কোমল পানীয় শিশুদের জন্য ক্ষতিকর। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের এই সতর্কবাণী এখন সবাই জানে। তবু হাত বাড়ালেই যেকোনো দোকানে এখন কোমল পানীয় পাওয়া যায়। তাই এসব পানীয় থেকে শিশুদের দূরে রাখা খুব কঠিন হয়ে পড়েছে।
এ অবস্থায় এক কঠোর পদক্ষেপ নিল ভারতের মহারাষ্ট্রের কলাপুর জেলার কয়েকটি গ্রাম।
মঙ্গলবার হিন্দুস্থান টাইমসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গ্রামগুলোর মাসিক সভায় দোকানে কোমল পানীয় বিক্রি পুরোপুরি নিষিদ্ধ করে দিয়েছেন মুরব্বিরা।
জানা যায়, কোমল পানীয় নিষিদ্ধের সিদ্ধান্তটি সবার আগে নেয় জেলার নাভি পারগাঁও ও জুন পারগাঁও নামের দুটি গ্রাম। গত ৫ মে অনুষ্ঠিত গ্রাম দুটির মাসিক সভায় ওই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। পরে একে একে সাংগ্রুল, হারলি ও বাহি নামে আরও কয়েকটি গ্রাম একই ধরনের সিদ্ধান্ত নেয়।
সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে কোনো দোকানে যদি কোমল পানীয় বিক্রির ঘটনা ঘটে, তবে ওই দোকানের মালিকের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এ বিষয়ে নাভি গ্রামের বাসিন্দা বর্ষা রানী দেশমুখ জানান, গ্রীষ্মকালীন ছুটিতে ১৩ / ১৪ বছর বয়সী শিশুদের মধ্যে কোমল পানীয় খাওয়ার প্রবণতা বেড়ে গিয়েছিল। প্রত্যেকেই গড়ে একটি কিংবা দুটি করে কোমল পানীয় পান করছিল। শিশুদের কাছে এসব পানীয় বিক্রির বিষয়ে দোকানিদের আগে নিষেধ করলেও তাঁরা মানছিলেন না।
চিকিৎসা বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, ভারতের বিভিন্ন অঞ্চলে যেসব কোমল পানীয় বিক্রি হয়, সেগুলোর একেকটি বোতলে অন্তত ১০ চামচ চিনি ব্যবহার করা হয়। অথচ ২৪ ঘণ্টার মধ্যে একজন ব্যক্তির সর্বোচ্চ ৬ থেকে ৭ চামচ চিনি গ্রহণ করা নিরাপদ। এ ছাড়া পানীয়গুলোতে যে পরিমাণ ক্যাফেইন থাকে, সেই পরিমাণ ক্যাফেইন ৬ থেকে ৮ কাপ কফিতে থাকে।
এসব উপাদান শিশুদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশকে বাধাগ্রস্ত করে। শুধু তাই নয়, ক্যাফেইনের মতো উপাদান শিশুদের মাঝে আসক্তিরও উদ্রেক করে।