মতো শব্দ ব্যবহার করায় আপত্তি জানিয়ে শাহ পাল্টা চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দেন। তিনি বিকেল ৩টা পর্যন্ত বিরোধীদের সময় দেন বিতর্ক শুরু করার জন্য এবং বলেন, সেখানে তিনি ‘সব প্রশ্নের জবাব দেবেন।’
সংসদ এড়িয়ে চলার বিরোধীদের অভিযোগও প্রত্যাখ্যান করেন শাহ। তিনি বলেন, তিনি প্রতিদিনই সংসদে আসেন। শাহ বলেন, ‘আমি প্রতিদিন আমার চেম্বারে থাকি। কিন্তু বিরোধীরা সংসদের কার্যক্রম চলতে দিচ্ছে না বলে আমি হাউসের ভেতরে যেতে পারি না।’
গত ২০ জুলাই দিল্লিতে বিক্ষোভরত শিক্ষার্থীদের ওপর লাঠিচার্জের ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিরোধীরা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে নিশানা করে আসছে। লোকসভার বিরোধী দলীয় নেতা রাহুল গান্ধী অমিত শাহের বিরুদ্ধে সরাসরি আক্রমণাত্মক অবস্থান নিয়েছেন। তিনি দাবি করে আসছেন, শিক্ষার্থীদের মারধর এবং বিক্ষোভকারীদের ওপর পেলেট গান ব্যবহারের নির্দেশ কে দিয়েছিল, সে বিষয়ে সংসদে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে বক্তব্য দিতে হবে।
শাহ বিতর্কের চ্যালেঞ্জ জানানোর কয়েক মিনিটের মধ্যেই রাহুল গান্ধী তা প্রত্যাখ্যান করেন। তিনি বলেন, দেশের তরুণরা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ‘কথা শুনতে চায় না’ এবং অমিত শাহের পদত্যাগ করা উচিত। অমিত শাহের বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় রাহুল গান্ধী বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের ওপর গুলি চালানোর নির্দেশ কে দিয়েছিল? দিল্লি পুলিশ ও র্যাপিড অ্যাকশন ফোর্স (আরএএফ) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীনে। অমিত শাহ কি সেই নির্দেশ দিয়েছিলেন? যদি দিয়ে থাকেন, তাহলে তিনি দায়ী। আর যদি না দিয়ে থাকেন, তাহলে তিনি অযোগ্য। দুই ক্ষেত্রেই তাঁর পদত্যাগ করা উচিত।’
তিনি আরও বলেন, সরকারের কাছে কোনো জবাব নেই এবং তারা ‘ভীত।’